স্বাস্থ্য কুশল

প্রসঙ্গ : ইমোশনাল ইটিং

ঝরনা বেগম প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৬-২০১৭ ইং ০১:২০:২৮ | সংবাদটি ১০৪ বার পঠিত

বেশি খাওয়া হচ্ছে বলে কোনো খাবারের কিছু অংশ খেয়ে, পরে খাবেন বলে রেখে দিলেন। খানিক পরেই আর জিহবা সংবরণ করতে না পেরে বাকিটুকু খেয়েই ফেললেন। যদি এরকম আপনার প্রায়ই ঘটে থাকে, তবে ধরে নিতে পারেন, খাবারটা খাচ্ছেন ইমোশনাল বা আবেগপ্রবণ হয়ে। এই ইমোশনাল ইটিং আপনাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত, খেতে প্ররোচিত করে।
নিচের লক্ষণগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন নিজেকে, তাহলেই বুঝতে পারবেন আপনি কোনো আবেগী খাদক কি না।
Ñযখন মানসিক চাপে থাকেন, তখনি খাওয়াদাওয়া করেন।
Ñখাওয়াদাওয়া শেষ, তারপরও আপনি খেতে থাকেন।
Ñখাওয়াদাওয়া করেন মন ভালো করার জন্য।
Ñখাওয়াদাওয়া শেষে হয়তো অনুতাপ করেন, কেন আপনি এতো খেলেন।
Ñবেশিরভাগ সময় আপনার পছন্দের খাবার নিয়ে মেতে থাকেন, হতে পারে তা অনেক উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী, ইমোশনাল ইটিং মূলত কাজ করে আবেগের খেসারত হিসেবে। যারা আসলে এই ধরণের খাদক, তারা খাবারকে তাদের মানসিক অবস্থা ভালো করার উপকরণ হিসেবে ধরে নেয়, যেটা তাদেরকে পরিতৃপ্তির অনুভূতি জোগায়। চিকিৎসা পুষ্টিবিজ্ঞান বলে যে, খাওয়া এবং মুড-এর মধ্যে সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। মানুষ বিশেষ বিশেষ মেজাজে নির্দিষ্ট ধরণের খাবার খায়, এটা গবেষণা দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত।
ইমোশনাল ইটিং আবার সব সময় নেতিবাচক নাও হতে পারে। যেমনÑ শুধু যে যখন আমরা মন খারাপ থাকলে খাই তা নয়, ছুটিতে থাকলে, কোনো আনন্দ উৎসবের সময়ও অনেকে বেশি খাবার খেয়ে থাকেন।
কিভাবে মোকাবেলা করবেন ইমোশনাল ইটিং তা নিয়ে হয়তো এক্ষুনি ভাবছেন? চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এ আসক্তি মারাত্মক অবস্থা ধারণ করলে পেশাদার একজন কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে আপনার মনকে প্রশান্ত করার জন্য খাওয়ার ব্যাপারটাকে এড়িয়ে চলুন বরং এ সময় হাঁটতে বের হতে পারেন, খেলাধূলা অথবা পোষাপ্রাণীদের সময় দিতে পারেন অথবা যে কোনো সেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। যখনই খাওয়ার জন্য মাত্রাতিরিক্ত তাড়না অনুভব করবেন, তখন চেষ্টা করুন মনকে অন্য কিছুতে নিবিষ্ট করতে।
সমাপ্তিতে বলা যায়, ইমোশনাল ইটিং শরীরে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি, কোলেস্টরেলের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্ট্রোকসহ নানা সমস্যার জন্ম দিতে পারে। অতএব, সাবধান! এমন বদভ্যাস ত্যাগ করে ঝরঝরে থাকুন। অতি বৃদ্ধ বয়সে কারো সাহায্য নিয়ে আপনাকে হাঁটতে হবে না, একাই হাঁটতে পারবেন। হাসপাতালে আর বাড়িত আপনাকে দৌড়াতে হবে না। প্রাণবন্ত অবস্থায় থাকবেন বেলা শেষে। ফুরফুরে মেজাজে গাইবেনÑ
‘আমার বেলা যে যায় সাঁঝ বেলাতে/ তোমার সুরে সুরে/ সুর মেলাতে...

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT