শেষের পাতা রাজনগরে ‘ঘাসুড়িয়া’ ইসমাইল

ঘাস বিক্রি করে চলে জীবনের চাকা

রাজনগর(মৌলভীবাজার) থেকে আব্দুল আজিজ ঃ প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-০৯-২০২০ ইং ০২:০৮:০৯ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত
Image

রাজনগরের দক্ষিণ টেংরা গ্রামের ইসমাইল মিয়ার অভাবের সংসারে ছিল নিত্য হাহাকার। নদীভাঙ্গনে নিঃস্ব ইসমাইল মিয়ার ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। কোন উপায় না পেয়ে শুরু করেন ঘাস বিক্রি। হাওর থেকে ঘাস ক্রয় করে এনে বিক্রি করেন উপজেলা সদরে। এখন ঘাস বিক্রির টাকায় তার পরিবার চলার পাশাপাশি আরো অনেকে এসেছেন এই ব্যবসায়। সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি এখন ঘাসুড়িয়া ইসমাইল নামে পরিচিত।
জানা য়ায়, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মনু কুলের একামধু গ্রামে ছিল ইসমাইল মিয়ার বসবাস। এক সময় তার সবই ছিলো। সাজানো গুছানো বাড়ি ঘর। ক্ষেত খামারের আয় রোজগারেই জীবন চলত তার। কিন্তু অব্যাহত নদী ভাঙ্গন তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কয়েক বছরেই নিঃস্ব হয়ে যান তিনি। পরিবার পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে আসেন একই ইউনিয়নের দক্ষিণটেংরা গ্রামে। এখানে একটি ভাড়া বাড়িতে বউ বাচ্চা নিয়েই এখন বসবাস করছেন। সংসার চালাতে জীবিকার সন্ধান করেন তিনি। অবশেষে স্বল্প পুঁিজ বিনিয়োগ করে গবাদিপশুর খাদ্য ঘাস আর জগাধান(বিশেষ ধরনের ঘাস) বিক্রি করেই চলে তার জীবন।
রাজনগর টেংরাবাজার শহীদ সুদর্শন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে গবাদিপশুর ঘাস বিক্রি করেন ইসমাইল। এসময় তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিন গবাদিপশুর এসব ঘাস হাওর থেকে কিনে নিয়ে আসেন। গাঢ় সবুজ রঙ্গের ছোট ছোট আঁিট। একেক আঁটি ঘাস ১০ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি হয়। মাঝে কিছু ভালো দাম পাচ্ছিলেন। তবে তার দেখাদেখি আরো ক‘জন এ পেশায় এগিয়ে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন প্রতি আঁটি ১০ টাকাতেই বিক্রি করতে হয় বলে জানান তিনি।
জগাধান এর কথা বলতে গিয়ে তিনি জানালেন, চাষিরা হাওরে এসব ধান চাষ করে। এ পর্যন্ত তিনবার এ ধান কাঁটা হয়েছে। আবারো ধানের গোড়া থেকে পাতা গজাবে। এ জগাধান বারো মাসই কিনতে পাওয়া যায়। তবে হাওরের ঘাসে রয়েছে অনেক কদর। পৌষ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত মিলে এসব ঘাস।
এদিকে, বিক্রির বর্তমান অবস্থা নিম্নমুখী বলে জানান তিনি। নির্দিষ্ট কিছু গো-খামারিরা এক সময় তার কাছ থেকে নিয়মিত ঘাস কিনে নিতেন। এতে একটু লাভ বেশী ছিলো, কষ্টও ছিলো কম। সম্প্রতি এসব খামারিরা না আসাতে সারাদিন বসেই কাঁটাতে হয়। তবে প্রতিদিন দুই থেকে তিনশো আঁটি বিক্রি হয়। দিন শেষে চার পাঁচশো টাকা আয় থাকে বলে জানান তিনি।
পরিবারের কথা জানতে গেলে কিছুটা উৎফুল্ল চিত্রে জানান, এই আয় দিয়েই কোন মতে পরিবারের মুখে খাবার জুটছে। ঘাস বিক্রির টাকার আয় দিয়েই দু‘মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে এক ছেলে শরীফ। আর ছোট ছেলে আরফিন পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। তিনি বলেন, হাওর থেকে ঘাস ক্রয় করে আনতে লাগে গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ। তাই ব্যবসা চালিয়ে যেতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • যেহীন আহমদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • কমলগঞ্জে কিশোরীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ
  • মঈনুদ্দিন জালাল জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন
  • সরকারের মুখে নীতি-নৈতিকতার বাণী মানায় না
  • টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নারীদেরকে অগ্রসর করতে হবে :: এম কাজী এমদাদুল ইসলাম
  • ৪৬ জন আক্রান্তের দিনে সুস্থ ২২ জন
  • পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তালামীযের র‌্যালি কাল
  • হবিগঞ্জে পুলিশকে পিটিয়ে আসামির পলায়ন
  • ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর তথ্য : গ্রেফতার ৩
  • কোম্পানীগঞ্জের ‘মরা ধলাই’ খাল নোটিশেও সরছে না অবৈধ স্থাপনা
  • ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারী নারীর মৃত্যু
  • বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের রক্তে ভেজা ধলই সীমান্ত
  • প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেট আসছেন আজ
  • ছাতকে পূজা ঘিরে সরব পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা
  • ৮ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ
  • শ্রীমঙ্গল চা বাগান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার
  • র‌্যাবের অভিযানে জুয়াড়ি ও মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার
  • আইনজীবী স্বামীর নির্যাতনে শিশু কন্যা নিয়ে অসহায় মনোয়ারা
  • বানিয়াচংয়ের শুঁটকি সেতু মেরামতের জন্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ
  • নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT