উপ সম্পাদকীয়

পথ ও পথিক

বেলাল আহমদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং ০২:১৯:২৩ | সংবাদটি ১০৬ বার পঠিত

পথ পথিকের জন্য। তাই বলে পথিক পথের মধ্যস্থল দিয়ে চলতে পারে না। কাজেই, পথিককে চলতে হবে তার জন্য নির্দিষ্ট ফুটপাত দিয়ে। কিন্তু পথ তুমি কার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে নগরবাসী। উল্লেখ্য, সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতির একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৫ মে সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক বিজ্ঞ হাকিম জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংলগ্ন ফুটপাতে অবৈধ দখলদার, নেপথ্যে থাকা দখলদার ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা তদন্ত করে আদালতে দাখিল করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) -কে নির্দ্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় বিজ্ঞ আদালতের এই নির্দ্দেশনায় জনগণের মনের কথাই প্রকাশ পেয়েছে। প্রয়াত জাহানারা ইমামের কথায় বলতে হয়-জনগণের ইচ্ছাই সবচেয়ে বড় আইন। সিলেট মহানগরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত সুন্দর নগর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সম্প্রতি মেয়রের ডাকে সর্বদলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা সিসিকের জন্য ইতিবাচক সাফল্য বয়ে আনবে বলে জনগণ মনে করেন। যেহেতু রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সর্বাত্মক সহযোগীতা পাচ্ছেন সিসিক। রুজভেল্টের বিখ্যাত মটো ছিল-ঞযব ড়হষু ঃযরহম ঃড় ভবধৎ রং ভবধৎ একমাত্র ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে ভয়। নগর জীবনে পথিকের পথ চলাকে সুখময় করতে আর কোন বাধা নেই। নগরবাসী ডায়নামিক মেয়রকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে এবং নগরবাসী সিসিকের নিরপেক্ষ সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখতে চায়।
একজন নগরবাসী হিসাবে ইতিপূর্বে সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাকে প্রকাশিত ‘ফুটপাত তুমি কার’? ‘জনদুর্ভোগ নিরসনে রিক্সাভাড়া নিয়ন্ত্রণ’, ‘যানজট সমস্যা ও প্রতিকার’ বিষয়ক নিবন্ধ লিখেছিলাম। যাত্রী সেবার সুবিধার জন্য সড়কের পার্শ্বে সাইনবোর্ডে রিক্সাভাড়া হার সেটে দেয়া হয়েছে। যানজট সমস্যা নিরসনে প্রতিকারের ব্যবস্থার জন্য মহানগরে করিম উল্লাহ মার্কেটের সম্মুখে তথা অন্যান্য সড়কে ডিভাইডার দিয়ে ওয়ানওয়ে রাস্তা চালু করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি কমে এসেছে এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন আলোচ্য বিষয় হলো মহানগরের মানুষ জট ও যানজটের মোকাবেলায় ‘হকার সমস্যা’ প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধান করতে হলে এ্যারিথম্যাটিকেল প্রসেসে এগুতে হবে। এতে করে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙ্গবে না।
উল্লেখ্য মানুষ জটের মধ্যে ‘হকার জট’ এখন আমাদের গোঁদের’পর ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ হকার বলে তাদেরকে আলাদা জাত বা বর্ণ হিসাবে দূরে রাখা যাবে না। যেহেতু ওরা হকার ধূলি-ধূসর দেহে অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাদ্যসহ অন্য সব ধরণের উপকরণ আমাদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিচ্ছেন। দারিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিতদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের যথাযোগ্য বিবেচনা করতে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে কোন ধরণের ইফিসিয়েনসি সফল হবে না। বহমান স্রোতে বাঁধ টিকিয়ে রাখতে হলে বিকল্প হিসাবে সুইচগেইট কিংবা সারফেইস ওয়াটারের জন্য বিকল্প হিসাবে ড্রেন বা শাখা খাল নদী খনন করতে হয়, তা না হলে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করে। অনুসন্ধানে জানা যায় হকারের চাইতে হকার নেতাদের দৌরাত্ব বড় সমস্যা। হকার সমস্যা সৃষ্টির নেপথ্য শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। হকার সমস্যা সমাধানে দরকার সমন্বিত ঐক্য জোট। হাল আমলে অনেক দেশে নাগরিক সনদের উদ্দেশ্যে সার্ভিস ফাস্ট এর মূলনীতি বিধৃত হচ্ছে। সিসিক বিভিন্ন পেশা ও প্রান্ত সীমার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যবসার নিরাপত্তা  নিশ্চিত করার লক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি নিতে পারেন। ফুটপাতে হাঁটা- পথিকের অধিকার/ফুটপাতে ফেরী করা- চায় হকার। এ দু’টো সমস্যা সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে এর সমাধান করতে হলে বিকল্প বাস্তবমুখী পরীক্ষামূলক কতিপয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এতদ্বিষয়ে একজন নাগরিক হিসাবে একটি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করছি।
সিলেট মহানগরের বিশেষত: ১। চৌহাট্টা ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে মধুবন মার্কেট সম্মুখস্থ ট্রাফিক পয়েন্ট; ২। বারুতখানা চৌরাস্তা থেকে পশ্চিমমুখী জল্লারপাড় রোড পর্যন্ত রাস্তা দু’টো কোর জোন হিসাবে যদি বিবেচনা করা হয় তা হলে দেখা যাবে বর্ণিত রাস্তার উভয় পার্শ্বে রয়েছে বিপনীবিতান, শপিংমল, হোটেল রেস্তোরা সহ বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যাংক সমূহ। এতসব বিপনী বিতান ও প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রয়েছে উপচে পড়া যানজট/মানুষজট বা ভীড়। সিলেটে একটি প্রবাদ আছে- ‘নাও টানা যায়, কিন্তু রথ টানা যায় না’। এমতাবস্থায় বর্ণিত রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সব ধরণের যান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ রাখা যেতে পারে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনাসহ জরুরী সংকটে এ্যম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গাড়ী নিষেধাজ্ঞার বাহিরে থাকবে।
মূল কথায় আসা যাক- ‘রথও দেখা, কলাও বেচা’ এই প্রবাদকে লক্ষ্য করে হকারদেরকে উপরোল্লেখিত রাস্তায় বিকাল ৫টা থেকে বসার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে শর্ত থাকবে হকার দিনের অন্য সময় মাহনগরের যত্রতত্র বসতে পারবেন না। বর্ণিত রাস্তায় যান্ত্রিক যানের অধিপত্য না থাকার দরুন পায়ে চলার পথ সুগম হবে এবং পথচারীরা শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোতে কেনা-কাটা করতে পারবেন। অপরদিকে হকারদেরও সাময়িক অস্থায়ী পূর্নবাসনসহ হাড়িতে ভাত জুটবে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT