লেখক : কলামিস্ট।

'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

মা-বাবার সাথে থাকি

মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০২০ ইং ০২:৪৩:৪০ | সংবাদটি ১৪৮ বার পঠিত
Image

প্রাণীকূলের শ্রেষ্ঠ প্রাণ হলো মনুষ্য প্রাণ। এই মানুষ জন্মের পর থেকে মায়ের কোলে বাবার ছায়ায় ও মায়ায় পরিবারে থাকে। মানুষ থাকে পরিবারের অন্যান্য সুজনদের সাথে। মানুষ ধীরে ধীরে মা-বাবার মায়া আর শাসনে বড়ো হয়ে উঠে। কথা বলা শিখে, খেতে শিখে, হাঁটতে শিখে এবং একসময় দৌড়াতে শিখে। বড়ো হতে হতে অক্ষর চিনে, লেখাপড়া শিখে আর মা-বাবার হাত ধরে বিদ্যালয়ে যায়। কষ্ট পেলে মায়ের কাছে বলে। বাবার কাছে খেলনা চায় চকলেট চায় এবং বাবার সাথে বাইরে ঘুরতে যেতে চায়। মা-বাবা ছোট্ট মানুষটিকে ঘরে যেমন দেখে রাখেন; তেমনি ঘরের বাহিরে সামনের বাগানে, পার্কে, মেলায়, খেলায়, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় নিয়ে যান সাথে করে। ছোট্ট মানুষটিও আনন্দ বেদনায় মা-বাবার সাথেই থাকে।
ছোট্ট শিশু মানুষটি মা-বাবার আদরে ও শাসনে বড়ো হতে হতে একসময় বিদ্যালয়ের বড়ো শ্রেণিতে উঠে এবং তখন আর মা কিংবা বাবা কারো সাথে সে বিদ্যালয়ে যায় না। সেই ছোট্ট মানুষটি বড়ো হয়েছে, এখন বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের পথ সে চিনেছে। তাই মানুষটি এখন একা একাই বিদ্যালয়ে যায়। শিক্ষক যখন জানতে চান, তুমি বাসায় কার সাথে থাকো? সে তখন বলে, স্যার আমি আমার মা-বাবার সাথে থাকি। বড়ো হয়েছে, তাই সেই ছোট্ট মানুষটির এখন মা-বাবা ছাড়াও কয়েকজন বন্ধু হয়েছে এবং বিকেলে বন্ধুদের সাথে খেলতে এখন আর মা বা বাবাকে যেতে হয় না; বরং এখন সে নিজেই পাশের খেলার মাঠে যায়। এখন সে আর বাবার সাথে খেলে না; এখন সে বন্ধুদের সাথে মাঠে ক্রিকেট খেলে, ফুটবল খেলে। খেলা শেষে বাসায় ফিরতে পথে কেউ যদি জানতে চায়, বাবু তুমি কোথায় থাকো বা কার সাথে থাকো? তখন সেই ছোটো মানুষটি জবাব দেয়, আমি আমার মা-বাবার সাথে বাসায় থাকি। হ্যাঁ, এভাবেই আমরা মা-বাবার সাথেই থাকি।
সময়ে ছোট্ট শিশুটি আর ছোটো থাকে না। সে অনেককিছু দেখে আর শিখে বড়ো হতে থাকে। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে দিন মাস এবং অনেকগুলো বছর পরে একসময় মা ও বাবা বেঁচে থাকলে বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ার কারণে আগের মতো আর চলতে বা কথা বলতে পারেন না। বয়সের কারণে মা-বাবার শারীরিক ও মানসিক শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অনেক রকম অসুখেও তারা ভোগেন। তখন ওই বয়স্ক মা বা বাবাকে ডাক্তার দেখানো বা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায় মা-বাবার সাথে হেসে খেলে বড়ো হওয়া সেই ছোট্ট শিশু মানুষটি; যে এখন আর ছোটো নয়; বরং মাশাআল্লাহ অনেক বড়ো। মা ও বাবা বয়োবৃদ্ধ হলে তাদেরকে তাদের ছেলে বা মেয়ে খেয়াল রাখে, দেখে রাখে, তাদের সাথে কথা বলে তাদেরকে ভালো রাখে। তখন হয়তো কোথাও কোনো আপনজন বড়ো হয়ে উঠা সেই ছোট্ট মানুষটিকে প্রশ্ন করে, কি খবর কেমন আছো? তোমার মা-বাবা কার সাথে থাকেন? তোমার সাথে বুঝি? তখন আমাদের অধিকাংশের জবাব হয়: হ্যাঁ, মা-বাবা আমার সাথেই থাকেন। কিন্তু আমি চিন্তা করে দেখলাম, এখন এভাবে বলার অভ্যাস পাল্টাতে হবে। এভাবে বলা নিষ্ঠুরতার মতো কানে বাজে। তাহলে কি বলবো?
আমি মনে করি পুরনো কিছু নেতিবাচক কথা বলার অভ্যাস থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রথমেই আমরা যারা প্রশ্ন করি, তোমার বা আপনার মা-বাবা কি আপনার সাথে থাকেন? তাদেরকে সতর্ক হতে হবে। এমন প্রশ্ন করা যাবে না। এমন প্রশ্ন নেতিবাচক। বলতে হবে, আপনি নিশ্চয়ই মা-বাবার সাথে থাকেন? এধরনের প্রশ্ন হলো সন্তান ও পিতা-মাতার চিরকালীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমাদের এ অঞ্চলে একটি নিয়ম চলে এসেছে মা-বাবা বৃদ্ধ হলে তাঁরা মেয়েদের কাছে নয়; বরং ছেলেদের তত্বাবধানে থাকবেন। আমি মনে করি এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়; শুধু ছেলে নয়; বরং ছেলে বা মেয়ে উভয়েরই দায়িত্ব মা-বাবার খেয়াল রাখা। মা অথবা বাবা বৃদ্ধ হলেও তাঁরা-ই ছায়া। অতএব, তাঁরা আমাদের সাথে নয়; বরং আমরা সবসময় মা-বাবার সাথেই থাকি। একাধিক সন্তান পৃথক থাকলে মা-বাবা নিশ্চয়ই কোনো একজনের কাছে থাকবেন। তখন অন্য সন্তান মনে রাখবেন, আমাদের বাবা-মায়ের সাথে বড়োভাই বা ছোটোভাই কিংবা বোন থাকেন, আমি নিয়মিত আসা-যাওয়া করি এবং খোঁজ রাখি। একটু গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখুন, যদি উপলব্ধিতে আসে, তখন বুঝতে পারবেন, 'আমি মা-বাবার সাথে থাকি' কথাটি বলতে পারায় মন ভরে যাবে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT