উপ সম্পাদকীয়

এক ঘরে কাতার : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সংকট

এডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং ০২:১৪:৫৫ | সংবাদটি ২৭১ বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটেছে জুনের প্রথম সপ্তাহে। আমেরিকার পরম মিত্র ও সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত কাতার রাষ্ট্রকে জলে-স্থলে এবং আকাশে সর্বোতোভাবে বয়কট করার ঘোষণ দিয়েছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহ। যথাক্রমে সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর।
কাতার উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র তেল উৎপাদক ও সরবরাহকারী একটি ধনী রাষ্ট্র বটে। তবে সামরিক প্রতিরক্ষায় কাতার অনেক পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর সামরিক গুরুত্ব যেমন উপসাগরীয় অঞ্চলে, তেমনি আমেরিকার নিকটও অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, এই কাতারের উদেইদ এলাকায়ই রয়েছে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেইছ এবং এই এয়ার বেইছ হচ্ছে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর। সমগ্র এই মধ্যপাচ্য অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক প্রভাব ও আধিপত্যের জন্য সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নাতীত। এই এয়ারবেইছে রয়েছে দশ হাজার আমেরিকান সৈন্য। এই এয়ারবেইছ থেকেই সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন এবং আফগানিস্তানে আমেরিকা তার সামরিক অভিযানগুলো পরিচালনা করে থাকে। এসব কারণে আমেরিকার নিকট কাতারের গুরুত্ব সর্বাধিক এবং তাই কাতার সুদীর্ঘ সময়কাল ধরে আমেরিকার বিশ্বস্ত মিত্র। গেলো মে মাসের শেষভাগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সৌদিআরব সফর করেছিলেন, তখন তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল খানির সাথে একান্তে বৈঠকও করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাতারকে আমেরিকার ‘ফ্রেন্ডস ফর এ লং টাইম’ বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং কাতারের নিকট প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে কথা বলেছিলেন। এই যখন কাতারের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক তখন আমেরিকা কাতারের সংকটকালে পাশে এসে দাঁড়াবে এমনটাই মনে করা হয়েছিলো। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে তার উল্টোটা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় কাতারকে বয়কট করার পক্ষেই সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। এটিই হলো সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয়। তাই সারা দুনিয়ায় এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং এ নিয়ে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা ও চুলছেড়া বিশ্লেষণ।
উল্লেখ্য যে, কাতার গালফ কো অপারেটিভ কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য অংশীদার। ১৯৮১ সালে অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার ছয়টি রাষ্ট্র, অর্র্থ্যাৎ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সৌদিআরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমন্বয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদির লক্ষ্যার্জন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার জন্য গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি গঠিত হয়েছিলো এবং এই জিসিসি-এর অন্যতম অংশীদার কাতারের বিরুদ্ধে অপর তিন অংশীদার সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন অবরোধ আরোপ করে কাতারের সাথে সর্বপ্রকার সম্পর্কচ্ছেদ করে এবং সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র মিসর। অন্যদিকে কাতারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইরান এবং তুরস্ক। অর্র্থ্যাৎ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রাজনৈতিক পোলারাইজেশন এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। অথচ গত মে মাসে সৌদিআরব সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে মিঃ ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এই বিভাজনের রাজনীতিতে একটি পক্ষের সমর্থনে টুইট বার্তা দিয়ে কী লক্ষ্যার্জন করতে চাইছেন, এটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউজ এক ঘোষণায় জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।
কাতারকে বয়কটের ঘোষণাটি আচমকাই এসেছে। পাঁচই জুন ২০১৭ সালের গ্রীনিচমান সময় ০২.৫০ মিঃ-এর সময় জিসিসি সদস্য রাষ্ট্র বাহরাইন কাতারের সাথে সকল সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষণা করে এবং এর পর পরই সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর বাহরাইনকে অনুসরণ করে কাতারের সাথে সকল প্রকার সম্পর্কচ্ছেদের কথা জানিয়ে দেয়। মিসর জিসিসিভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। তবে সৌদিআরব এবং আমেরিকার রয়েছে সম্পর্ক। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিশ্বস্থ মিত্র হলো মিসর। আর সৌদিআরবের সাথে আমেরিকার মিত্রতা সুবিদিত। কাজেই আমেরিকার অজান্তে ঐ রাষ্ট্রগুলো কাতারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে-এমনটা বোধ হয় ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং আমেরিকার ইন্ধনেই এমন একটা সিদ্ধান্ত এসেছে বলেই মনে করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।
কাতারকে একঘরে করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আর্থিক, নৈতিক ও মিডিয়ার মাধ্যমে সাহায্য-সহযোগিতা করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মীয় দল-উপদল, যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত, যেমন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত লেবাননের ব্রাদারহুড, দায়েস (আই এস আই এস), আল কায়দা সহ অপরাপর সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা দিয়ে এবং কাতারের বিখ্যাত মিডিয়া, যেটি আন্তর্জাতিকভাবে খুবই প্রভাবশালী মিডিয়া হিসেবে সুপরিচিত, সেই আল জাজিরার মাধ্যমে উপরোক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে উৎসাহ ও মদদ দিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। কাতারের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হয়েছে যে, দেশটি গোপনে ও প্রকাশ্যে শিয়া রাষ্ট্র ইরানের সাথে বিশেষ এক সম্পর্ক রেখে চলেছে-যা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পর্যবেক্ষকরা এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, কাতারের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের মধ্যে ‘ইরান ফ্যাক্টর’ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সাথে কাতারের সুস্পষ্ট সমর্থন, যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টি আমেরিকা এবং সৌদিআরব এবং এমনকী ইসরাইলও কখনো ভালো চোখে দেখেনি। ইরানের সাথে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না বলেই সৌদিআরব ও আমেরিকা কাতারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একমত। সৌদিআরব সফরকালেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এমন ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত এবং তারই প্রেক্ষিতে সৌদিআরবের ইঙ্গিতে বাহরাইন প্রথমে সম্পর্কচ্ছেদ করে এবং পরে সৌদি সহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো সেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কাতারকে একঘরে করার পক্ষেই সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
একটা সময় ইরানের সাথে আমেরিকার মিত্রতা ছিলো সুবিদিত। কিন্তু ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক তলানিতে এসেছিলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি বিপ্লব রপ্তানির নামে ইরান পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে আমেরিকা অভিযোগ তুলে। আমেরিকার বিশ্বস্থ মিত্র ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং অস্তিত্বের জন্য ইরান বিরাট হুমকি, এই অভিযোগও উত্থাপন করে আমেরিকা ও ইসরাইল। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া শাসিত দেশগুলোতে অর্থ, অস্ত্র সরবরাহ করে ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনেরও বরখেলাপ করে আসছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমন কী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করছে বলেও অভিযোগ এনে আমেরিকাও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক এমন পর্যায়ে গিয়েছিলো যে দেশ দুটো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বলেও আশংকা করা হয়েছিলো। ইরানের সাথে আমেরিকার এই শত্রুতা নীতির কট্টর সমর্থন হলো সৌদিআরব। কেননা, সৌদিআরব এবং ইরান দুটি রাষ্ট্রই আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশে সচেষ্ট। সৌদিআরব বিশ্বাস করে আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতায় ইরান তার প্রধান প্রতিপক্ষ এবং শত্রু। কাজেই ইরানকে দমন করতে যে কোনো রাষ্ট্রের সাথে হাত মেলাতে সৌদিআরবের কোনো অনীহা নেই। অন্যদিকে আমেরিকার অবস্থান ও তাই। যে কোনো ভাবেই হোক আমেরিকা ইরানকে প্রতিরোধ করতে সচেষ্ট। কেননা, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনীদের জন্য বিষফোঁড়া এবং এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানই দায়ি বলে মনে করে আমেরিকান শাসকগোষ্ঠী। তাই একসময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে শয়তানের সাথে তুলনা করেছিলেন। কাজেই ইরানকে শায়েস্তা করতে আমেরিকা, সৌদিআরব, মিসর প্রভৃতি রাষ্ট্র যেখানে সদা তৎপর সেখানে কাতার ইরানের সাথে বিশেষ সম্পর্ক রেখে চলেছে,-এটি কোনোভাবেই আমেরিকা ও সৌদিআরব মেনে নিবেনা, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই কাতারের বিরুদ্ধে একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যে একান্ত আবশ্যক সেটির বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত সৌদিআরব এবং আমেরিকা। তাই পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, অন্যান্য অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও কাতারকে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে ব্লক করার পেছনের মূল কারণ হলো ইরানের সাথে কাতারের গোপন যোগাযোগ সম্পর্ক স্থাপন করা।
অন্যদিকে, পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিশেষ মিত্র ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য এবং সর্বোপরি, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার খবরদারি ও তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, আমেরিকার বিশেষ জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রাধান্য বহাল রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভাজন জিইয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই মিঃ ট্রাম্প মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতা গড়ে তোলার জন্য আহবান জানালেও ঐ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ জিইয়ে রাখারই পক্ষপাতি এবং ঐ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ উসকে দেবার জন্যেই পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়ে সৌদির মাধ্যমে কাতারকে একঘরে করে রাখার জন্য মূল কাজটি করেছে আমেরিকা। এটি আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য অশনি সংকেত। এটি আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভেদ ও শত্রুতাকে দীর্ঘস্থায়ী করবে বলেই মনে হয়।
লেখক : আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও কলামিস্ট।     

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ঙ্কর রূপ
  • শিশুর জন্য চার সুরক্ষা
  • বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের সংকট ও প্রতিক্রিয়া
  • সম্ভাবনার অঞ্চল সিলেট
  • স্বপ্নের বাজেট : বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ
  • বাচ্চাটা একটা খেলনা ফোন চেয়েছিল
  • স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে কিছু প্রস্তাবনা
  • চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ
  • সিরিয়ার আকাশে শকুনের ভীড়-সামাল দিবে কে!
  • টের পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বকাপ প্রলয়
  • মাছের পোনা দেশের সোনা
  • শিক্ষা ব্যবস্থার হালচাল
  • যৌতুক, ইফতারি, আমকাঁঠলি বনাম নারী নির্যাতন প্রসঙ্গ
  • ঈদযাত্রায় ভোগান্তি রোধে ব্যবস্থা জরুরি
  • বজ্রপাত শনাক্তকরণ সেন্সর এবং কৃষকের সেন্স
  • মাদক সমস্যার প্রতিকার
  • শিক্ষা খাত ও জাতীয় বাজেট
  • ফুটবল বিশ্বকাপ ছড়িয়ে দিক সম্প্রীতির বার্তা
  • আসুন, আমরা মাদককে না বলি
  • মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন
  • Developed by: Sparkle IT