উপ সম্পাদকীয়

আল্লামা আহমদ শফী চলে গেলেন

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৯-২০২০ ইং ০২:৩৯:৩৩ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত
Image

উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা আহমদ শফী দুনিয়াতে আর নেই। তিনি গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ শুক্রবার ইন্তেকাল করেছেন। ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একেবারে মাগরিব-লগ্নে তিনি চলে গেলেন। পাক ভারত উপমহাদেশে যে কজন আলেমে দ্বীন, দ্বীনের খেদমতগার দ্বীনের অতন্ত্র প্রহরী ছিলেন, তাদের মধ্যে হুজুর আহমদ শফী অন্যতম ছিলেন। সারাদেশে তাঁর হাজার হাজার ছাত্র-অনুসারী ছড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারতসহ সারা উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হুজুর পরিণত বয়সেই বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘ হায়াৎ দান করেছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ১০৫ বছর। তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন পাখিয়ার টিলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মো. বরকত আলী। মনুষ্যজীবনে যা চরমসত্য তা হলো আল্লাহ’র দুনিয়ায় কেউ-ই চিরস্থায়ী নয়। সবাই চলে যেতে হবে। এই অমোঘ নিয়মে হুজুর আল্লামাও চলে গেছেন। হুজুর সারাটা জীবন দ্বীনের খেদমতে সময় দিয়েছেন। হে আল্লাহ আহমদ শফী হুজুরকে তোমার প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে স্থান দান করো, তাঁর কবরকে বেহেস্তের অংশ করে নাও, তাঁকে বেহেস্ত এনাম করো।
আল্লামা হুজুর চট্টগ্রামের হাট হাজারী আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি কওমী মাদ্রাসার স্বার্থ সংরক্ষণে সোচ্চার ছিলেন।
এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, হাটহাজারী মাদ্রাসার কিছু বিপথগামী ছাত্র তাঁর মৃত্যুর একদিন পূর্বে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও তান্ডব চালিয়ে মাদ্রাসার ক্ষতিসাধন করেছে এবং আল্লামা হুজুরের সঙ্গে অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে। একটি বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে এরকম আচরণ করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এমন আচরণ করে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষারই তারা বিরোধিতা করেছে।
আল্লামা আহমদ শফীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সফরভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ার আল-জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন। ১৯৪০ সালে তিনি হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এরপর তিনি ভারতের প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা মাওলানা হোসেন আহমদ মদনী প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন ১৯৫০ সালে। এখানে চার বছর অধ্যয়ন করে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। অতঃপর ১৯৮৬ সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় যোগদান করেন মহাপরিচালক হিসেবে। একটানা ৩৪ বছর তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি মাদ্রাসাকে দাঁড় করান এবং দেশে-বিদেশে মাদ্রাসাকে পরিচিত করে তুলেন। আহমদ শফী হুজুরের মধ্যে কোনো মারপ্যাচ ছিলো না। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন, ঈমান আক্বীদার বিষয়ে ছিলেন আপোষহীন। তাঁর চরিত্রে একটা মহৎ গুণ ছিলো যার অভাব অহরহ পরিলক্ষিত হয়। টাকা, পয়সা খরচের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। লেন-দেনে তিনি খুবই স্বচ্ছ থাকতেন। জানা যায়, কখনও কোনো কাজে বাইরে গেলে মাদ্রাসায় ফিরে তিনি প্রথমেই খরচের হিসাব দিতেন এবং বাকি টাকা ফেরত দিতেন।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

Image

Developed by:Sparkle IT