সম্পাদকীয় খাদ্যের অভাবে কোন জাতি মরে না, তার যথার্থ মৃত্যু ঘটে আনন্দের অভাবে। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বন্ধ হচ্ছে না মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৯-২০২০ ইং ০২:৫৯:০৭ | সংবাদটি ৯২ বার পঠিত
Image

বন্ধ হচ্ছে না মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি। পরিবেশ সুরক্ষা তথা ফসলি জমি রক্ষায় সনাতন পদ্ধতিতে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২৫ সালের মধ্যে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কিভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই এখন পর্যন্ত। ইটের বিকল্প হিসেবে সিমেন্ট বালির তৈরি ব্লক ব্যবহারের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। চলতি অর্থ বছর থেকে শুরু করে প্রতি বছর দশ শতাংশ ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার কমিয়ে আনতে চায় সরকার। সেই হিসেবে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইট পোড়ানোর মওসুম সন্নিকটে। শুরু হবে ইট পোড়ানোর ধুম। ইট তৈরি হচ্ছে সনাতন পদ্ধতির সেই মাটি পুড়িয়ে। সরকার এই পদ্ধতিতে ইট তৈরি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ইটের ভাটা স্থাপনের জন্য নতুন কোন লাইসেন্সও দেয়া হচ্ছে না। অথচ পুরাতন ইটের ভাটাগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না। ইটের ভাটা রয়েছে সাত হাজারের বেশি। এতে পোড়ানো হয় দেড় হাজার কোটির বেশি ইট। এতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০ হাজার লাখ টন কাট এবং সমপরিমাণ কয়লা। আর এই কাঠ ও কয়লা পোড়ানোর ফলে ৯০ লাখ টনের বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস তৈরি হয়। যার মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রে। অপর দিকে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরি করায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জমির উর্বরতা কমছে। এই প্রেক্ষিতে ইটের উৎপান ক্রমান্বয়ে কমিয়ে ইটের বিকল্প ব্লক তৈরির দিকে মনোনিবেশ করতে চায় সরকার। তাই ২০২৫ সালের মধ্যে ইটের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। অথচ বিদ্যমান ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেই। লাইসেন্স ছাড়াই ব্লক তৈরির কারখানা স্থাপনের সুযোগ দেয়া হলেও সেভাবে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছে না। এ ব্যাপারে সরকারের তেমন প্রচারণাও নেই।
জানা গেছে, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশই সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরি বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন করেছে ২০১৩ সালে। ২০১৯ সালে এই আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীও আনা হয়েছে। সংশোধনকৃত আইনে ইটের বিকল্প হিসেবে ব্লক তৈরির কারখানাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইটের বিকল্প কংক্রিট ব্লক সাশ্রয়ী টেকসই এবং পরিবেশ বান্ধব বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই ব্লক যাতে দামে আরও সাশ্রয়ী হয়, সেই লক্ষে চলছে গবেষণা। সনাতন পদ্ধতির ইট তৈরি শতভাগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে প্রচারণা নেই বললেই চলে। বরং সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে। এই স্ববিরোধী অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সরকারকে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT