সম্পাদকীয় মানুষ যা লাভ করেছে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সুন্দর স্বভাব। -আল হাদিস

প্রসঙ্গ: ডাক্তারের ফি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০২০ ইং ০২:৪১:০১ | সংবাদটি ১৭৮ বার পঠিত
Image

ডাক্তারের ফি ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে রীতিমতো অরাজকতা চলছে। রোগী দেখার ফি নেয়ার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির বালাই নেই। সর্বনিম্ন পাঁচ ছয়শ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্তও রোগী প্রতি ফি নিচ্ছেন চিকিৎসকগণ। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের জন্য রোগী দেখার ফি’র কোন হার নির্ধারণ করে না দেওয়ায় যে যার খুশীমতো ফি নিয়ে থাকেন। এ ব্যাপারে সরকার মাঝে মধ্যে নড়েচড়ে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোন ফল আসে না। অর্থাৎ চিকিৎসা ফি নির্ধারণের জন্য উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। বছর তিনেক আগে গৃহীত এই ধরনের একটি উদ্যোগ চিকিৎসকদের বাঁধার মুখে আটকে আছে।
সত্যি বলতে কি, ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার ক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতির মধ্যেই থাকতে চান না চিকিৎসকরা। রোগীপ্রতি সময় ও ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেঁধে দেয়া কোন নির্দেশনাও মানতে নারাজ তারা। স্মরণ করা যেতে পারে, বছর তিনেক আগে চিকিৎসকদের ফি পুননির্ধারণ করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ‘বেসরকারি চিকিৎসা সেবা আইন’ ২০১৬ নামে একটি আইনের খসড়াও তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়- অফিস সময়ে কোন চিকিৎসক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। এই আইন না মানলে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদন্ড দেয়া হবে। এই আইনে চিকিৎসকরা সরকার নির্ধারিত ফি’র তালিকা চেম্বারের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য থাকবেন। আদায় করা ফি বাবদ রোগীকে রসিদ দিতে হবে। এই আইন কার্যকর হলে বর্তমানে প্রচলিত ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস এন্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৯২’ বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু সরকারের উল্লিখিত নতুন আইনটির ব্যাপারে চিকিৎসক সমাজ রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে কোন ডাক্তার কোন রোগীকে জোর করে ধরে আনেন না। যোগ্যতা অনুযায়ী ফি নেন চিকিৎসকরা। যদিও বাস্তবের সঙ্গে চিকিৎসকদের এই সব কথার কোন মিল পাওয়া যায় না। যদি যোগ্যতা অনুযায়ী চিকিৎসকেরা ফি নিয়ে থাকেন, তবে কোন যোগ্যতায় কতো টাকা ফি হবে সেটাওতো বিবেচনার বিষয়। দেখা গেছে, একই যোগ্যতার চিকিৎসক একেকজন একেক ফি নিচ্ছেন। তাছাড়া, যোগ্যতা অনুযায়ী কোন চিকিৎসকের ফি কি দুই হাজার টাকা হতে পারে? অন্তত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই হার তো বিস্ময়কর।
আসল কথা হলো, মানবিক মূল্যবোধটুকু বিসর্জন না দিলে যেকোন পেশার লোকই নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করাকে পবিত্র কাজ হিসেবেই মনে করবে। চিকিৎসা সেবামূলক পেশা। আর রোগীরা রোগে কাবু হলে বাধ্য হয়েই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। অথচ তারা সরকারি হাসপাতালে যেমন প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না, তেমনি প্রাইভেট চেম্বার বা ক্লিনিকেও তারা কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করার পর যথাযথ সেবা পাচ্ছে না অনেক সময়। অভিযোগ হচ্ছে, বেশির ভাগ চিকিৎসকেরই উদ্দেশ্য থাকে রোগী সেবা নয়, অর্থ উপার্জন। এই প্রেক্ষাপটে অন্তত প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ফি নির্ধারণ করে দিয়ে ডাক্তারদের আগ্রাসী মনোবৃত্তি কিছুটা হলেও প্রশমিত করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকদের শ্রেণী বিন্যাস করে ফি নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বের বহু দেশেই এমন নজির রয়েছে।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT