শেষের পাতা

টেরিজা এবার বিদায় নাও: বিক্ষোভ লন্ডনে

ডাক ডেস্ক ঃ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৬-২০১৭ ইং ০৩:৪৬:৩৩ | সংবাদটি ২৪৩ বার পঠিত

 আগাম নির্বাচন ডেকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে যেতে দেরি করে জনগণের ক্ষোভ বাড়ানোয় দলের ভেতরেও চাপে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে।
নির্বাচনে তুলনামূলক খারাপ করার পর থেকে দলের একাংশ তাকে পদত্যাগের চাপ দিয়ে আসছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিবিসি; গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকা-ের পর যেন সেই আগুনে ঘি পড়েছে।
চাপের মুখে তিন দিন পর টেরিজা মে কেনসিংটনে গিয়ে  গ্রেনফেল টাওয়ারের ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় টেরিজাকে।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘খুনি’, ‘কাপুরুষ’ আখ্যায়িত করে স্লোগান ওঠে- ‘টেরিজা এবার বিদায় নাও’।
বিক্ষুব্ধ জনতার রোষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচিয়ে বের করে নেয় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়।
বিক্ষোভরত এক নারী কাঁদতে কাঁদতে বিবিসিকে বলেন, বৈঠকের বাইরে প্রধানমন্ত্রী আর কারও সঙ্গে কথা বলবেন না শোনার পরই তার এই প্রতিক্রিয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে মে’র ওই বৈঠক এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। এরপরই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ সাহায্য বরাদ্দ এবং পুড়ে যাওয়া বাড়িটি পুনরায় নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে সাহায্য আজ ঘোষণা করা হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্ত এবং তাদের প্রিয়জনদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য। তাদের জন্য আরও কিছু করা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রায় ৩০০ প্রতিবাদকারী শুক্রবার কেনসিংটন ও চেলসির টাউন হলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়; তারা অগ্নিকা-ে আশ্রয়হীনদের তাৎক্ষণিক সাহায্যের দাবি তোলে।
ডেইলি মেইল জানায়, সেইন্ট ক্লেমেন্ট চার্চের বাইরে ডজনের ওপর বিক্ষোভকারীরা টেরিজা মে যেখানে বৈঠক করছিলেন সেখানে ঢোকার চেষ্টা চালায়। পুলিশ এসময় তাদের বাধা দেয়।
চার্চের ভেতরের সদর দরজার পাশাপাশি বাইরে থাকা গাড়িটিও চারপাশ থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের একজন মে’কে চলে যেতে বলেন।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ওই বিক্ষোভকারী বলেন, “কী করছেন উনি এখানে? তার উচিৎ নিজের বিলাসবহুল বাড়িতে ফিরে যাওয়া।”
টেরিজা এর আগে শুক্রবার সকালে চেলসি অ্যান্ড ওয়েস্টমিনস্টার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের পাশাপাশি সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ঘণ্টাখানেক সময় কাটান। তিনি এদিন হোয়াইট হলে সরকারি সিভিল কন্টিনজেন্সি কমিটির বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন।
সন্ত্রাসী হামলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তিন দিন আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কেবল দমকল বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন টেরিজা মে। সেদিন ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা না বলায় তার প্রতি রুষ্ট হন স্থানীয়রা।
উল্টোদিকে লেবার নেতা জেরেমি করবিন এবং লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে থেকে তাদের মন জয় করে নেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
রানি এলিজাবেথও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি স্পোর্টস সেন্টারে গিয়ে গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করেছেন।
সাধারণ জনগণকে পাশ কাটিয়ে কেবল উদ্ধারকাজে দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার এ ঘটনা টোরি পার্টির অভ্যন্তরেও ছায়া ফেলেছে; ক্ষমতাসীন দলের অনেক সদস্য টেরিজা মেকে বিরোধী নেতা করবিনের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
কনজারভেটিভ দলের সাবেক মন্ত্রী মাইকেল পোর্টিলো বলেন, “আশ্চর্য, গত ৫-৬ সপ্তাহ ধরে মিসেস মে যে কী করছেন! একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতেও তিনি তার মানবিকতার প্রকাশ ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিতদের সঙ্গে দেখা করেছেন, এটা যে ভালো কাজ তাতে কোনো সন্দেহ নেই; কিন্তু তার অবশ্যই করবিনের মতো স্থানীয়দের সঙ্গেও দেখা করা উচিত ছিল।”
অবশ্য কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় ব্যথিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যা যা করণীয় সব করছেন।
হাউজ অব কমন্সের নেতা আন্দ্রে লিডসাম এদেরই একজন। লিডসাম নিজেও শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন।
তিনি বলেন, “সত্যিটা হচ্ছে, হাউজ অব কমন্সের প্রত্যেক সদস্য, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার অধঃস্তন সরকারের সব কর্মকর্তায় এ ঘটনায় ভয়াবহ ব্যথিত; আমরা সবাই মিলে সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করছি।
পশ্চিম লন্ডনের একটি এলাকায় স্কাই নিউজকে এমনটা বলার সময লিডসাম স্থানীয় এক ব্যক্তির প্রতিবাদের মুখে পড়েন।
ওই ব্যক্তি বলেন, দক্ষিণ লন্ডনের ক্যাম্বারওয়েলের লাকানাল হাউজে সংঘটিত অগ্নিকা-ের পর যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হলে গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুনের ঘটনা ঘটত না। কীভাবে সাদিক খান এবং করবিন ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারলেন, যখন পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়েও মে ক্ষতিগ্রস্ত একজনের সঙ্গেও কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হলেন।
তবে রক্ষণশীল দলের কোনো কোনো নেতা টেরিজা মের পক্ষ নিয়ে বলছেন, যথাযথ নিরাপত্তার অভাবেই প্রধানমন্ত্রী অগ্নিকা-ের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেননি।
সাবেক আবাসন মন্ত্রী মার্ক প্রিস্ক বিবিসিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাননি তার সূত্র ধরে গণমাধ্যমের পুরো চাপ শোকে কাতর পরিবারগুলোর উপর পড়ুক, যারা খুবই দুঃসহ দিন পার করছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এগুলো সবই ঘটনার দায় থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা। রানি এলিজাবেথ যদি ক্ষতিগ্রস্তদের এলাকায় গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তাহলে মে পারবেন না কেন?

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • দক্ষিণ সুরমায় ঈদকে সামনে রেখে অপরাধীরা তৎপর
  • সারাদেশে আজ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাক্িটস বন্ধ
  • টেরিজা এবার বিদায় নাও: বিক্ষোভ লন্ডনে
  • পাহাড়ের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী বিএনপি: কাদের
  • প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
  • বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশসমূহের তালিকা প্রকাশ দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় শান্তিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ
  • দুদককে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে সরকার : ফখরুল
  • উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশে^র কাছে রোল মডেল --------- বদর উদ্দিন আহমদ কামরান
  • ‘বাবুল আখতার ও আছলম খান’ ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ------ মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ
  • সুনামগঞ্জ সদর- বিশ্বম্ভরপুর এলাকা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে -------ব্যারিস্টার ইমন
  • ম্যাক্সিমাস মোবাইল কোম্পানীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
  • ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ফাইনাল আজ
  • জগন্নাথপুরের চার গ্রামবাসীর সড়কটি হুমকির মুখে
  • ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা পাওয়ার মাস, পবিত্র মাহে রমজান
  • সিলেট-তামবিল সড়কে ট্রাক-নোহা মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ॥ আহত ৪
  • ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ফের ভূমিধসের শঙ্কা
  • আবগারি শুল্ক নিয়ে সংসদে সরব ক্ষমতাসীন দলের সাংসদরা
  • পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫
  • অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বস্ত্র সামগ্রী বিতরণ
  • সিলেটে গণমাধ্যম কর্মীদের সম্মানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা
  • Developed by: Sparkle IT