ধর্ম ও জীবন

সব সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৬-২০১৭ ইং ০১:৩২:১৬ | সংবাদটি ১৪৯ বার পঠিত

আল্ল¬াহ তায়ালা মানুষকে আশরাফুল মাখলুক্বাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ আল্ল¬াহর দাসত্ব করবে। আল্ল¬াহর সস্তুষ্টি অর্জনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় নিয়োজিত থাকবে । বান্দা যখন আল্ল¬াহর অনুগত থাকবে, তার দাসত্ব করবে তখন আকাশ ও যমিনে যা কিছু রয়েছে সবাই বান্দার খেদমত আঞ্জাম দিবে। আল্ল¬াহ তায়ালা সূরা নাহলের ১২তম আয়াতে বলেন, আর তিনি রাত ও দিনকে আর সূর্য ও চাঁদকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। আর গ্রহ নক্ষত্র ও অধীন হয়েছে তার বিধানে। নিশ্চয়ই এতে যারা জ্ঞানবুদ্ধি রাখে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আল্ল¬াহ তায়ালা সুরা জাছিয়াহর ১৩তম আয়াতে বলেন, আর তিনি মহাকাশমন্ডলীতে যা কিছু আছে আর যা কিছু আছে পৃথিবীতে সব কিছুকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। এ সমস্ত কিছু তার  কাছ থেকে। নিশ্চয়ই  এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা করে।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে মাজহারীতে বলা হয়েছে, তিনি আকাশে চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, মেঘমালা, বায়ুপ্রবাহ এবং পৃথিবীর ফল ফসল, নদী বৃক্ষ, পর্বতমালা সব কিছুই মানুষের উপকারার্থে সৃষ্টি করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) সমস্ত কিছুর অর্থ করেছেন, সমগ্র সৃষ্টিই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। আর আল্ল¬াহ এসব দিয়েছেন স্বপ্রণোদিত হয়ে, অনুগ্রহ করে।
সূরা লুকমান ২০তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, তোমরা কি দেখতে পাওনি যে আল¬াহ তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন যা কিছু রয়েছে মহাকাশে এবং যা কিছু রয়েছে পৃথিবীতে।
মানুষ আল্ল¬াহর বিশাল সৃষ্টির একটি ক্ষুদ্র অংশ। তার অধীন করে দিয়েছেন অনেক বড় বড় প্রাণীকুল, অনেক বড় বড় সৃষ্টি। এটা এমন যে তাকে (মানুষকে) ঘিরেই যেন সব আয়োজন। বাতাসকে আল্ল¬াহ সৃষ্টি করেছেন মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য। মেঘমালাকে বয়ে নিয়ে খরা জায়গায় পানি পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য। পানি দিয়েছেন পৃথিবীকে বাচিয়ে রাখার জন্য।
সূরা বাকারা ১৬৪ তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, মানুষের উপকারী সামগ্রী নিয়ে সাগরে চলমান নৌযানে, আকাশ থেকে আল্ল¬াহ যে পানি অবতীর্ণ করেন অতঃপর তা দিয়ে মৃত ভূমিকে জীবিত করেন এবং সেখানে ছড়িয়ে দেন বিচরণশীল প্রাণী, বায়ু পরিচালনা এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে তাঁর নির্দেশনাধীন মেঘমালায় অবশ্যই নিদর্শনাবলী রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা অনুধাবন করে।
সূরা ইবরাহিম ৩২তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আল্ল¬াহ তিনিই যিনি মহাকাশ মন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর আকাশ থেকে বর্ষণ করেন পানি, তারপর তার সাহায্যে উৎপাদন করেন তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল, আর তোমাদের জন্য অধীন করেছেন জাহাজ যেন তাঁর বিধান অনুযায়ী তা সমুদ্রে চলাচল করে। আর তোমাদের জন্য বশীভূত করেছেন নদনদী।
সূরা নাহল ১৪তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আর তিনিই সেইজন যিনি সমুদ্রকে করেছেন বশীভূত যেন তা থেকে তোমরা টাটকা গোস্ত খেতে পার, আর তা থেকে বের করে আনতে পার অলংকার যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা দেখতে পাও ওর বুক চিরে জাহাজ চলাচল করে যেন তোমরা তাঁর অনুগ্রহসামগ্রী সন্ধান করতে পার, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
সূরা আরাফ ৫৭তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আর তিনিই সেইজন যিনি মলয় বায়ুপ্রবাহ পাঠান তাঁর অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহীরূপে। শেষ পর্যন্ত যখন তারা সঘন মেঘমালা বহন করে আনে, আমরা তখন তা মৃত ভূখন্ডের দিকে পাঠাই। তারপর আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি, তারপর এর সাহায্যে উৎপাদন করি সব রকমের ফলফসল। এইভাবে আমরা মৃতকে বের করে আনি, যেন স্মরণ করতে পার।
সূরা রুম ৪৮তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আল্লাহই তিনি যিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান। তারপর তারা মেঘ সঞ্চার করে, তখন তিনি যেমন ইচ্ছা করেন তা ছড়িয়ে দেন আকাশের মধ্যে, তারপর একে টুকরো টুকরো করেন, ফলে তোমরা দেখতে পাও তার নিচ থেকে বৃষ্টি বেরিয়ে আসছে, অতঃপর তিনি যখন তা পড়তে দেন তাঁর বান্দাদের যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তার উপরে, দেখো তারা উল্ল¬াস করে।
সূরা হিজর ২২তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আর আমরা উর্বরতা সঞ্চারক বায়ুপ্রবাহ পাঠাই, তারপর আকাশ থেকে পানি পাঠাই, তখন তোমাদেরকে তা পান করতে দেই। আর তোমরা তার কোষাধ্যক্ষ নও।
সূরা নুর ৪৩তম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তুমি কি দেখতে পাচ্ছনা যে আল্ল¬াহ মেঘমালাকে চালিয়ে নিয়ে যান তারপর তিনি তাদের পরস্পরের মধ্যে জড়ো করেন, তারপর তাদের তিনি পুঞ্জিভূত করেন, তখন তুমি দেখতে পাও তার ভিতর থেকে বের হচ্ছে বৃষ্টি?
সূরা ফাতির ৯তম আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, আর আল্লাহই তিনি যিনি বায়ুপ্রবাহ পাঠান, ফলে মেঘমালা সঞ্চালিত করে, তারপর তার দ্বারা আমরা পৃথিবীকে মৃত্যুর পর জীবনদান করি, এই ভাবেই পুনরুত্থান হয়।
সূরা বাক্বারার ২য় আয়াতে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতে কারীমারগুলোর দিকে তাকালে স্পষ্ট বুঝা যায় যে আল্ল¬াহ তায়ালা সব কিছু মানুষের কল্যাণের জন্য মানুষের খাদেম তথা সেবক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
পৃথিবীর শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্য থেকে আমরা আলো পাই। সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবী সুন্দর সাজে সাজতে পারত না, এর আলো ছাড়া আমরা জীবন ধারণের কল্পনাও করতে পারিনা। কিন্তু এই সূর্য থেকে পৃথিবীতে বাচিয়ে রাখার আলোই আসেনা জীবন সংহারী মারাত্মক বিকিরণও ধেয়ে আসে। সূর্যের বাহিরে যে সৌর বাতাস প্রবাহিত হয় তার গতিবেগ ঘন্টায় ৯০০,০০০ মাইল, এই বাতাস পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। সৌর মন্ডলের বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতে জীবন সংহারী এক্স-রে এবং আল্ট্রাভায়োলেট রে প্রতিনিয়ত পৃথিবীকে আঘাত করে চলেছে। কিন্তু আল্ল¬াহ তায়ালা বায়ুমন্ডলে এমন এক কুশলি ফিল্টারিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছেন যে, সৌরমন্ডলের কোন কিছুই ফিল্টারিং ছাড়া পৃথিবীতে পৌছতে পারেনা। অপর দিকে আল্ল¬াহ তায়ালা সূর্যের অন্যান্য গ্রহের চেয়ে পৃথিবীকে এমন দূরত্বে স্থাপন করেছেন যে, অত্যাধিক তাপে অথবা ঠান্ডায় পৃথিবী যেন মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে না যায়।
অনবরত সূর্যের আলো যখন কোন অঞ্চল তৃষ্ণার্ত হয়ে যায় আল্ল¬াহ তায়ালা তখন বায়ুর মাধ্যমে মেঘমালা পাঠান। ঐ এলাকায় বৃষ্টির পানির সিঞ্চনে গাছ পালা পত্র পল্ল¬বে ভরে উঠে। ফল ফসলে মাঠ ঘাট ভরে যায়। মানুষ সব কিছু পেয়ে আনন্দ উল্ল¬াসে মেতে উঠে। যে কাজ সমূহ করা দুনিয়ার কোন শক্তির পক্ষেই সম্ভব নয়। মানুষতো এতটুকুই যে, আল্লাহর সৃষ্টি কোন বস্তুকে পরিবর্তন করে নতুন কোন উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে । কোন কিছুই মানুষ নতুন করে সৃষ্টি করতে পারেনা।
পৃথিবীতে ও আকাশে এমন কোন সৃষ্টি নেই যা মানুষের প্রয়োজন ছাড়া সৃষ্টি করা হয়েছে। জীবজগতে আমরা অনেক প্রাণী দেখি কুৎসিত, অনেক প্রাণী সুন্দর, অনেক প্রাণী দুর্গন্ধ ছড়ায়, কেউ পরজীবি । আশ্চর্যের বিষয় হল কেউ কর্মহীন নয়। আর এ সকল প্রাণী বা সৃষ্টির কার্যকলাপ শুধুমাত্র জীবনধারণ ও মৃত্যুবরণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যেকটির কার্যকলাপ অন্য জীবের অস্তিত্বের সংযোগ স্থাপন করে।  আমরা দেখি বেশীর ভাগ সময়ই আল্ল¬াহর বিভিন্ন সৃষ্টি মানুষের  খেদমতই করে যাচ্ছে। আবার কোন কোন সময় এই উপকারী সৃষ্টিটিই ধ্বংসের তান্ডব নিয়ে হাজির হয়। এই খাদেম কেন জীবনসংহারী হয়ে উঠে তা আমাদের জানা উচিত।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT