শিশু মেলা

এ সপ্তাহের ছড়া

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৬-২০১৭ ইং ০২:২১:৩০ | সংবাদটি ১০৮ বার পঠিত

গলার কাঁটা
জয়নাল আবেদীন জুয়েল
গলার কাঁটা গলায় রেখে
ঘুমায় যারা স্বস্থিতে,
তারাই বলে এই জামানার
খেজুর গাছের রস তিতে।
তর্ক করে মুর্খ যারা
ঘরের বাতি নেভালো,
তারাই এখন প্রশ্ন তোলে
কে খারাপ আর কে ভালো।
এই ভাঁড়ামীর শেষ যে কোথায়
হাড্ডি যারা চিবালো,
তাদের দেখে সেলাম ঠুকে
বলবে আহা! কি ভালো।

ছড়ার মিতাং
সিরাজ উদ্দিন শিরুল
ছড়ার শরীর হালকা চালে
মাত্রা ছাড়া ফুটুস,
শব্দ চয়ন ছন্দ তালে
বাজে কাটুস কুটুস;

ছড়ার ভাষা ধিতাং ধিতাং
তুঙ্গে ওঠে লম্ফ দেয়,
ছড়ার পিতাং মিতাং মিতাং
অগ্নি বারুদ কম্প দেয়;

ছড়ার অনল ঝড়ের বেগে
ইষাণ কোণে তীর মারে,
ছড়ায় থাকে সাম্য প্রীতি
ভাতু গৃহের নীড় ধারে;

সবাই এখন রোজা
সৈয়দ আছলাম হোসেন
খায়া বন্ধ ধাওয়া বন্ধ
বন্ধ খাওয়া ঘুষ
লোভ বন্ধ ক্ষোভ বন্ধ
বন্ধ সকল দোষ।

পাপ বন্ধ ধাপ বন্ধ
বন্ধ ঘোরাঘুরি
শয়তান এরা বন্দী এখন
বন্ধ সকল চুরি।

ত্রাস বন্ধ, ঘ্রাস বন্ধ
বন্ধ খারাপ পেশা
মদ বন্ধ গাঁজা বন্ধ
বন্ধ ধূমের নেশা।

বাঁকা পথ ফেলে দেখি
এখন সবাই সোজা
এতো কিছুর কারণ হচ্ছে
সবাই এখন রোজা।

পদক
মিনহাজ ফয়সল
পদক দিলে পদক মিলে
সুবিধা হয় জোট হলে
পদক দাতার কেরামতি
বুঝা যেতো ভোট হলে।

পদক পাওয়ার যোগ্য এখন
যারা বেশি বই করে
পড়ালেখার নেই প্রয়োজন
পদক বেঁচো সই করে!

বড়ো পদক ছোট পদক
পদক নামে রং আছে
পদক পাওয়ার মন্ত্র পাঠে
বহু রকম ঢং আছে!

পদক নাকি খেলনা হলো
বায়না করে মিলে তা
পদক দাতা মহাখুশি
বাহবা পাবে দিলে তা!

পদক দিবে পদক পাবে
ভালো-মন্দ দিক আছে
যোগ্য মানুষ পদক দিলে
গ্রহণ করা ঠিক আছে।

বাংলা ভাষা
সালেহা আফরীন বেবী
বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা আমার দেশ
বাংলা ভাষায় হাসি গানে
ভালো আছি বেশ,
শিমুল পলাশ ফুটে এখানে
সবুজ বনে ফাগুন সেখানে
ভাষার জন্যে রক্ত দান
বাংলা ভাষা আমার প্রাণ।

দয়াময় আমার
এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী
আল্লাহ দয়াবান তুমি গাফুরুর রাহিম
তোমার হাতে জমা সকল রহমত ও অসীম।
তুমি মোদের পালনকর্তা
তুমি মোদের রব
তোমার হাতে রহমান বরকত
তোমার হাতে সব।
সৃষ্টকারী প্রভু মোদের তামাম ও জাহান
আঠারো হাজার মাখলুকাতের মালিক হে মহান।
মাফ করিয়া দাও আমাদের রমজানের ঐ মাসে
গুনাহগার এই বান্দা আমি চাই যে অবশেষে।
রাহমানুর রাহিম ওগো দয়াময় আমার
বারংবার এই করছি আরজ মাফ করো সব

আজান
আলী মিরাজ মোস্তাক
আজানের ঐ সুমধুর ধ্বনি
মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ভাসে রোজ শুনি।
আজান দিচ্ছে ডাক নামাজের
আল্লাহ’র ঘরে চলো ঐ পথ কল্যাণের।
আজানের সুমধুর সুরে ঘুম ভেঙে উঠি
রোজ ভোরে সুরেলা আজান আমার আল্লাহ’র দান
নামাজে বাড়ায় দু’জাহানের মান।
যখন ই শুনি মোয়াজ্জিনের কন্ঠে আহবান
মসজিদে ছুটে চলে মুমিনের প্রাণ।
বন্দেগি কর আল্লাহর তরে
সুখ পাবে দু’জনম ভরে।

ছোট্ট বেলা
মীম জুবায়ের
ছোট্ট বেলার খেলাধুলা
আমার মনে আছে
লুকোচুরি খেলা হতো
হিজল গাছে গাছে।

বর্ষাকালে বানের জলে
থৈ থৈ যবে
সাঁতার কেটে নদীর বুকে
লাই খেলাতাম সবে।

গোল্লাছুট আর কানামাছি
আরও কত্ত খেলা
খেলাধুলায় চলে যেত
প্রতি বিকেল বেলা।

কাঁচা আম
এস. এম বর্ণা
কাঁচা আম পাকা আম
টিপ টিপ বৃষ্টি
দিন নেই, রাত নেই
অন্ধের দৃষ্টি
জ্যৈষ্ঠতে পাকে আম
আষাঢ়ের বৃষ্টি
খাল বিল নদী নালায়
বন্যার সৃষ্টি।

ঐ সবুজের গাঁ
ফরহাদ রউফ
মনটা আমার পড়ে আছে
ফসল ভরা মাঠে
যেথায় কৃষাণ কাস্তে হাতে
সোনালী ধান কাটে।
মনটা আমার যায় ছুটে যায়,
খোয়াই নদীর চর
যেথায় জেলেরা মিলে মিশে থাকে
কেউ নয় কারো পর।
খেলতে আমার ইচ্ছে জাগে
ঐ ছেলেটার সাথে
যে মাঠে মাঠে চরায় গরু
বাঁশের বাঁশি হাতে।
সেনের বাড়ির বাঁশ বাগানে
আমার যেতে শখ,
দোয়েল, কোয়েল, ময়না শ্যামা
উড়ে যেথায় বক।
শুনতে আমার সাধ জাগে
খেঁক শিয়ালের হাঁক
নিদ্রা যেথায় ভাঙবে শুনে
লাল মোরগের ডাক।
আমায় যেতে ইচ্ছে করে
ঐ সবুজের গাঁ
হাত বাড়িয়ে বসে আছে
যেথায় আমার মা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT