শিশু মেলা

অদৃশ্য জেরীর প্রতিশোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং ০২:১৯:৪৪ | সংবাদটি ১১৪ বার পঠিত


(পূর্ব প্রকাশের পর)
তবে আর বিস্ময় নয়। প্রবল আতংকে শিউরে উঠলো সে। একছুটে নিজের সোফার আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে রইলো। ভয়ে তার জিভ বেরিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় টম গেল তার জন্যে রাখা দুধের পাত্রের দিকে। দুধের পাত্রটিতে যেই টম মুখ দিতে যাবে- তখন দেখা গেল সেটা নড়ে চড়ে সরে যাচ্ছে দূরে। টম নিজের চোখ চুলকে দেখলো। দুধের পাত্রটি নড়ে চড়ে বেড়াচ্ছে। টম কিছুতেই তার নাগাল পাচ্ছে না। একসময় টম পাত্রটি চেপে ধরে দুধটুকু এক চুমুকে খেয়ে ফেলতে চাইলো। কিন্তু অদৃশ্য শক্তি সেই দুধটুকু চোখের নিমেষে খেয়ে নিঃশেষ করে দিল।
ভয়ে আর আতংকে টমের গায়ের লোমগুলো খাড়া হয়ে গেল। নির্ঘাত তার কোনো জটিল অসুখ করেছে। তা না হলে এই দিন দুপুরে অসম্ভব সব ঘটনার দৃশ্য তার চোখের সামনে ঘটছে কী করে।
এবার টম ছুটে গেল আয়নার সামনে। তার চোখে মুখে কোনো পাগলামীর ছাপ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে। চোখের পাতা, চুল এমনকি নিজের জিভ বের করেও দেখলো টম। সবকিছু স্বাভাবিক লাগলো তার কাছে। তখন তার মনে হলো হয়তো রাত জেগে পাহারা দিতে দিতে তার চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে গিয়েছে। সুতরাং ডাইনিং রুমের সোফার সামনে বালিশ পেতে সে ঘুমানোর বন্দোবস্ত করলো।
ওদিকে জেরী এতোদিনে তার প্রতিশোধ নেবার সুযোগ পেয়েছে। সে এবার এক প্যাকেট ম্যাচ নিয়ে এলো। তারপর পুরো ম্যাচটি টমের পায়ের ফাঁকে গুঁজে দিয়ে ম্যাচটির সবগুলো কাটিতে আগুন ধরিয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই টমের পায়ে আগুন ধরে গেল। প্রবল ধোঁয়া আর আগুনে ছেয়ে গেল ঘরের ভেতরটা। টম চেঁচিয়ে উঠলো নিজের পায়ের আগুন দেখে। মুহূর্তের মধ্যে তার ঘুম উবে গেল চোখ থেকে। সে লাফিয়ে ছুটলো পানির পাত্রের কাছে। পুরো পা পানির পাত্রে ডুবিয়ে দিয়ে পায়ের জ্বলুনী থেকে বাঁচার চেষ্টা করলো।
এসবের ফাঁকে ডাইনিং টেবিলের দিকে দৃষ্টি গেল টমের। সেখানে চলছে আজব কা- কারখানা। কোথাও কেউ নেই, অথচ ডাইনিং টেবিলে রাখা কলাটির খোসা ছাড়িয়ে সেটা যেন কেউ খেয়ে ফেলছে। কিন্তু কে হতে পারে সেটা। ভূত-প্রেতে বিশ্বাস নেই টমের। তাহলে কে?
গভীর সাহস সঞ্চয় করে খুব ভালোভাবে টম তাকালো কলাটির দিকে। সাথে সাথে তার চোখ চলে গেল দেয়ালে পড়া ছায়ার দিকে। সেখানে সে দেখতে পেল জেরীর ছায়া পড়েছে দেয়ালে। জেরী আয়েশ করে বসে কলা ছিলে খাচ্ছে।
জেরীর ছায়া দেখে টম বুঝতে পারলো কোনো না কোনো কারণে, জেরী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। এখন অদৃশ্য হওয়ার ফায়দা লুটছে। তবে সে শুধু নিজের শরীরকেই অদৃশ্য করতে পেরেছে। কিন্তু নিজের ছায়াটাকে অদৃশ্য করতে পারেনি।
টম তখন কয়েকটি বই গুছিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেল জেরীর ছায়ার দিকে। তারপর প্রাণপণ শক্তিতে কলার ওপর জোরে আঘাত করলো বইগুলো দিয়ে।
তার আঘাতে জেরীর মাথায় লম্বা আলুর আকৃতিতে ফুলে উঠলো। দেয়ালের ছায়ায় সেই দৃশ্য দেখে যারপর নাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠলো টম। তারপর দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করলো জেরীকে। কিন্তু জেরী তার হাতের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল। যাবার সময় আপেলটিকে শূন্যে তুলে নিয়ে গেল।
এবার টম সারা ঘরে ময়দা ছিটিয়ে দিল। এবার জেরী যদি এই ময়দার ওপর দিয়ে যায়-তাহলে অনায়াসে টম তাকে ধরে ফেলতে পারবে।
জেরী ময়দার ওপর দিয়ে দৌড়াতে যেতেই টম তাকে আক্রমণ করে বসলো। একটা বড়ো চাদর দিয়ে চাপা দিল জেরীকে। জেরী সেই চাদরের নিচ দিয়ে ইতিউতি দৌড়াদৌড়ি করতে লাগলো। টম তখন চাদরটিকে ভাঁজ করে মেঝেতে ফেললো। তারপর একটা ফ্রাইপ্যান নিয়ে এসে বাড়ি দিতে শুরু করলো চাদরটির এখানে ওখানে। ওদিকে জেরী কোনো এক ফাঁকে চাঁদরের নিচ থেকে বেরিয়ে গিয়ে একটা গলফ স্টিক হাতে তুলে নিল। তারপর মোক্ষম একটা মার লাগালো টমের পেছন দিকটায়।
প্রবল ব্যথায় কাতরে উঠলো টম। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে তাড়া করলো জেরীর ময়দা মাখা পদচিহ্ন সহ গলফ স্টিককে। জেরী এক দৌড়ে ছুটে গেল বাড়ির বাঘা কুত্তা রঘুর কাছে। রঘু তখন সবেমাত্র খাওয়া শেষ করে ঘুমের এন্তেজাম করছে। তার চোখ দুটো বন্ধ। এই অবস্থায় জেরী তার গলফ্ স্টিক দিয়ে রঘুর মাথায় প্রাণপণে বাড়ি কষালো। রঘু সেই বাড়ি খেয়ে মেঝে ফুটো করে নিচে পড়ে গেল। এদিকে রঘুর মাথায় বাড়ি দেবার সাথে সাথে গলফ স্টিকটি টমের হাতে তুলে দিল জেরী। টম হতভম্বের মতো গলফ স্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রইলো। এদিকে মেঝের গর্ত থেকে উপরে উঠেই গফল স্টিক হাতে টমকে দেখলো বাঘা কুত্তা। তার মনে হলো-টমই তাকে আঘাত করেছে ঐ স্টিক দিয়ে। প্রচ- খেপে গেল রঘু। তারপর সে টমের হাত থেকে গলফ স্টিকটি কেড়ে নিয়ে আঘাত করলো টমের পেছন দিকটায়। আঘাত পেয়ে টম দৌড়াতে শুরু করলো। তার পেছন পেছন গলফ স্টিক হাতে দৌড় দিল রঘু। মাঝে মাঝে গলফ স্টিক দিয়ে টমের পেছন দিকটায় আঘাত করছে সে। দৌড়াতে দৌড়াতে তারা বাড়ির বাইরে চলে এলো। সেখানেও টমের রেহাই নেই। রঘু তাকে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে নিয়ে গেল। তার ইচ্ছা এভাবে মারতে মারতে তাকে গলফ খেলার গ্রাউন্ডে নিয়ে যাবে।
এদিকে জেরী তখন টমের এই দুরাবস্থা দেখে খুব খুশি। সে হাসতে হাসতে নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। আজকের মতো অনেক উত্তেজনা হয়েছে। খাওয়াও হয়েছে প্রচুর। সুতরাং এখন নিশ্চিন্তে ঘুমানো দরকার। কিন্তু বালিশে মাথা রাখতেই জেরী লক্ষ্য করলো, তার শরীর আবার আগের মতো দৃশ্যমান হচ্ছে। অর্থাৎ মোটামুটি ২ ঘণ্টার মতো সময়ের জন্যে জেরী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। তবে জেরী এতে আর অখুশী নয়। কারণ, অদৃশ্য কালির পাত্রটি সে তার ঘরে নিয়ে এসেছে। যখনই প্রয়োজন হবে- তখনই সে এই পাত্রে একবার ডুব দিয়ে ২ ঘন্টার জন্যে অদৃশ্য হয়ে যাবে। তারপর মনের সুখে খাওয়া দাওয়া সারবে। আর মাঝে মধ্যে দুষ্টু বেড়াল টমকে উচিত শিক্ষা দেবে। (সমাপ্ত)

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT