শেষের পাতা

ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৯-২০২০ ইং ০১:৪৫:৪১ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত
Image

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা.দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চলের মৃত্যু বার্ষিকী আজ মঙ্গলবার । তিনি ১৯৮৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ডা.দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল ১৯৩৯ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়াবহর নোয়াটিলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দেওয়ান ইসহাক আলী, মাতা-দেওয়ান কুলসুম বেগম, তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। ডা. দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। তিনি আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ নির্লোভ-নির্মোহ-স্পষ্টবাদী ছিলেন।
৫০ এর দশকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ এর ৬ দফা ও ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে স্বাধীনতার চেতনা-সে সময় সিলেটের ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন তার দায়বদ্ধতা আছে দেশ-মাটি- মানুষের কাছে । দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দায়বদ্ধতা এড়ানোর কোন সুযোগ নেই কারোরই।
১৯৭০ সালের গণপরিষদ নির্বাচনে তিনি কর্ণেল ওসমানীর পক্ষে দিনরাত কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের দিনগুলোতে সিলেটে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনায় সিলেটের কৃতি সন্তান মুক্তি বাহিনী প্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম.এ.জি ওসমানী, প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রাক্তন মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী, আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, এম.এ রহিম, সৈয়দ আবু নসর অ্যাডভোকেট, আ ন ম শফিকুল হক, ইফতেখার হোসেন শামীম, সিরাজ উদ্দীন আহমদ এর সাথে কাজ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানীদের হাতে বন্দি হওয়ার আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পুলিশের ওয়্যারলেসে জেলায় জেলায় প্রেরণ করা হয়েছিল। সিলেট জেলায় তা পৌঁছে যায় তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ফরিদ গাজীর কাছে। ওয়্যারলেস বার্তার সংবাদ পেয়ে ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল আওয়ামীলীগ সহ সিলেটের তৎকালীন সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও জনসাধারণের কাছে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। সিলেটের ছাত্র ও যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে সাহস যোগান। হাজার হাজার যুবকদের সংগঠিত করে মুক্তি বাহিনীর প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রেরণ করেন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে হাজার বছরের কাঙ্খিত স্বাধীনতা লাভ করে। ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল সিলেট জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, যুবলীগ কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের যুব আন্দোলনের নেতা হিসেবে ঘুরে বেড়িয়েছেন পুরো দেশ। স্বাধীনতা উত্তর সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
জননেতা ডা. নূরুল হোসেন চঞ্চল স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সিলেট জেলায় তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের দেশ গড়ার কাজে নির্লোভ কাজ করে যান। তিনি সিলেটে রিলিফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্র জীবনে এম.সি কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফুটবল খেলতে ও কবিতা লিখতে ভালোবাসতেন। ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে জেনারেল ওসমানী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলে সিলেট-৬ (ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে ২০ এপ্রিলের উপ-নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে ও যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যার পর সারাদেশে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর নেমে আসে জেল, জুলুম ও নির্যাতন। সে সময়ের সামরিক সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সিলেটের মাটিতে আওয়ামীলীগকে পুনর্গঠন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান তিনি। তৎকালীন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চল পরবর্তীতে আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচারী সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১০ দলীয় ঐক্য নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলেন।
১৯৭৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপির জয় জয়কার হলেও ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইনামুল হক চৌধুরী (বীর প্রতীক) ৩ হাজার ৫শ’ ৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী ফতেহ ইউনুছ খানকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল জানবাজি রেখে কাজ করেন সে সময়।
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী জেনারেল এমএজি ওসমানীর পক্ষে ও ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের পক্ষে কাজ করে যান ডা. নূরুল হোসেন চঞ্চল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের অবৈধ ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে ১৫ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষে সিলেটে নেতৃত্ব দেন ডা. নূরুল হোসেন চঞ্চল।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল ১৯৮৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪৫ বছর বয়সে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • যেহীন আহমদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • কমলগঞ্জে কিশোরীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ
  • মঈনুদ্দিন জালাল জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন
  • সরকারের মুখে নীতি-নৈতিকতার বাণী মানায় না
  • টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে নারীদেরকে অগ্রসর করতে হবে :: এম কাজী এমদাদুল ইসলাম
  • ৪৬ জন আক্রান্তের দিনে সুস্থ ২২ জন
  • পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে তালামীযের র‌্যালি কাল
  • হবিগঞ্জে পুলিশকে পিটিয়ে আসামির পলায়ন
  • ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর তথ্য : গ্রেফতার ৩
  • কোম্পানীগঞ্জের ‘মরা ধলাই’ খাল নোটিশেও সরছে না অবৈধ স্থাপনা
  • ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনের ধাক্কায় পথচারী নারীর মৃত্যু
  • বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের রক্তে ভেজা ধলই সীমান্ত
  • প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেট আসছেন আজ
  • ছাতকে পূজা ঘিরে সরব পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা
  • ৮ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ
  • শ্রীমঙ্গল চা বাগান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার
  • র‌্যাবের অভিযানে জুয়াড়ি ও মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার
  • আইনজীবী স্বামীর নির্যাতনে শিশু কন্যা নিয়ে অসহায় মনোয়ারা
  • বানিয়াচংয়ের শুঁটকি সেতু মেরামতের জন্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ
  • নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT