সাহিত্য

প্রসঙ্গ: আলোকিত শহীদ স্যার

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৬-২০১৭ ইং ২২:৪০:৩০ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত

আলোকিত শহীদ স্যার (জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণ) স্মারকটির সম্পাদনায় বিলকিস নাহার বেবী, প্রকাশক এর পক্ষে নাগরী, বারুতখানা, সিলেট-৩১০০ বাংলাদেশ। প্রচ্ছদ এঁকেছেন সুফি সুফিয়ান প্রথম প্রকাশকাল জানুয়ারি ২০১৭ইং পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৯২, মূল্য: ৩৫০/- টাকা।
সবার প্রিয় শিক্ষক ও বন্ধু মরহুম আব্দুস শহীদ স্যার। তাকে নিয়ে পরিচিত বন্ধু বান্ধব ও ভক্ত শিক্ষানুরাগীদের স্মৃতিচারণ নিয়ে লেখার শেষ নেই। ভক্ত ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শহীদ স্যার প্রীতি আজও জুড়ে আছে। যার নিদর্শন স্মৃতিচারণ গ্রন্থ। গ্রন্থটিতে তার জীবনের স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন সাতান্ন জন গুণীজন। সম্পাদনা করেছেন শহীদ স্যার এর ২য় কন্যা বিলকিস নাহার বেবী। পেশায় একজন চাকুরিজীবী। কর্মজীবনে ব্যস্ত থাকার পরও তিনি তাঁর বাবার আদর্শ নিয়ে ভেবেছেন, যার ফলশ্রুতিতে তার সম্পাদনা এই ‘আলোকিত শহীদ স্যার’ স্মারক গ্রন্থটি।
গ্রন্থটিতে শহীদ স্যারের চিন্তা, চেতনা, স্বপ্ন ও ইচ্ছা, আকাক্সক্ষা এবং তার কর্মময় জীবন ও ব্যক্তিজীবনের ত্যাগ তিতিক্ষা সকল বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে। মরহুম শহীদ স্যার সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার সাবেক লক্ষ্মীপুর বর্তমানে সুরমা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক শহীদ মাস্টারের জীবনী ভিত্তিক স্মারক প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আব্দুস শহীদ মাস্টার ব্যক্তিগতভাবে তার পরিচিত ছিলেন। শিক্ষার প্রতি তার অপরিসীম দরদ ছিল। জীবদ্দশায় তিনি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যা নিজের সঞ্চিত অর্থ এবং সম্পদের বিনিময়ে সমাধানের অনেক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। নির্লোভ নির্বিবাদী মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন এ মানুষটি সত্যিকার অর্থে সাদা মনের মানুষ ছিলেন।
সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট, সভাপতি জেলা আইনজীবী সমিতি সুনামগঞ্জ মো. আব্দুল মজিদ বলেন, কিছু মুখ স্বমহিমায় ও সগৌরবে চির ভাস্বর হয়ে থাকেন। শহীদ স্যার তাদেরই একজন। তার জানার জগতটা ছিল বিশাল। তিনি চমৎকার ইংরেজি জানতেন এবং বলতেও পারতেন। সমস্ত আঞ্চলিকতার উর্ধ্বে ছিল তার চিন্তা ভাবনা। তার কোনো অহংকার ছিল না। তিনি সৎ, প-িত, নির্মোহ এবং নির্লোভ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তাকে কিছু খাসজমির বন্দোবস্ত করে দিতে চাইলে তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। তার ছিল প্রখর আত্মসম্মানবোধ।
বীর প্রতীক, উপজেলা চেয়ারম্যান, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ, সাবেক অধ্যক্ষ, বড়খাল স্কুল এন্ড কলেজ মো. ইদ্রিস আলী বলেন, স্বীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তিনি স্ত্রীর গহনাগাটি বিক্রি করে সমুদয় অর্থ দান করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকন্ঠের আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য তিনি ভারতের মেঘালয়ে ইকো-ওয়ান ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে ট্যাকেরঘাট সাব সেক্টরে যাগদান করেন। পরবর্তীতে জেলা সাব সেক্টরে আসেন। শহীদ স্যার তার নিজের পরিবারের জন্য কিছুই রেখে যাননি।
সবকিছু মিলে এই স্মারক গ্রন্থটির উপস্থাপনে প্রত্যেকের লেখার প্রকাশভঙ্গির সাথে মরহুম আব্দুস শহীদ স্যারের বৈশিষ্ট্যের সামঞ্জস্য বা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্মারক গ্রন্থটির প্রচ্ছদ নামকরণ অঙ্গসৌষ্ঠব ভালোই হয়েছে। স্মারক গ্রন্থটি পাঠকদের অনুপ্রাণিত করবে। সুখপাঠ্য তো বটেই। একটু সময় করে নিলেই বইটি পড়ে ফেলা যায়। শহীদ স্যার প্রেমীরা স্মারক গ্রন্থটি পড়ে উপকৃত হবেন। গত জানুয়ারিতে এটি প্রকাশিত হয়েছে নাগরী প্রকাশনী থেকে। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯২, মূল্য ৩৫০ টাকা। আমি স্মারকটির পাঠক প্রিয়তা কামনা করি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT