সম্পাদকীয় এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্য আয়না এবং এক মুমিন অন্য মুমিনের ভাই। -মিশকাত

শিক্ষা ব্যবস্থার গন্তব্য কী?

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৯-২০২০ ইং ০২:০৬:৪৭ | সংবাদটি ১৩৯ বার পঠিত
Image

অনেক চেষ্টা তদ্বির পরেও আধুনিক হয়নি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। সময়ের হাত ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এসেছে নতুনত্ব। শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা দিতে কাঁধ থেকে নামানো হচ্ছে বইয়ের বোঝা; কমেছে পরীক্ষার চাপ। জোর দেয়া হচ্ছে দক্ষতা আর কর্মমুখী শিক্ষার ওপর। প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলতি মহামারির মধ্যেই নতুন শিক্ষানীতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেখানে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ১৫ বছরে মাত্র পাঁচটি পরীক্ষা রাখা হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন চলছে উল্টোপথে। শিক্ষানীতি প্রবর্তন করা হলেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। মাসে মাসে পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দিনরাত ছুটতে হচ্ছে স্কুল, প্রাইভেট কোচিং আর নোট গাইডের পেছনে।
দেশে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে। কিন্তু তার কোনটাই কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ ২০১০ সালে সরকার ঘোষণা করে শিক্ষানীতি; যা কার্যকর করতে নানা কর্মযজ্ঞ শুরু করে সরকার। এই শিক্ষানীতিতে বলা হয়- সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে গণমুখী, সুষম, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক এবং মান সম্পন্ন শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি ও রণকৌশল হিসেবে কাজ করবে এই শিক্ষানীতি। শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিলো- প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সবার জন্য এক মানের। আর প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। সেই সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষাকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করার কথাও বলা হয় শিক্ষানীতিতে। কিন্তু এর কোনটাই বাস্তবায়িত হয়নি। আদতে এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কোন পরিকল্পনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সত্যি বলতে কি, বিগত দশ বছরে সরকার শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সংস্কারে রীতিমতো উদাসীনই ছিলো। বরং এই সময়ে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে প্রচুর। এটি ভালো খবর। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষানীতির নির্দেশনা মাথায় রাখা উচিত ছিলো। অবশ্য ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় সরকারের ব্যক্তিবর্গ বলেছেন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা এবং দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা চালু করার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে শিক্ষা ব্যবস্থার সৃজনশীল বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন চালু হওয়া পরীক্ষায় নকলবাজি আর প্রাইভেট টিউশনির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে- সৃজনশীল প্রশ্ন চালু হওয়ার পাঁচ বছর পর এখন বলা হচ্ছে, বিষয়টি নাকি অনেক শিক্ষকও বুঝতে পারছেন না।
সব কথার শেষ কথা, একটা অনিশ্চিত গন্তব্যে ছুটে চলেছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রথমত বহুল প্রত্যাশিত শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকার উদাসীন। সর্বমহলে প্রশংসিত এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠার কিংবা বিশেষজ্ঞ গড়ে ওঠার পথ সুগম হতো। তাতে বেকারত্বের নিরসন হতো। সবচেয়ে লাভের বিষয় হতো দেশের বিভিন্ন খাতে বিদেশী বিশেষজ্ঞের পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হতো না। এই স্থান দখল করতো আমাদের বিশেষজ্ঞরাই। কিন্তু তা হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঘন ঘন পরীক্ষা, টিউশনি, নোট গাইড, বইয়ের বোঝার চাপায় পিষ্ট। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার আগেই সজাগ হতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT