বিশেষ সংখ্যা

অনন্য এক নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী

মো. ছাবির উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ১২-১২-২০১৬ ইং ০২:৫৫:১১ | সংবাদটি ৩৬৪ বার পঠিত


‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে।’ কবির এ বাণী চিরন্তন সত্য। তবুও কোনো কোনো মানুষ মৃত্যুর পরেও যুগ যুগ ধরে মানুষের অন্তরে বিরাজ করেন। কীর্তিমানরা তাদের মহৎ কর্ম দ্বারা যে গৌরবের মুকুট পরেন, তা তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে সবার মাঝে। তাদের কাজের মহত্ত্বের জন্য স্থান করে নেন ইতিহাসের অমর পৃষ্ঠায়। তাদের নামখানা লেখা হয় সোনার অক্ষরে। আর তাদের গড়া অমর কীর্তি অনির্বাণ শিখার মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলে। কেউ ভুলে না তাদের স্মৃতি। তারা চিরঞ্জিব হয়ে বেঁচে থাকেন মানুষের অন্তরে।   
এর সত্যিকার একটি জ্বলন্ত প্রতিফলন মহীয়সী রমণী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর জীবন। তিনি ছিলেন একজন সফল সম্পাদক। একজন জনদরদী মা। অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন আজীবন। তিনি ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাজনীতি, পৃষ্ঠপোষকতা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি তার কর্মগুণে স্থান করে নিয়েছেন অগণিত মানুষের হৃদয়ে। নিরহংকারী, মিষ্টভাষিনী, নম্র-ভদ্র ও রুচিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী বেঁচে থাকবেন তার নিজের কর্মগুণ ও সাধনায় এ পৃথিবীতে।
মহীয়সী এ নারী মানবকল্যাণে তার জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। সর্বদা তিনি সত্যের উপলব্ধি থেকে শান্তিময় সমাজ গঠনে, বিপদে-আপদে, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের মঙ্গলে সমগ্র জীবন নিরলস প্রচেষ্টা করেছেন। তিনি আজীবন শিক্ষা-চিকিৎসা এমনকি ইসলামি শিক্ষা বিস্তারেও ছিলেন সচেতন নারী। এ মহৎ নারী আমৃত্যু দেশ, জাতি ও দেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তায় নিজেকে উৎসর্গ করে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি দেখিয়ে গেছেন মানুষের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, মুক্তি এবং ঐশ্বর্যময় এক আলোকিত পৃথিবীর সন্ধান। সেবা, কর্মে অহিংস, সাহসী ভূমিকায় সর্বদা স্বামীর পাশে ছিলেন। নারী জাগরণেও এক অনন্য অবদান রেখে গেছেন এই পৃথিবীর বুকে। অঢেল ধন-সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি আরও দশটা সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটিয়েছেন একদম সাদাসিধে। আর এই ধন-ঐশ্বর্য তিনি বিলাসিতায় ব্যবহার না করে, ব্যয় করেছেন মানবকল্যাণে। স্বামী দানবীর ড. রাগীব আলীর সকল কাজের উৎসাহ-উদ্দীপনার এক সাথী ছিলেন এই মহতি মহিয়সী নারী। নিজের স্বার্থকে ুণœ করে মানবসেবায় ছিলেন ব্রতী।
আজ ‘সিলেটের ডাক’ যতোটা সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, তা কেবল বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর অবদান। তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন। নিখুঁতভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন এ পত্রিকাটিকে। সেই থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে যৌবনে পদার্পণ করেছে সিলেটের এই দর্পণ, জনপ্রিয় পত্রিকাটি। তা কেবল বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কৃতিত্ব।
আমার দুর্ভাগ্য যে, আমি এই মহতি নারীর সাক্ষাৎ পাইনি। তবে তাকে উৎসর্গ করে লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ গ্রন্থ পড়ে যতোটুকু জানতে পেরেছি, তাই আমার জীবনটাকে দিয়েছে সত্যের সন্ধান। সুপথের সন্ধান পেতে, মানবসেবার উৎসাহ উদ্দীপনা পেতে সাহায্য করেছে।
আজ এই মহতি নারী আমাদের মাঝে নেই। তিনি ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর চিরকালের জন্য চলে গেলেন মাওলা হাকিকীর দরবারে, না ফেরার দেশে। তিনি আর কখনো আমাদের কাছে ফিরে আসবেন না, এটাই কঠিন বাস্তবতা। আর এটাই বিধাতার চিরন্তন বিধান। প্রত্যেক প্রাণী মাত্রই মরণশীল। সব প্রাণীকেই মরতে হবে। এর থেকে কেউ রেহাই পায় নি, পাচ্ছে না, আর পাবেও না।
তাই নিয়তির বিধান আমাদের থেকে নিয়ে নিয়েছে এ মহতি নারীকে। কিন্তু আমরা তাকে কখনো হারাতে দেবো না। তার স্মৃতি আর গৌরবোজ্জ্বল চরিত্র এমনকি সকলকর্ম গুণে ঠাঁই নিয়ে নিয়েছেন আমাদের মনমন্দিরে হৃদয়ের আঙিনায়। তিনি আমাদের হৃদয়ে আছেন এবং হৃদয়ে থাকবেন চিরদিন।
মহান আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে করজোরে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই মহীয়সী নারীকে পরকালের চিরসুখী জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন। আর আমাদেরকেও সৎ পথে চলার তাওফিক দান করেন, আমিন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT