শিশু মেলা

শিশুর মেধাবিকাশে অভিভাবক ও পরিবারের করণীয়

সাজিদ মাহমুদ প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং ০২:২০:২৯ | সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আজকের ছোট্র শিশুকে যদি সৎ আদর্শ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলা যায়; তাহলে আগামী দিনে জাতি পাবে এক একজন যোগ্য নাগরিক। তাই আগামীর প্রয়োজনে আজকের শিশুকে সৎ, আদর্শ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কাঁদামাটি দিয়ে যেমন খুশি হাঁড়ি-পাতিল, খেলার পুতুল সহ নানা রঙের নানা রকমের বাহারি পণ্য তৈরি করা যায় মাটি শুকিয়ে গেলে তা সহজে  করা সম্ভব হয় না। বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে ‘কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস’। তেমনি একজন শিশু পরিবার থেকে আদর যতœ এবং সঠিক শিক্ষা পেলে সে হতে পারে দেশের সেরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, লেখক, গবেষক, কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিক। শিশুর মেধা বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে পরিবার। পরিবারই শিশুর প্রথম আদর্শ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের অনুসরণ অনুকরণের মাধ্যমে শিশুরা বেড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যরা শিশুর সাথে যেমন আচরণ করবে শিশুরা সে রকম মন মানসিকতা ও মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠবে। তাই পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের সর্বদা তাদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। এমন কোনো আচরণ করা ঠিক হবে না যাতে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তাই শিশুর প্রতি পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের করণীয় হলো-
১. শিশুকে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে। কেননা ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে আদর্শ ও নৈতিক চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলে। কোনো ধর্ম অনৈতিকতা ও আদর্শহীনতা সমর্থন করে না। শিশু যদি ধর্মীয় মূল্যেবোধ নিয়ে বেড়ে ওঠে তাহলে তার কাছে কোন প্রকার অন্যায় ও দুর্নীতি আশ্রয় পাবে না।
২. শিশুর সাথে কোনোরূপ অবহেলা পূর্ণ আচরণ করা যাবে না। এতে করে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়। রাসূল (সা) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি শিশুকে ¯েœহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমার দলভুক্ত নয়’। আল্লাহর ও রাসূল (সা) এর ভালোবাসা পেতে হলে আমাদেরকে শিশুদের ভালোবাসতে হবে।
৩. শিশুকে সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার ব্যাপারে সর্বদা উৎসাহ প্রদান করতে হবে। তবে অতি বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয় পোশাক ব্যবহারের সুযোগ দেয়া যাবে না,সুযোগ দিলে শিশুর উচ্চ বিলাসিতার মনোভাব সৃষ্টি হবে। যা পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
৪. শিশুর সাথে নরম ও ভদ্র ভাষায় কথা বলতে হবে, শিশুর সাথে গরম, কর্কশ ও মন্দ ভাষায় কথা বলা যাবে না। শিশুর সাথে গরম,কর্কশ ও মন্দ ভাষায় কথা বলা পরিহার করতে হবে।
৫. শিশুর সামনে পরিবারের কেউ ঝগড়া-বিবাদ করবেন না। এতে করে শিশুর উপর তার প্রভাব পড়বে। শিশু ঝগড়ার মনোভাব নিয়ে বড় হলে সন্ত্রাসী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৬. কোন কাজ করতে গিয়ে হেরে গেলে শিশুকে বকাঝকা ও গালি-গালাজ করবেন না। বরং এসময় তার  পাশে দাঁড়ান তাকে উৎসাহ দিন। তাকে বলতে হবে আজ পারো নি তো কি হয়েছে আগামীতে পারবে। এক্ষেত্রে তার সামনে বিখ্যাত মনীষিদের উদাহরণ পেশ করতে হবে।
৭. ভালো কোনো কাজ করলে শিশুকে উৎসাহ দিন। তাকে ধন্যবাদ, মারহাবা, মোবারকবাদ, ভেরি গুড ইত্যাদি বলে উৎসাহ দিন। এতে করে শিশুর মেধার বিকাশ হবে এবং ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ বাড়বে।
৮. শিশুর সামনে কখনো মিথ্যা কথা বলবেন না। তাকে মিথ্যা আশ্বাস দেবেন না। কিংবা তাকে দিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যা কথা বলাবেন না। এক সময় দেখবেন আপনার মিথ্যা কথা শুনে সেও মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে। এবং মিথ্যা কথা বলতে কোনোরূপ দ্বিধাবোধ করছে না।
৯. শিশুর সামনে কখনো অশ্লীল গান-বাজনা ও ভিডিও বাজাবেন না। কেননা এতে করে শিশুর চরিত্র খারাপ ও নৈতিক অধ:পতন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
১০. শিশুর সামনে কখনো ধূমপান করবেন না। কিংবা তাকে দিয়ে কোনো প্রকার বিড়ি-সিগারেট ক্রয় করাবেন না। ধূমপান করে আপনি যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তার চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে আপনার শিশু। এবং এতে করে মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
১১. প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় আপনার শিশুর জন্য ব্যয় করার চেষ্টা করুন। এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন।   
১২. সর্বোপরি শিশুকে এমন কোনো কাজ দেবেন না বা শিশুকে এমন কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না যাতে তার মেধাবিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।  
শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে উঠা ও তাদের মেধা বিকাশের জন্য আমাদের উচিত শিশুদের সাথে এসকল আচরণ পরিহার করে চলা। শিশুদের সাথে এ কাজগুলো করে চলতে পারলে আজকের শিশুরা আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। যাদের যোগ্য নেতৃত্বে জাতি উন্নতির শিখরে আরোহন করবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT