প্রথম পাতা ভোক্তা অধিকারের জরিমানা ৩১ হাজার টাকা

সিলেটে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক, দাম নিম্নমুখী

ছাদেক আহমদ আজাদ প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৯-২০২০ ইং ০১:৪০:৩৯ | সংবাদটি ১৮৭ বার পঠিত
Image

সিলেটের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসায় দামও কমতির দিকে। ক্রেতাহীন বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা অনেকটা অলস সময় পার করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল পাইকারি বাজারে এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা। ক্ষেত্রবিশেষ (পচনধরা পেঁয়াজ) মূল্য কিছুটা কমে ৫২-৫৩ টাকায়ও পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে। নগরীর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকায় পৌঁছলেও কয়েক ঘন্টার মধ্যে গতকাল শনিবার তা আগের মূল্য ৯০ এবং এলসি পেঁয়াজ কিছুটা কমে ৫৮-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টিসিবি’র ন্যায্যমূলের পণ্য বাজারে অনেকটা প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গতকাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট নগরীতে অভিযান চালিয়ে চড়া দরে পণ্য বিক্রি করায় ৭ প্রতিষ্ঠানকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিলেটের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম জরিমানার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এজন্য ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও আতংকের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, জরিমানা কত করা হলো তা বড় কথা নয়। এক দোকানে জরিমানা হলে এ খবর শত শত প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সবাই সতর্ক ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির চেষ্টা করে বলে তার মন্তব্য।
গতকাল শনিবার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজে গড়ে ৫ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কমেছে ২-৩ টাকা। এবার সরকার বাজার মনিটরিং জোরদার করায় পেঁয়াজ বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকটা ভীতি কাজ করছে।
জানা গেছে, পেঁয়াজ বিক্রি আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ নীচে নেমেছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজ পচে যাওয়ার ভয়ে বিক্রিতারাও মজুদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আব্দুদ দাইয়ান নামের জনৈক স্কুল শিক্ষক বলেন, পেঁয়াজ নিত্যপণ্য হলেও আমাদের কাছে এখন বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে বাজার তালিকার শীর্ষে থাকলেও এখন সবার শেষে পেঁয়াজের স্থান হয়েছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ছে না কমছে; এনিয়ে মাথাব্যথা নেই। করোনাকালের এ দুঃসময়ে আমরা সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ ক্রয় করি।
কালিঘাট পাইকারি বাজারের আড়তদার খালেদ হোসেন সিলেটের ডাক’কে জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর সিলেটে পেঁয়াজের বেচাকেনা এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। যেখানে আমরা দৈনিক দেড়শ’ থেকে দুই শত বস্তা পাইকারি বিক্রি করতাম, আজ (শনিবার) সেখানে বিক্রি করেছি মাত্র ৫০ বস্তা। বাজারের ওপর ‘শনির দশা’র প্রভাব পড়ায় এ ব্যবসায়ী রীতিমতো হতাশা ব্যক্ত করেন।
একই বাজারের পাইকারি আড়তদার শরিফ হোসেন জানান, ভারতের পেঁয়াজ দেশে ঢোকায়য় বাজারদর একটু হলেও পড়তে শুরু করেছে। তিনি জানান, গতকাল শনিবার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি এলসি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫৫ টাকা। একই পেঁয়াজ কেজিতে ২-৩ টাকা কমে বিক্রি হলেও সেটির মান তেমন ভালো নয়। পেঁয়াজের পড়তি বাজার আরো কয়েকদিন নি¤œমুখী থাকার সম্ভাবনার কথা জানালেন এ আড়তদার।
নগরীর ব্রক্ষময়ী বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজের দাম বাড়লে সাধারণত মানুষ বেশি বেশি পেঁয়াজ কিনে। আবার, দাম কমলে আরো কমার জন্য অপেক্ষা করে। এজন্য গত দু’দিন থেকে পেঁয়াজ বিক্রি নেই বললেই চলে। তিনি জানান, পেঁয়াজের দাম কেজিতে গড়ে ২-৩ থেকে কমলেও মানুষের দেখা মিলছে না। এ অবস্থা আরো কিছুদিন থাকলে ব্যবসা ‘লাঠে’ উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) সপ্তাহে সাত দিন প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০, চিনি ৫০, মশুর ডাল ৫০ ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এতে প্রত্যেক ভোক্তা পাচ্ছেন দু’কেজি করে পেঁয়াজ, চিনি, মশুর ডাল এবং ৫ লিটার তেল। পেঁয়াজের পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারে টিসিবি’র সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. ইসমাইল মজুমদার বলেন, ভোক্তাদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরাও আজ (রোববার) থেকে প্রতি ট্রাকে ২শ’ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৪শ’ কেজি পেঁয়াজ সরবরাহ করবো। আগামীতেও চাহিদার সাথে মিল রেখে সব পণ্য বাড়ানোর চিন্তা করা হবে।
গতকাল শুক্রবার নগরীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজ এলসি বড় ৫৮ ও ছোট ৬২ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা থেকে কমে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শুকনো মরিচ ২৪০, রসুন দেশি ছোট ৭০ ও বড় ৮০, দেশি আদা ১৪০-১৫০, চায়না ৩২০, আলু বড় ৩৪-৩৫ টাকা ও ছোট ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবক’টি সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও দু’একটি দাম কিছুটা বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০, গাজর ৬০-৭০, টমেটো ৯০-১০০, শশা ৬০, ঢেঁড়স ৪০, ঝিংগা ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, কাকরোল ৪০, পেঁপে ২৫, মুকি ২৫-৪০, লতা বেগুন ৪০, পটল ৫০, বরবটি ৫০, মূলা ৩৫, বাঁধাকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।


শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • পলাতক আকবরকে গ্রেফতারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে
  • করোনাভাইরাস: স্ত্রীর মৃত্যুর একদিন পর চলে গেলেন ‘নিকুঞ্জ স্যার’
  • দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের ইন্তেকাল: আজ জানাজা
  • দুদকের সাবেক কমিশনার কুলাউড়ার মনিরুদ্দিনের ইন্তেকাল : বনানী কবরস্থানে দাফন
  • কাউন্সিলর পদ হারালেন ইরফান সেলিম
  • এমপি আবু জাহির করোনায় আক্রান্ত
  • সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত হবে প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চতর ডিগ্রি
  • সপ্তাহের শেষে সিলেটসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
  • রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরেছেন
  • মহানবী (সাঃ) এর অবমাননা মুসলমানরা বরদাস্ত করবে না
  • ‘করোনাভাইরাসের সময় এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের’
  • বিদেশগামীদের জন্য সিলেটে আলাদা আরেকটি কোভিড ল্যাব স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা চলছে
  • প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
  • মৌলভীবাজারে মোটর সাইকেল চোরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
  • বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. তাহিরের ইন্তেকাল
  • জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদিরের ইন্তেকাল
  • ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি কম পেতে পারেন গ্রাহকেরা
  • রহস্যের জট খুলতে পারে চলতি সপ্তাহে!
  • ইরফান সেলিমের টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব
  • ‘ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে রাসূলের (সা.) অবমাননায় চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে’
  • Image

    Developed by:Sparkle IT