ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পার্বত্য তথ্য কোষ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০৫-২০১৭ ইং ০১:০০:৩১ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত


[পূর্ব প্রকাশের পর]
উপজাতীয় বিদ্রোহী পক্ষের আলোড়ন সৃষ্টিকারী দাবীগুলো নিয়ে ভাবতে গেলে প্রথমেই এসে যায়, উপজাতীয় ক্ষমতায়নের কথা। প্রথমে এটি ছিলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দৃঢ়। দীর্ঘ বিশ বছরের রক্ত ক্ষরণের পর ১৯৯২ সালে এটি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু প্রথম দাবিটি আগেও সংবিধানিকভাবে আইন সম্মত ছিলো না, সংশোধনের পর এখনো তা সংবিধান সম্মত হয় নি। রাষ্ট্রের এক কেন্দ্রিক কাঠামো তাতে ক্ষুণœ হয়, এটাই সাংবিধানিক বাধা। এই বাধার পরিপ্রেক্ষিতে জনসংহতি সমিতির দাবি হলো : তজ্জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। কিন্তু এখানেও পরিস্থিতি বিরূপ। সংবিধান সংশোধনে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজনীয়। এটা মৌলিক সংশোধনী বলেও গণভোটে জাতি কর্তৃক তা গৃহিত হতে হবে। কোনো সরকারেরই এটি একক কর্তৃত্বের ব্যাপার নয়। সুতরাং সংশোধনের বিষয়টি সহজ গ্রাহ্য নয়। এই যৌক্তিক পরিবেশে জনসংহতি সমিতির অবস্থান কি হবে তা অজ্ঞাত। তবে এতে যে তারা ছাড় দিবেন ও শৈথিল্য দেখাবেন, এমন উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় ইতোপূর্বে তাদের কাছে পাওয়া যায়নি। অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে অনুরূপ যুক্তি উপস্থাপন করে, তাদেরকে ভাবিয়ে তুলা হয়েছে বলেও কোনো খবর নেই। আমাদের জানা মতে, বিদ্রোহী পক্ষের সাথে সরকারি পক্ষের অনেক আলোচনা হলেও, যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক মতো বিনিময়ও বিতর্ক খুব কমই হয়েছে, অথবা মোটেও হয়নি। আলোচনার অনুরূপ দৈন্যাবস্থা, সুফল দায়ক হতে পারে না। সমস্যার সমাধান তাই তো সুদূর পরাহত আছে।
মূল প্রধান দাবি হলো, যথা : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করিয়া... আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন পার্বত্র চট্টগ্রামকে প্রদান করা (দাবী-১)। এই আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে যদি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েও যায় এবং সরকারও বিরোধী দল সমূহ শান্তিস্থাপনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণও করেন, তবু সংবিধান সংশোধন সহজ সাধ্য নয়। জনসংহতি সমিতির অভিহিত সংশোধন, গোটা সংবিধানকেই প্রভাবিত ও গ্রাস করবে। মনে করা হয় রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংক্রান্ত সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ নং ১ ই মাত্র সংশোধন করা প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ নামীয় রাষ্ট্রটিকে এককেন্দ্রিক বা ইউনিটারী ঘোষণা করেছে। অথচ জনসংহতি সমিতির দাবি নং ১ হলো প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনমূলক যার চরিত্র ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয়। এই বিপরীত দুই ধারার রাষ্ট্র কাঠামোতে সঙ্গতি বা সমঝোতা স্বাধন ও দুস্কর। সাংবিধানিক ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান ভিত্তিক, সম্ভাব্যতা যাচাই, অথবা সুপ্রীম কোর্টে এর বৈধতা পরীক্ষা কালেও এই সমঝোতার পক্ষে পার পাওয়া কঠিন হবে। বিষয়টি আরো জটিল হবে যখন দেখা যাবে যে, দাবির অন্যান্য অংশগুলোতে ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। শেষ মেষ এই সংশোধনের ধারা, সংবিধান পরিবর্তনেই পর্য্যবসিত হয়। তাতে নিরুপায়ভাবে সবাইকে হতভম্ব আর অক্ষম হয়ে যেতে হবে। অনুরূপ বেকায়দায় পড়ার সম্ভাবনাকে আগে ভাগেই আঁচ করা উচিত।
আমার কথাগুলোকে আগাম হতাশা ও ফেকড়া আরোপের অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু সুধী মহলের ভাববার বিষয় হলো : রাষ্ট্রের গণপ্রজাতন্ত্রী সাংবিধানিক চরিত্র; কোনো রূপ গোষ্ঠীতন্ত্রকে সমর্থন করে না। জনসংহতি সমিতির দাবি হলো : পার্বত্য চট্টগ্রামেও অখন্ড অঞ্চল ভিত্তিক উপজাতীয় স্বায়ত্তশাসন এবং বাংলাদেশের সাথে শিথিল সম্পর্ক যে বিষয়টি সরাসরি নয় তির্ষকভাবে উপস্থিত হয়েছে যথা :
দাবি নং (১/খ) : আঞ্চলিক পরিষদ সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রদান করা।
দাবি নং ২ (১/খ) : পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন করিয়া... জুম্মল্যান্ড নামে পরিচিত করা।
দাবি নং ২ (খ) : পার্বত্য চট্টগ্রাম/একটি বিশেষ শাসন বিধি অনুযায়ী শাসিত হইবে। সংবিধানের এই রকম শাসনতান্ত্রিক সংবিধি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দাবি নং ২ (গ) : বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চল হইতে আসিয়া যেন কেহ বসতি স্থাপন, জমি ক্রয় ও বন্দোবস্ত করিতে না পারে, সংবিধানে সেই রকম সংবিধি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।
দাবি নং ২ (ঘ) : পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নন, এই রকম কোনো ব্যক্তি পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে যাহাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করিতে না পারে, সেই রকম আইন বিধি প্রণয়ন করা।...
দাবি নং ২ (ঙ-১) : গণভোটের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মতামত যাচাই ব্যতিরেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় লইয়া কোনো শাসনতান্ত্রিক সংশোধন যেন না করা হয়, সংবিধানে সেই রকম সংবিধি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।
দাবি নং ২ (ঙ-২) : আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সম্মতি ব্যতিরেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় লইয়া যাহাতে কোনো আইন অথবা বিধি প্রণীত না হয় সংবিধানে সেই রকম শাসনতান্ত্রিক সংবিধি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।
দাবি নং ২ (ছ) : ...পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরামর্শ ও সম্মতি ব্যতিত পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা না হয় সংবিধানের সেই রকম শাসনতান্ত্রিক সংবিধি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা।
দাবি নং ২ (ঘ) : পার্বত্য চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আসন সমূহ জুম্ম জনগণের জন্য সংরক্ষিত রাখিবার বিধান করা।
দাবি নং ২ (৫-গ) : পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোনো প্রকারের জমি ও পাহাড় পরিষদের সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর না করিবার প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দাবি নং ৩ (১) : ১৭ই আগস্ট ১৯৪৭ সাল হইতে যাহারা বেআইনীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশ করিয়া পাহাড় কিংবা জমি ক্রয় বন্দোবস্ত ও বেদখল করিয়া, অথবা কোনো প্রকারের জমি বা পাহাড় ক্রয় বন্দোবস্ত ও বেদখল ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে ও গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করিতেছে, সেই সকল বহিরাগতদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে অন্যত্র সরাইয়া লওয়া।
দাবি নং ৩ (৪-ক) : সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প ব্যতিত সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সকল ক্যাম্প ও সেনা নিবাস, পার্বত্য চট্টগ্রাম হইতে তুলিয়া লওয়া। (সূত্র : সংশোধিত দাবি নামা)
এই দীর্ঘ উদ্ধৃতির মাধ্যমে সুধী পাঠক মহলের ধৈর্য্যচুতি হলেও এটা তাদের পক্ষে অনুধাবন আর কঠিন নয় যে, সংবিধান বজায় রেখে এবং বাংলাদেশের কর্তৃত্ব বাঁচিয়ে, এই দাবি দাওয়া পূরণ সম্ভব নয়। এটা হলো স্বায়ত্তশাসনের নামে আঞ্চলিক স্বশাসনের ক্ষমতা লাভের প্রচেষ্টা, যার অবস্থান স্বাধীনতা ও বিচ্ছিন্নতার কাছাকাছি। এমনিতে স্বায়ত্তশাসন হলো স্বাধীনতার পূর্ব অবস্থান। এলাকাটিও দুর্গম ও উপজাতি প্রাধান্য ময় সীমান্ত। এই প্রতিকূল পরিবেশ আখন্ডতার রক্ষা করা হয়। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে এক নাজুক পরীক্ষা ক্ষেত্র। শুধু উপজাতীয় অসন্তোষ দূরিকরণই ভাবনার বিষয় নয় এবং এ বলাও সঠিক নয় যে, কিছু বাড়তি সুযোগ সুবিধা আদায়ই উপজাতীয় সংগ্রামীদের লক্ষ্য। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উপজাতীয় অস্ত্রধারীরা বিদ্রোহী। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বাঙালি উচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতা। ইতোমধ্যে উপজাতীয় লাঞ্চনা বঞ্চনার বিপক্ষে বহু প্রতিকার হয়েছে। উন্নতি আর অগ্রগতির পরিমাণও যথেষ্ট। এখন বিদ্রোহ অসন্তোষ অব্যাহত থাকার কার্যকারণ নেই। সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতারই প্রকাশ ঘটা উচিত। দেশ রক্ষার কার্যক্রম প্রকৃত পক্ষে বিদ্রোহকে পাহারা দান বা জিইয়ে রাখা নয়, দমন করা এবং তা দ্রুতই হতে হবে। তবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিকরাই সর্বোত্তম। সরকারি পক্ষে একমাত্র ক্ষমা ও স্থানীয় শাসনই নমনীয়তার বিষয়। অপর পক্ষে শর্তহীন অস্ত্র ত্যাগই হতে হবে সমঝোতার শেষ কথা। এই চূড়ান্ত প্রস্তাবে রাজি না হলে, আর কোনো শৈথিল্য নয়। বিদ্রোহীদের দমনও নির্মূলে বাঙালি পুনর্বাসনই মোক্ষম ব্যবস্থা। চিরকালের জন্য বিদ্রোহী পক্ষকে সংখ্যা লঘুতে পরিণত করার মাঝেই, উপজাতীয় বিদ্রোহ আর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ দমনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিহিত। এই পথেই সমাধান। সেনা বাহিনীকে শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ঘরে বাইরে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সন্দেহবাদী লোকেরা সংখ্যায় প্রচুর। বাংলাদেশ ও বাঙালি পক্ষের ক্ষয়ক্ষতিতে ওরা কখনো বিদ্রোহী পক্ষের নিন্দাবাদে সোচ্চার হোন না। ওদেরকে হামেশা বিপক্ষীয় যুক্তি খাটাতেই দেখা যায়। ওরা মাসোহারা ভোগী এজেন্টের মতোই ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিছু বামপন্থী দেশীয় পত্র-পত্রিকা ও তাদের স্তাবক। কল্পনা চাকমার আজগোবি অপহরণ ও তার জীবন কাহিনী জাতীয় উড়ো কথাই তাদের প্রধান উপজীব্য। দিনকে দিন ইনিয়ে বিনিয়ে তাই প্রচার করতেই তারা অধিক উৎসাহী। না পারতে, দায় সারা গোছের হাল্কা ভাষ্যের বাঙালি হত্যা ও অপহরণের কিছু ঘটনা তাদের প্রচার মাধ্যমে আসে। দেশ ও জাতির সমর্থনে তাদের যুক্তিও আলোচনা কমই পরিচালিত হয়। এ জাতীয় যুক্তি ও আলোচনাকে তারা কমই আমল দেন। এদের মদদেও বিদ্রোহী পক্ষ শক্তি পাচ্ছে।
এতদাঞ্চলের জুম্মল্যান্ড নাম, এর উপজাতীয় অধিবাসীদের জুম্মজাতি পরিচয়, বাঙালি ও সেনা বাহিনী প্রত্যাহার দাবি এবং বাংলাদেশের সাথে লোক চলাচল ও বসবাসে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রবর্তনসহ পৃথক প্রশাসনিক আইনের সংস্থান দাবির লক্ষ্য, বাংলাদেশের নিজের দ্বারা স্বেচ্ছায় অঙ্গচ্ছেদ ঘটানও স্বতন্ত্র জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠা। দাবিতে এতদাঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় প্রশাসক থাকার প্রস্তাবও নেই। সর্বেসর্বা নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হবেন আঞ্চলিক পরিষদ প্রধান। এই ক্ষমতা ও স্বাতন্ত্র্যকে বেনামী বিচ্ছিন্নতা অবশ্যই বলা যায়। স্বাধীনতার পক্ষে শুধু একটি ঘোষণাই বাকি থাকে যে, বাংলাদেশের সাথে জুম্মল্যান্ডের আর কোনো সম্পর্ক থাকলো না। মুক্ত পরিবেশে, উগ্র জঙ্গিবাদী পক্ষ, কোনো চূড়ান্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী উদ্যোগ নিবে না, এমন নিশ্চয়তা কারো পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। খোদ সরকারই উপজাতিদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথে এগিয়ে যেতে, স্থানীয় সরকার পরিষদ আইনে, চেয়ারম্যান পদ একক উপজাতীয় কোটাভুক্ত করে উদাহরণ স্থাপন করে দিয়েছেন। যদিও দাবি এ কখনো সরাসরি উত্থাপিত হয়নি এবং সরকার ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি আকারে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসকের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রাধান্যের ব্যবস্থা রাখেন নি। দূরবর্তী কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে যথেষ্ট নয়। জেলা প্রশাসকগণ খন্ডিত কর্তৃত্বেরই অধিকারী ও আমলা। রাজনৈতিক কর্তৃত্ব তাদের দায়িত্ব ভুক্ত বিষয় নয়। সুতরাং এবলা বেটিক হবে না যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত সরকারি নীতি নির্ধারণে তথ্য, তত্ত্ব ও বুদ্ধি কৌশল কমই খাটান হয়েছে।
দাবি দাওয়ার গ্রহণ যোগ্যতা বাড়াবার কৌশল হিসাবে জনসংহতি সমিতি ঘোষণা করেছে যে, তারা সংবিধান গণতন্ত্র ও দেশের অখন্ডতাকে মান্য করে। যথা : এই আন্দোলন কোনো রকমের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয়। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের আওতাধীন জনসংহতি সমিতি তথা জুম্ম জনগণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিকভাবে বৈঠকের মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধান পেতে যে অত্যন্ত আগ্রহী তা বলাই বাহুল্য। স্বীয় জাতীয় সংহতি, জাতীয় পরিচিতি জন্মভূমি ও ভিটামাটির অস্তিত্ব সংরক্ষণ করে, জুম্ম জনগণ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির মহান কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে চায়। চায় অতি দ্রুত গতিতে সকল প্রকারের পশ্চাদপদতার অবসান করে, সমগ্র দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার মহান আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে সামিল হতে। (সূত্র : জরুরি বিবৃতি তাং-২১/১২/৯১ইং]
এই ইতিবাচক বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জনসংহতি সমিতি তৎপ্রতি যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দেয়নি। তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ও তার অপতৎপরতা, অস্ত্র বিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় হয় নি। শান্তি স্থাপনের পক্ষে অস্ত্র ত্যাগই হতো যথার্থ। দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজি বজায় রেখে এবং স্বদেশবাসী বাঙালিদের মৌলিক অধিকার মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সর্বোপরি দেশের প্রতিরক্ষার অধিকার অস্বীকার করে তাদের এবলা প্রহসন যে, জনসংহতি সমিতি ও শান্তি বাহিনী দেশের সংবিধান গণতন্ত্র ও অখন্ডতার অনুসারী। তাই আলোচনার শুরুতে, এই বিবৃতিরই সূত্র ধরে জনসংহতি সমিতিকে, অস্ত্র ত্যাগ, উগ্রতা পরিহার ও অতীত বাড়াবাড়ির জন্য, জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহবান জানান উচিত। তৎপর জাতীয় ক্ষমা সহানুভূতিও সুযোগ সুবিধা বিবেচ্য হবে। অস্ত্র উচিয়ে রেখে মিঠা কথা অর্থহীন। হয় অস্ত্রত্যাগ, নয়তো বাঙালি আবাসন, এটাই অনমনীয়তার বিপরীতে হতে হবে শেষ কথা। (চলবে)

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • আল আক্বসা মসজিদের ইতিহাস
  • সিলেটের শীতলপাটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্য
  • সিন্ধু বিজয় ও পলাশির পরাজয় : তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
  • চন্দ্রবিজয় ১৯৬৯ নিল আর্মস্ট্রংদের সঙ্গী ছিলেন সিলেটি বিজ্ঞানী রফিক
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ফিরে দেখা সিলেটে ঐতিহাসিক গণভোট
  • ঐতিহ্যে সিলেটি ইফতার
  • সিলেটের ঐতিহ্য ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • সিলেট বেতার : মুক্তিযুদ্ধকালীন খণ্ডচিত্র
  • জামাইবাড়িতে ইফতারি : আম-কাঠলী-সন্দেশ
  • আমাদের বর্জনীয় অভ্যাসগুলি
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ঐতিহ্য হারাচ্ছে ঢাকার প্রথম মসজিদ
  • সিলেটের ঐতিহ্য ও সুরমা নদী
  • সিলেটের ঐতিহ্যবাহী নাগা মরিচ
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • শ্রীভূমি শ্রীহট্ট-কাছাড়ের প্রাচীন ইতিহাস
  • সিলেট নামটি যেভাবে এলো
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT