স্বাস্থ্য কুশল

রোগ ও ভেষজ পর্ব

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৬-২০১৭ ইং ০১:১৮:৩৮ | সংবাদটি ১৭৯ বার পঠিত

হাঁপানী : হাঁপানী অর্থ স্বল্প শ্বাস। এ রোগে পালাক্রমে ভীষণ শ্বাসকষ্ট হয়। হাঁপানী হঠাৎ জীবননাশকারী রোগ নয়। হাঁপানী বংশানুক্রমে, নিছক ধুলাবালি ও এলার্জির কারণে, জীবানু সংক্রমনের কারণে, নাসিকা পথে শ্লেস্মা জমার কারণে হতে পারে, এ রোগ সম্পূর্ন সারেনা, শুধু নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়। নি¤েœ হাঁপানীর কষ্ট কমানোর একক ভেষজ নিয়ে আলোকপাত করা হল।
১. হলুদ : হলুদ গুড়ো, আখের গুড়, খাটি সরিষার তেল মিশিয়ে চাটলে হাঁপানীর কষ্ট কমে । ২. সুষনী শাক : কফ বেশী নেই কিন্তু শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, এমতাবস্থায় সুষনী শাকের রস ৪/৫ চামচ গরম করে সন্ধাবেলায় খেলে কষ্ট কমে এবং ঘুমও ভাল হয়। ৩. নিসিন্দা : নিসিন্দা গাছের ছালের কাথ চায়ের মত খেলে উপকার হয়। ৪. বাসক: বাসকের শুস্ক পাতার ধোয়া টানলে কষ্ট কমে যায়। ৫. অর্জুন : অর্জুন ফলের শুকনা টুকরার ধোয়া টানলে হাঁপের টান কমে যায়। ৬. অনন্তমূল : একজিমা ও হাঁপানী এক সাথে থাকলে অনন্তমূল ৩ গ্রাম আন্দাজ পানি সহ বেটে সামান্য সৈন্ধব লবন মিশিয়ে সরবতের মত দুবেলা খেলে কষ্ট কমে। ৭.। কালজিরা : কালজিরা চূর্ণ করে মধুর সাথে মিশিয়ে আধা চা চামচ করে দিনে ৩ বার চাটনীর মত খেতে হয়। ৮. মেথী বীজ : ৬ গ্রাম মেথী বীজ আধা গুড়ো করে ১২০ মিলিলিটার পানিতে সিদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে দিনে ২ বার সেবন করতে হবে।  ৯. আকন্দ ফুল : ১২ গ্রাম আকন্দ ফুলকে প্রথমে সামান্য ঘিয়ে ভেজে নিন তারপর ৩ গ্রাম সন্ধব লবন মিশাতে হবে। উভয় উপাদান চুর্ণ করে সামান্য পানিতে গুলে নিয়ে বুট আকারে বড়ি বানিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। একটি করে বড়ি দিনে ৩/৪ বার মুখে নিয়ে চুষতে হবে।  ১০. আদা : এক চামচ আদার রস গরম করে এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে রাতে শয়নকালে খেতে হবে।
১১. নিম : নিমের কলি ১২ গ্রাম একটি মাটির পাত্রে রেখে ১২০ মিলি পানি দিয়ে হালকা আঁচে সেদ্ধ করে ছেকে নিয়ে রাত্রে শয়নকালে সেবন করতে হবে । ১২. কাল ধতুরা : ১ গ্রাম কাল ধতুরার বীজ আগুনে জ্বালিয়ে মুখ দিয়ে ধুঁয়া টানতে হবে। ১৩. তেলাকুচা : সর্দি বসে যদি শ্বাস কষ্ট হয়, তাহলে তেলাকুচার পাতা ও তার সিকি ভাগ মূল থেঁতো করে তার ৩/৪ রস একটু গরম করে খেলে সর্দিটা তরল হয়ে যায়।
১৪. বহেড়া : বহেড়া বীজের শাঁস ২/৩ টি করে ২ ঘন্টা পর পর চিবিয়ে খেলে কষ্ট কমে যায়। ৫. কন্টিকারিকা : হাঁপের টানের সাথে যদি কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে আসে, তাহলে কন্টিকারিকার ফল, মূল, গাছ সহ ২৫০ গ্রাম থেঁতো করে ২ লিটার পানিতে সিদ্ধ করে আধ লিটার  থাকতে নামিয়ে ছেঁকে পুনরায় চিটেগুড়ের মত ঘন হলে করে ঠান্ডা হলে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে রাখতে হবে। সকাল থেকে সারা দিনে ৪/৫ বার চেটে ৪/৫ দিন খেতে হবে।
১৬. চিরতা : অল্প ঠান্ডা বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে সর্দি কাশি এবং সাথে হাঁপানী থাকলে চিরতা চূর্ণ ১/২ গ্রাম মাত্রায় ৩  ঘন্টা পর পর ২/৩ বার মধূ সহ চেটে খেতে হবে । ২/৩ দিনে রোগ অনেক কমে যাবে। ১৭. কতবেল : কতবেল হাঁপানী, কাশি ও যক্ষ্মা রোগে উপকারী । ১৮. ছাতিম : সর্দিবিহীন হাঁপানীতে এক থেকে দেড় গ্রাম ছাতিম ছালের গুড়া ২৫০ মিলি দইয়ের সাথে পিপুল গুড়া সহ মিশিয়ে খেতে হয়। ১৯. হরিতকি : হরিতকি ফলের রস হাঁপানী রোগে বেশ উপকারী। ২০. ডুমুর : ৩/৪ ট ডুমুর পরিস্কার করে গরম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে সকালে খেতে হয়। ২১. করলা : করলার মূলের এক চামচ পেষ্ট সমপরিমাণ মধু ও তুলসি পাতার রস সহ বেশ কিছু দিন খেলে উপকার হয়। ২২. রসুন : রসুনের কোয়া ১০ টি, ৩০ মিলি দুধে সিদ্ধ করে শ্বাসকষ্টের প্রাথমিক পর্যায়ে দিনে ১ বার খেতে হয়। ২৩. তিসি : আধা চা চামচ তিসির গুড়ো ১ চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে ২/১ বার ব্যবহার করতে হয়। ২৪. লেটুস : লেটুস বীজ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার খালি পেটে খেলে ভাল উপকার হয়। ২৫. বেগুন : ১/২ চা চামচ বেগুন পাতার রস ১ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে ৩ বার খেলে এলার্জি জনিত কফ ও ব্রংকাইটিসে উপকার হয়। ২৬. পুদিনা : ১ চা চামচ পুদিনা পাতার রস, ২ চা চামচ মল্ট ভিনেগার সম পরিমাণ মধু সহ ৪ আউন্স গাজরের রসে মিশিয়ে দিনে ৩ বার সেবন করতে হয়। ২৭. টমেটো : ১২৫ মিলি টমেটোর রস হলুদের গুড়ো সহ সপ্তাহখানেক খেতে হয়। ২৮. শিরিষ : শিরিষ গাছের ছালের রস চায়ের মত খেলে হাঁপানী উপশম হয়। ২৯. অড়হড় :  অড়হড় পাতার রস ৭/৮ চা চামচ একটু গরম করে মধূ সহ খেলে উপকার হয়। ৩০. তুলসী+আদা+পিপুল+বাসক পাতা সব একত্রে ১৫ গ্রাম নিয়ে চায়ের মত খেলে উপকার মিলবেই। ৩১. তুলসি : তুলসি পাতার রস মধুসহ খেলে উপকার হয়। ৩২. আঙ্গুর  : আঙ্গুর যখন থোকা অবস্থায় থাকে তখন ফুসফুসের মত মনে হয়। ফলে আঙ্গুর হাঁপানী সহ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে উপকার করে।
তথ্য সূত্র : ১. ইউনানী গৃহ চিকিৎসা- হাকীম হাফেজ আজিজুল ইসলাম  ২. সাধারণ রোগ ব্যাধির হার্বাল চিকিৎসা- জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও ডঃ মোঃ আবুল হাসান ৩. ভেষজ উদ্ভিদ ও লোকজ ব্যবহার: অবনীভূষণ ঠাকুর ৪. সুস্থ থাকার সোনালী উপায় : ডাঃ আলমগীর মতি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT