সাহিত্য

কবিতা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৬-২০১৭ ইং ০৩:৫৭:২৫ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত

আসবি না, বল্্...
আবদুস সবুর মাখন
ঘূর্ণিপাকে ঝিম ধরেছে লাটিমটা আজ
ঝিম ধরেছে মাথার মধ্যে
কিলবিল করা জন্মাবধি
ঘুন পোকারাÑ
মহাশূণ্যে মহাশক্তির নোঙ্গরটা আজ
তাক করেছে পাখী শূন্য পিঞ্জিরাটায়
এমনি কোন দুঃসময়ে
আমার কাছে আসবি না, বল?
আসবি কিনা গন্তব্যহীন
পথের ধারে দিগভ্রান্তের মতো
যদি নিরবধি ডেকে চলি...

ঘুরছে চাকা ঘুরছে কেবল
এবড়ো থেবড়ো পথের মাঝে
ক্ষণে ক্ষণে হোচট খেয়ে
ছিটকে পড়া পায়ের নীচে চোরাবালি
গভীর খাদের চোখ রাঙানীর
এমন কোন দুঃসময়ে পাশে
আমার আসবি না, বল?

ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভাঙছে বুকের
পাঁজরগুলো যেমন করে চৈতী রাতে
শুকনো পাতার আওয়াজ তুলে
রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে কোন
ঘর উদাসী সাগর পানে;
ছুটছে কোন ডিঙি নৌকা
ছেঁড়া পালে ভাঙা মাস্তুল আটকে ধরে
যদি ডাকি-
আসবি না, বল-নিভে যাওয়া
বাতিঘরটায় আলো দিতে?

বৃত্তের মাঝে বন্দী জীবন
অনাদিকাল রুটিন মাফিক সকাল থেকে
সন্ধ্যাবধি শীতগ্রীষ্ম ঝড়ের আঘাত
সামলে রেখে
বিবর্তনের প্রত্যাশাতে চেয়ে থাকি;
প্রতি ভোরে পূবাকাশে সূর্য ওঠে
আলোর ছটা ভূবন জোড়ায়-
বিজলী ঝলক আমার চোখে
চমক দিয়ে যায় পালিয়ে
আসবি না, বল- মুঠো ভর্তি
আলো নিয়ে?

বৃত্তান্ত
সুমন বনিক
চাকুরিটা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছি
তিলে তিলে ক্ষয়িষ্ণু জীবন
হচ্ছে বিপন্ন।
কী করবো
চারটি মুখ হা করে তাকিয়ে, আকাক্সক্ষা-
শুধুই অন্ন।

জীবনের রঙ ফিকে
নেই কোলাহল
আমৃত্যু করবো পান
কষ্টের হলাহল।

সুরমা
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
চৈত্রে যে সুরমা ছিল, জলহীন মরুভূমি বুক
খানে খানে জেগেছিল, বালুময় অনাবাদী চর
ফিঙে পাখির মতোই জমেছিল, মনে তার দুখ
বৃষ্টির আশায় থেকে ওঠেছিল আর্তনাদ স্বর!

আকাশে পৌঁছলো বাণী, মেঘেরা ডাকলো গুড়– গুড়–
চমকালো বিজলীও, দমকা হাওয়াসহ ঝড়
তুমুল আনন্দে যেন, একটানা বৃষ্টি হল শুরু
প্রহর প্রহর জুড়ে। প্লাবিত ভিটে, মাটি, ঘর!

এখন টইটম্বুর আছে, আমার সুরমা নদী
উপচে পড়ছে ওর মোহনীয় সবুজ যৌবন
সিলেট শহরে বন্ধু, একবার দেখে যেতে যদি
প্রেমজল পিয়ে পিয়ে মনে হত পেয়েছ মৌবন!

রূপে-রসে সুশোভিত অপরূপ সুরমা আমার
কবিতা লিখতে কবি প্রেরণা পাবেই এইবার।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT