শেষের পাতা

প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন হবিগঞ্জের উচাইল শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদ

ফিরুজুল ইসলাম চৌধুরী, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০২০ ইং ০২:৩৭:২৯ | সংবাদটি ১১৫ বার পঠিত
Image

 সিলেট বিভাগে ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত ও প্রাচীন স্থাপত্য সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ জেলা। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে অবস্থিত উচাইল শংকরপাশা শাহী জামে মসজিদ। হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত পঞ্চদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন স্থাপত্যের একটি প্রাচীন মসজিদ।
এই মসজিদ গাত্রে উৎকীর্ণ শিলালিপির তথ্যে জানা যায়, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজলিশ আমিন ১৫১৩ সালে এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এ মসজিদের পাশেই তার সমাধি রয়েছে। কালের বিবর্তনে এক সময় মসজিদ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা ঘণ অরণ্য ভূমিতে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে জঙ্গলবেষ্টিত এ এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠার প্রাক্কালে আবারও জনসম্মুখে আসে এ মসজিদটি।
তথ্যে জানা যায়, এ মসজিদ ভবনটি একটি একচালা ভবন, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই পরিমাপের। যার দৈর্ঘ্য সাড়ে ২১ ফুট আবার প্রস্থও ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি। এর সম্মুখের বারান্দাটির প্রস্থ তিন ফুটের একটু বেশি এবং এতে চারটি গম্বুজ রয়েছে। এই মূল ভবনের মধ্যভাগে একটি বিশাল গম্বুজ এবং বারান্দার উপর রয়েছে-তিনটি ছোট গম্বুজ। মসজিদটিতে মোট ১৫টি দরজা ও জানালা রয়েছে-যা পরস্পর একই আকৃতির। উত্তর পূর্ব ও দক্ষিণ, এই তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় পাঁচ ফুট এবং পশ্চিমের দেয়ালটি প্রায় দশ ফুট। এতে মোট ছয়টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ রয়েছে। প্রধান কক্ষের চারকোণে ও বারান্দার দুই কোণে অবস্থিত। উপরের ছাদ আর প্রধান প্রাচীরের কার্নিশ ধনুক আকৃতির বাঁকানোভাবে নির্মিত। মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি বড় দীঘি রয়েছে। মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন হবিগঞ্জের উচাইল শংকরপাশা শাহী মসজিদ। মসজিদটি সুলতানি আমলের স্থাপত্য নিদর্শনের চিহ্ন বহন করে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার অন্তর্গত উচাইল নামক গ্রামে ছোট্ট একটি টিলার উপর প্রায় ৬ একর ভূমির ওপর কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।
জানা যায়, অত্যন্ত চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর কারুকাজ সমৃদ্ধ মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দেখার মতো। পোড়া মাটির তৈরি নান্দনিক কারুকার্য ও অসাধারণ নির্মাণশৈলী আধুনিকতাকে হার মানায়। এ সমস্ত পোড়া মাটির নক্সা কাটা ফলক ইমারতের দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে। দেয়ালের বহিরাংশে পোড়া মাটির বিভিন্ন নকশা এবং অলঙ্করণ সহজেই দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পোড়া মাটির নক্সা আঁকা মসজিদটি দৃশ্যত লাল বা রক্তিম বর্ণের হওয়ায় লোকজন এটিকে ‘লাল মসজিদ’ বলে থাকেন। আবার এটির অবস্থান একটি টিলাশৃঙ্গে। এ দুই বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে মসজিদটিকে ‘লালটিলা মসজিদ’ও বলা হয়। এ মসজিদটি পুনঃআবির্ভূত হওয়ায় অনেকেই এটিকে গায়েবি মসজিদও বলে থাকেন। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রাচীন এ মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের হাতে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাখাওয়াত হোসেন রুবেল জানান, ইতোমধ্যে এ মসজিদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত মসজিদটি সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেট আসছেন আজ
  • ছাতকে পূজা ঘিরে সরব পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা
  • ৮ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ
  • শ্রীমঙ্গল চা বাগান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার
  • র‌্যাবের অভিযানে জুয়াড়ি ও মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার
  • আইনজীবী স্বামীর নির্যাতনে শিশু কন্যা নিয়ে অসহায় মনোয়ারা
  • বানিয়াচংয়ের শুঁটকি সেতু মেরামতের জন্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ
  • নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা
  • মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত
  • ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত সুস্থ ৪২ জন ও মৃত্যু একজনের
  • দুই বোনের বাড়ি প্রবেশ নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
  • সিলেট দায়রা জজ আদালতে স্থায়ী সিলেটিদের নিয়োগের দাবিতে ১০৬ আইনজীবীর তলবী সভার উদ্যোগ
  • ছাতকে ৭ ডাকাত গ্রেফতার মালামাল উদ্ধার
  • মৌলভীবাজারে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীর আত্মসমর্পণ
  • সিলেটে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৬ জুয়াড়িসহ গ্রেফতার ৯
  • বিয়ানীবাজারে মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
  • ‘বৃহত্তর জন্তৈার প্রতটিি উপজলো সদরকে পৌরসভায় রূপান্তর করতে হব’
  • জকিগঞ্জে ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের এক কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন
  • ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন
  • মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT