ইতিহাস ও ঐতিহ্য

চন্দ্রবিজয় ১৯৬৯ নিল আর্মস্ট্রংদের সঙ্গী ছিলেন সিলেটি বিজ্ঞানী রফিক

ফায়যুর রাহমান প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৬-২০১৭ ইং ০১:৩৬:৫৫ | সংবাদটি ৩৬৩ বার পঠিত

সত্তোরের দশকে যে ঘটনা পুরো পৃথিবীকে আলোড়িত করেছিলো, সেই চন্দ্র অভিযানের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন সিলেটি বিজ্ঞানী রফিক উদ্দিন আহমেদ। আলোচিত সেই ‘অ্যাপলো-১১’ মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোনার মডিউল-এর রাডার নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। এমনকি চন্দ্র অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। প্রচারবিমুখ সিলেটি এই বিজ্ঞানীর কীর্তির কথা জানেনই না দেশের মানুষ। জীবনসায়াহ্নে চলে আসা দেশের সূর্যসন্তান রফিক উদ্দিন আহমেদের নিভৃত বসবাস এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্মিথটাউন শহরে।
২০১০ সালের জুন মাসে রফিক উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল দক্ষিণ সুরমার গঙ্গানগরে তাঁর বাসায়। তাঁর নাতি আয়ান হকের কাছে রফিক উদ্দিনের পরিচয় জানতে পেরে আমি টানা এক সপ্তাহ তার কাছে যাওয়া আসা করেছিলাম। ওই সময় স্মৃতি হাতড়ে তিনি আমাকে চন্দ্রবিজয়ের গল্প শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন অ্যাপোলো ১১-এর সঙ্গে তাঁর যুক্ত থাকার গৌরবময় ইতিহাস।
আশি পেরুনো রফিক উদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে যুক্ত হন তরুণ বয়সে। তখন তিনি   সেদেশের ‘গ্রুম্মান অ্যারোস্পেস করপেরেশনের’ তরুণ প্রকৌশলী। সেখান থেকেই তাকে নির্বাচন করা হলো অ্যাপলো ১১ প্রকল্পে। অ্যাপলো ১১ নভোযান থেকে চাঁদে নিয়ে যাওয়া লোনার মডিউলের নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি কার্যক্রমে যুক্ত হলেন তিনি। এই প্রতিবেদককে তিনি বলছিলেন, ‘লোনার মডিউলের কাজ ছিলো মহাকাশচারীদের অ্যাপলো ১১ থেকে বহন করে চাঁদে নিয়ে যাওয়া। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করানো। এবং সেখানে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শেষ হলে আবার তাদের মহাকাশ যানে ফিরিয়ে আনা। আমার দলের কাজ ছিলো লোনার মডিউল-এর রাডার ডিজাইন করা। লোনার মডিউল যখন তৈরি হয়ে গেলো, তখন আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়লো চাঁদে অভিযানে যারা অংশ নেবেন, তাদেরকে এই যন্ত্রটির ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। অ্যাপলো ১১-এ চাঁদে পৌছার পর এই লোনার মডিউলে চড়েই মহাকাশচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন। সুতরাং এটি কীভাবে কাজ করে, কীভাবে এটিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে হবে, সেসব বিষয় শিখিয়ে দেওয়াই ছিলো আমাদের কাজ। দীর্ঘদিন এই কাজ করার ফলে মহাকাশচারীদের সাথে আমাদের সম্পর্ক গভীর হয়ে যায়।’
অ্যাপলো ১১ প্রকল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় লাখ খানেক লোক জড়িত ছিলেন। মূল প্রকল্পকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে আলাদাভাবে কাজ সম্পাদন হয়। তারপর সবকিছু একীভূত করা হয়। এটাই নাসার কাজের ধরণ।
লোনার মডিউলের কাজ কোনো রকম ক্রটি ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এবং পরবর্তী সময়ে চাঁদের অভিযানটাই সফলভাবে সমাপ্ত হয়। লোনার মডিউল সব মিলিয়ে ১৫টি তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ১০টি ব্যবহার করা হয়। ১২ জন মহাকাশচারী এগুলোতে করে চাঁদে ঘুরে আসেন।
রফিক উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘লোনার মডিউলকে ঈগল নামে ডাকা হয়। লোনার মডিউল চাঁদের কক্ষপথে পৌছার পর কমান্ড বা সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা হয়ে চাঁদে অবতরণ করে। লোনার মডিউল প্রধানত দুইটি অংশে বিভক্ত, অবতরণ অংশ (উবংপবহঃ) ও আরোহণ অংশ (অংবহঃ)। অবতরণ অংশ কমান্ড বা সার্ভিস মডিউল থেকে আলাদা হওয়ার পর চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে একটি পূর্ণ মহাকাশযান হিসেবে। কিন্তু নভোচারীরা চাঁদ থেকে ফেরত আসার সময় শুধুমাত্র লোনার মডিউলের উপরের অংশ রকেটের সাহায্যে চাঁদের ভূমি থেকে ফিরে এসে মূল মহাকাশযানের সাথে সংযুক্ত হয়। এই অংশকে আরোহণ অংশ বলা হয়ে থাকে, লোনার মডিউলের অবতরণ অংশ চাঁদের মাটিতে রয়ে যায়। আরোহণ অংশ মূল মহাকাশযানের সাথে সংযুক্ত হওয়ার পর, নভোচারীরা কমান্ড বা সার্ভিস মডিউলে চলে আসেন। আরোহণ অংশ তারপর মূল মহাকাশযান থেকে আলাদা হয়ে চাঁদের কক্ষপথে রয়ে যায়।’ ধারণা করা হয়, পরবর্তী ১ থেকে ৪ মাসের মধ্যে সেটি চাঁদের মাটিতে আছড়ে পরে, যদিও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
চাঁদে প্রথম পা রাখলেন নিল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন। অ্যাপোলো ১১-এর কমান্ডার নিল এ. আর্মস্ট্রং। লোনার মডিউলের পাইলট ছিলেন এডউইন ই. বাজ অলড্রিন জুনিয়র।  ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে পৃথিবী ছাড়ে এ্যাপলো ১১।  ১৯৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর শেষবারের মতো লোনার মডিউল ব্যবহার করা হয়।
অ্যাপলো ১১ প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর নাসা আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে চাঁদে। অ্যাডভান্স রিসার্চের জন্য ‘কমান্ড মডিউল’ নামে আরেকটি মডিউল তৈরি করা হয়। কিন্তু অভিযান চলাকালে সেটিতে ক্রটি দেখা দেয়। তখন ব্যাকআপ হিসেবে লোনার মডিউল ব্যবহার করে অভিযাত্রীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়। এই ব্যাকআপটি না থাকলে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে যেতো।
অ্যারোস্পেস কোম্পানী ‘গ্রুম্মান অ্যারোস্পেস করপেরেশনে’ তড়িৎ প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে রফিক আহমেদের কর্মজীবন শুরু হয়, ১৯৬৯ সালে। গ্রুম্মান অ্যারোস্পেসে তিনি প্রথম দিকে কাজ করেন আমেরিকান অ্যায়ারফোর্সের জন্যে রাডার ডিজাইন নিয়ে। যার অন্যতম ছিলো এফ-১৪ জঙ্গি বিমান ও ইউএস নেভির জন্যে স্পাই জেট প্রজেক্ট। একটি জঙ্গি বিমানের কাজ সম্পূর্ণ হতে কয়েক যুগ সময় লেগে যায়।
এফ-১৪ জঙ্গি বিমানের প্রজেক্টে কাজ করার সময় তাঁকে এবং তাঁর সাথে আরো কয়েকজন প্রকৌশলীকে অ্যাপালো ১১ প্রজেক্টের জন্য নির্বাচন করা হয়। এভাবে লোনার মডিউল প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হন তিনি। একজন তড়িৎ প্রকৌশলী বিভিন্ন শাখায় কাজ করতে পারেন। যেমন তিনি অ্যারোস্পেস-এর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। এরই মধ্যে কোম্পানী তাকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ করিয়েছে। নানা ধরণের কাজের জন্যে। রফিক আহমেদ প্রচন্ড আগ্রহ নিয়ে কাজ করছিলেন। তিনি জানতেন, তারা তখন যা-ই করছিলেন, তা-ই ইতিহাস হচ্ছিলো। কারণ এসব কাজ তখন পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো পরিচিত হচ্ছিল। এখানে থাকাকালে তাকে এবং তাঁর সহকর্মীদের ইরানও যেতে হয়েছিলো। তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে এফ-১৪ বিক্রি করেছিলো। সেগুলো বিক্রির পর ইরানের বিমান বাহিনীকে এটি পরিচালনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে তাদের দুই বছর ইরানে থাকতে হয়েছিলো।
রফিক আহমেদের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২০ আগস্ট সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামে। বাবা মরহুম কটন মিয়া ছিলেন এলাকার অবস্থা সম্পন্ন মানুষ। চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। গঙ্গানগর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করার পর তিনি ভর্তি হন সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে মেট্রিকুলেট ও ইন্টার পাশের পর ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী সিলেট এমসি কলেজে। সেখান থেকে বিএসসি পাশ করে ১৯৫৪ সালে তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ইন্ডিয়ানা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি হন তড়িৎ প্রকৌশল বিদ্যায়।
১৯৬৮ সালে গ্রুম্মান অ্যারোস্পেস করপোরেশনে প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের মধ্যে দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। স্ত্রী কানতা আহমেদ ও দুই মেয়ে মল্লিকা কালেন্দ্রা ও জামিলা সেভাককে নিয়েই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। বড় মেয়ে মল্লিকা বাবা পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন। এই বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। তার স্বামী ভিনম কালেনন্দ্রা ইলেকট্রনিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেলর আমেরিকায় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে জামিলা ব্যবসা প্রশাসনে এমবিএ পাশ করে কনসালটেন্সিং হিসেবে কাজ করছে নিউ ইয়র্কের ইম্পেরিয়ান কনসাল্টিংয়ে। তার স্বামী সেভাক ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত।
দূর আমেরিকায় থেকেও জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভুলে যাননি রফিক আহমেদ। দেশের জন্যে সম্মান কুড়িয়ে আনতে যেমন নিরলস কাজ করে গেছেন, তেমনি ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বহির্বিশ্বে জনমত গঠনে কাজ করেছেন তিনি। স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের সমর্থনে জাতিসংঘের সদর দফতের সামনে মানবন্ধন কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন সামন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্যে যেসব কর্মসূচী পালন করা হয়েছিলো, সেসবের  আয়োজকদের একজন ছিলেন তিনি। ভারতীয় বংশোদ্ভোদ স্ত্রী কান্তাকে নিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শোভাযাত্রা করেছেন, মানববন্ধন ও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রচুর পরিমাণে ওয়ারলেস ও কমিউনিকেশন ডিভাইস পাঠিয়েছেন মুক্তিবাহিনীর জন্যে।
রফিক উদ্দিন সেইসব দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মাধ্যমিকে পড়ার সময়ই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চিন্তাটা আমার মাথায় ঢোকে। কারণ আমার বিশ্বাস ছিলো সেখানে যেতে পারলে আমি বড় কিছু করতে পারবো। নিজের পরিবারের জন্যে, দেশের জন্যে সম্মান বয়ে আনতে পারবো।’
‘জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও মনে হয় আমি ভুল ছিলাম না। কারণ দেশের সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় দেশের জন্যে ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম বলে আজও নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে থেকে দেশবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশ্ববাসীর দৃষ্টি মুক্তিযুদ্ধের দিকে ফেরানোর জন্যে জাতিসংঘের সামনে দিনের পর দিন মানববন্ধন করেছি। এই কর্মসূচির আয়োজকদের একজন ছিলাম আমি। তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রচুর পরিমাণে ওয়ারলেস ও কমিউনিকেশন ডিভাইস দেশে পাঠিয়েছি আমার খালাতো ভাই জেনারেল এমএজি ওসমানীর কাছে। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় আমি জেনারেল ওসমানী ভাইয়ের সাথে চিঠি মারফত যোগাযোগ রক্ষা করেছি। এসব চিঠি আমার কাছে আসতো ভারত হয়ে।’
‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি এ সময় মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে আমাদের ধন্যবাদ জানান। বঙ্গবন্ধু তখন আমাদের কাছে বলেছিলেন, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কথা। আমি এখনও মনে করি বাংলাদেশ একদিন নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’
রফিক উদ্দিন একজন আশাবাদী মানুষ। তিনি মনে করেন, যতোই প্রতিবন্ধকতা থাকুক, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবেই। কারণ বাংলাদেশীরা প্রতিভাবান। তিনি বলেন, ‘কাজের সূত্রে জীবনে আমাকে নানা জায়গায় বিচরণ করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পৃথিবীর অনেক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাংলাদেশিরা। যার কিছুটা আমরা জানি, কিছুটা আড়ালেই রয়ে গেছে।’
‘নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলবো, জীবনে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত, কখনোই আশা হারানো ঠিক নয়। আমরা যখন চাঁদের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন অনেকেই এর সফলতা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। তখন একটা বাক্য সবার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, সবই সম্ভব।’
‘জীবনে চলার পথে প্রতিটি মানুষকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমিও গিয়েছি। যখন এসব যুগান্তকারী প্রকল্পের সাথে যুক্ত হই, তখন নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছি এবং সফল হয়েছি।’
‘যখন স্কুলে পড়তাম, তখন প্রায়ই শুনতাম অনেকে বলছে, মানুষ একদিন চাঁদে যাবে। তখন আমার কাছে বিষয়টি আজগুবি মনে হতো। বলতাম, এটা তো অসম্ভব। এটা পাগলামী ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু কে জানতো সেই পাগলামীর অংশ আমি নিজেই হয়ে যাবো! আজ সেকথা ভেবে যেমন লজ্জা লাগে, তেমনি গর্বও হয়। তাই আমি মনে করি বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণ প্রজন্ম নিজেদের প্রতি সুবিচার করবে এবং পৃথিবীর বাকবদলের অংশ হবে। দেশকে সত্যি সত্যি সোনার বাংলায় পরিণত করতে ভূমিকা রাখবে।’
অ্যপোলো ১১ প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর চিন্তা ছিলো অভিযান সফল হতে তো? যখন নভোযানটি পৃথিবী থেকে উড্ডয়ন করে, তখন আমি মনিটরের পর্দায় তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। দেখছিলাম সবকিছু ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। সেসময়ে কাজের প্রচন্ড চাপ ছিলো। অভারটাইম কাজ করতে হতো।
চাঁদের অভিযাত্রীরা পৃথিবীতে সফলভাবে অবতরণের মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ সমাপ্ত হয়। তখন এর সাথে জড়িতদের সম্মানে বড় পার্টির আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে আমাদের কোম্পানী অভিনন্দন পায়। এফ-১৪ জঙ্গি বিমান এবং চাঁদের অভিযান প্রকল্পের জন্যে আমাকে ও আমার সহকর্মীদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।
[প্রতিবেদনটি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন সাংবাদিক ইয়াহইয়া ফজল ও রফিক উদ্দিন আহমেদের নাতি আয়ান হক। ছবি : পারিবারিক এলবাম থেকে সংগৃহিত]

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • চন্দ্রবিজয় ১৯৬৯ নিল আর্মস্ট্রংদের সঙ্গী ছিলেন সিলেটি বিজ্ঞানী রফিক
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ফিরে দেখা সিলেটে ঐতিহাসিক গণভোট
  • ঐতিহ্যে সিলেটি ইফতার
  • সিলেটের ঐতিহ্য ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • সিলেট বেতার : মুক্তিযুদ্ধকালীন খণ্ডচিত্র
  • জামাইবাড়িতে ইফতারি : আম-কাঠলী-সন্দেশ
  • আমাদের বর্জনীয় অভ্যাসগুলি
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ঐতিহ্য হারাচ্ছে ঢাকার প্রথম মসজিদ
  • সিলেটের ঐতিহ্য ও সুরমা নদী
  • সিলেটের ঐতিহ্যবাহী নাগা মরিচ
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • শ্রীভূমি শ্রীহট্ট-কাছাড়ের প্রাচীন ইতিহাস
  • সিলেট নামটি যেভাবে এলো
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের প্রসঙ্গ কথা
  • বঙ্গ থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • Developed by: Sparkle IT