উপ সম্পাদকীয় আতাউর রহমান খান শামছু

বিশ্ব সাদাছড়ি দিবসে করণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-১০-২০২০ ইং ০৩:১২:৪০ | সংবাদটি ৬০ বার পঠিত
Image

আজ বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস। সাদাছড়ি বহনকারী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিরাপদে পথ চলতে সাহায্য করে। এ উদ্দেশ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদাছড়ি দিবস পালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হচ্ছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা সামাজিক মর্যাদা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৫ অক্টোবরকে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়। তারাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও পুর্নবাসনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের নিরাপত্তা বিধানের স্বার্থে সাদাছড়ি ব্যবহারের দ্বারা চলাচলের পথ সহজ হয়। কারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে সাদাছড়ি ব্যবহারকারী ব্যক্তি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। পথের কোথায় উচু-নিচু, কোথায় বাঁক, কোথায় দরজা বা কোথায় দেয়াল, কোথায় গর্ত বা কোথায় পানি, কোথায় পাথর বা হোঁচট খাওয়ার ভয় আছে এসব বুঝতে সাহায্য করে সাদাছড়ি। এটি যে কোন স্থানে ও পরিবেশে সহজে বহনযোগ্য।
সাদাছড়ি শুধু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারযোগ্য। কোন ব্যক্তি এটি ব্যবহার করলে অন্য মানুষ সহজেই বুঝতে পারে সে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তখন ঐ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপার সহ অন্য যে কোনো সহযোগিতার জন্য সর্বস্তরের মানুষ স্বউদ্যোগে এগিয়ে আসে। শুধু তা-ই নয়, সাদাছড়ি ছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একা চলাফেরা করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। সাদাছড়ি ব্যবহার করলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগী হিসেবে আরেকজন লোকের প্রয়োজন হয় না। এতে একজন সহযোগী ব্যক্তির শ্রম, সময় ও অর্থ বাঁচে। তাই সাদাছড়ির গুরুত্ব অপরিসীম। সাদাছড়ির তেমন কোনো বাধাধরা ধরণ বা মাপ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সাদাছড়ির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সাধারণভাবে পায়ের পাতা থেকে ব্যক্তির বুকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধরা হয়।
তবে দ্রুত পথ চলতে হলে একটু লম্বা মাপের ছড়ি ব্যবহার করা সুবিধাজনক। বহনের সুবিধার্থে কাঠের ছড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন হালকা উপকরণ যেমন অ্যালুমিনিয়াম বা প্লাস্টিক ধরনের সামগ্রী দিয়ে তৈরি সাদাছড়ির যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সাদাছড়ির ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রাযুক্ত হয়েছে, যাকে বলা হয় ভার্চুয়াল সাদাছড়ি। এর টেকনিক্যাল নাম লেজার বেইজড রেঞ্জ সেন্সিং ডিভাইস। এতে একটি ক্যামেরা, লেজার টর্চ ও মাইক্রো প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এটি ছোট্ট, অনায়াসে পকেটে রাখা যায়।
দেশে প্রায় ৪৮ লাখ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে না পারা। তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে রাস্তা পারাপারে সহযোগিতা করা উচিত। বাংলাদেশ ট্রাফিক আইন মোতাবেক কোন অবস্থায় অনির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি থামানো না গেলেও রাস্তা পারাপারের সময় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাদাছড়ি উত্তোলন করলে ট্রাফিককে লাল সিগনাল দেয়া উচিত। যতক্ষন পর্যন্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রাস্তা পার না হবে ততক্ষণ যানবাহন বন্ধ রাখতে হবে। দেশব্যাপী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে সাদাছড়ি ব্যবহারের প্রচলন ঘটাতে হবে। এছাড়া দেশে সাদাছড়ি আইন অনুমোদন করতে হবে।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমাজের বিচ্ছিন্ন কোনো অংশ নয়। তারা মানব বৈচিত্রেরই একটা অংশ। দেশ ও জাতির উন্নয়ন তরন্বিত করতে হলে এসব প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূল শ্রুতধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সর্বক্ষেত্রে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। যার জন্য জন সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো বলিষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা প্রসংশনীয়।
লেখক : সভাপতি, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সিলেট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

Image

Developed by:Sparkle IT