বিশেষ সংখ্যা

একজন সফল সম্পাদক

আব্দুল হান্নান প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৬ ইং ০২:৫১:২৯ | সংবাদটি ১৯০ বার পঠিত

জনপ্রিয় দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সাবেক সফল সম্পাদক রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে এবার আমাকেও দুটি কথা লিখতে হচ্ছে। মহীয়সী এই মহিলা সম্পর্কে সিলেটবাসী নারী পুরুষ অনেক কিছুই জানেন। শুধু সিলেট নয় দেশে বিদেশে জীবদ্দশাতেই তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে। একবার হলেও যারা তার সান্নিধ্যে এসেছেন-তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন মানবিক গুণাবলীর এক জীবন্ত প্রতীক। আমার সৌভাগ্য যে, সেই শৈশব থেকেই আমি তাঁর ¯েœহধন্য ছিলাম। মধ্যখানে তিনি ছিলেন বিদেশে। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো ছিল না। এরপরও স্বদেশের মাটি ও মানুষ এবং স্বজনদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ম্লান হয়নি। আজ তাঁর দশম মৃত্যুবার্ষিকী। সিলেটের ডাক-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে এ উপলক্ষে আমার এই সংক্ষিপ্ত কথকতা।
মহীয়সী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত। খাওয়া, পরা, চাল চলন সবখানেই অতি সাধারণ। কিন্তু তাঁর চিন্তাধারা ছিল অত্যন্ত উঁচু মানের। দানবীর রাগীব আলীর সহধর্মিনী হিসেবে বিলাসবহুল জমকালো জীবন যাপনের সকল দুয়ার তাঁর জন্য ছিল অবারিত। কিন্তু তিনি সে পথে যাননি। সবসময় নিজের আরাম আয়েশ ভুলে গিয়ে দুঃখী মানুষের কথা ভেবেছেন। গরীব নিঃস্ব লোকও তাঁর ব্যবহারে মুগ্ধ হতেন। ব্যক্তিগত সাহায্য সহযোগিতা করতেন উদার হাতে। বৃহত্তর পরিসরে দেশবাসীর কল্যাণের জন্য কী করা যায় সেই চিন্তা তিনি সব সময় করতেন। সেই চিন্তার আলোকেই তিনি দানবীর রাগীব আলীকে জনকল্যাণমুখী কর্মে উদ্বুদ্ধ করেন। স্বামী স্ত্রী দু’জনেরই চিন্তা ও পরিকল্পনার ফসল সিলেটের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি, প্রথম বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এবং আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আজ তিনি নেই কিন্তু তার কল্যাণমুখী বহুমাত্রিক কর্মের মধ্যে তিনি জীবন্ত হয়ে আছেন। তিনি জানতেন জীবন ক্ষণস্থায়ী কিন্তু মহৎ কর্ম স্থায়ী। তাই আজ তাঁর স্মৃতিবাহী প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে মানুষ শুধু উপকৃতই হচ্ছে না, কল্যাণমুখী চেতনাতেও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
তিনি সাহিত্য সাংবাদিকতার ব্যাপারেও ছিলেন উৎসাহী। তাই সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার অঙ্গনেও নিজেকে জড়িয়ে নেন। দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে পত্রিকাটির প্রচার, প্রসার ও মান উন্নয়নে মনযোগী হন। তখনকার এক ঝাঁক তরুণ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় সিলেটের ডাক পত্রিকাকে নিয়ে আসেন শীর্ষস্থানে। কর্মরত সংবাদকর্মীরা তাঁর বিন¤্র ব্যবহার এবং সুদুরপ্রসারী চিন্তাধারায়ও মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত হন। স্বল্প সময়ে ডাক-এর মান ও প্রচার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পত্রিকাটি। আল্লাহর রহমতে পাঠক ও সুশীল সমাজের সহযোগিতায় ডাক-নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। আমি এই দৈনিক পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে সফল সম্পাদক রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। আল্লাহ তাকে তাঁর সকল মহৎ কর্মের বিনিময়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের ডাক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT