প্রথম পাতা কোম্পানীগঞ্জে ঢলের তোড়ে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু ॥ দোয়ারায় ঘূর্ণিঝড়ে আহত ১০

সিলেটের চার উপজেলায় বন্যা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৬-২০১৭ ইং ০৩:৪৭:১৪ | সংবাদটি ৮৭২ বার পঠিত

 উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের  চার উপজেলায়  বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা চারটি হচ্ছে-কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার। কোম্পানীগঞ্জে ঢলের পানিতে ডুবে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢলের তোড়ে সেখানে শতাধিক বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙ্গে গেছে অনেক রাস্তা-ঘাট। দোয়ারাবাজারে ঘূর্ণিঝড়ে অনেক বাড়ি-ঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা আবিদুর রহমান জানান, শনিবার ভোর ৫টার দিকে ধলাই ও উৎমা নদী দিয়ে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। ঢলের তোড়ে কালাইরাগ গ্রামের সেলিম মিয়ার এক বছর বয়সী শিশু কন্যা সুলতানা ও তিন বছর বয়সী তামান্নার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। শিশু দু’টি পানিতে ভেসে গিয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঘন্টা-দুয়েক পর একটি শিশুর সন্ধান মিললেও অপরটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। একই সময়ে পানিতে ডুবে কালাইরাগের ফারুক মিয়া নামের পঞ্চাশোর্ধ আরেক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঢলের তোড়ে কালাইরাগ গ্রামের বেশ কিছু বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে।
পাহাড়ি ঢলের তোড়ে শতাধিক বাড়ি-ঘর ও রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। ছোট-বড় অনেক সড়ক ডুবে গেছে। যাতায়াতের জন্য লোকজন নৌকা ও ভেলা ব্যবহার করছেন। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী সহ সব ক’টি পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু বোমা মেশিন ও সরঞ্জামাদি পানির ¯্রােতে ভেসে গেছে। কোয়ারিতে আটকা পড়েছে শতাধিক ট্রাক্টর। বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
শুক্রবার রাত থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। শনিবার ভোরে কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় সব কিছু।
ইসলামপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, পাহাড়ি ঢলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বাইরং (সোনাই নদী) নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ছনবাড়ী, শাহ্ আরফিন, নারাইনপুর, চিকাডহর সহ আশ-পাশের কয়েকটি গ্রামের ৪-৫শ’ বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে বহু বাড়ি-ঘর। ছোট-বড় অনেক সড়ক ডুবে গেছে। লোকজন যাতায়াতের জন্য নৌকা ও ভেলা ব্যবহার করছেন। তৈমুরনগর ও টুকেরগাঁও গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। নয়াগাঙেরপাড় গ্রামের নদী-তীরবর্তী বেশ কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন জানান, বন্যায় তার ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নামার উৎসমুখ তার ইউনিয়নে পড়ায় কালাইরাগ, নাজিরেরগাঁও, মাজেরগাঁও, কামালবস্তি এলাকা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। মৃত্যুবরণকারী তিনজনই তার ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানান চেয়ারম্যান ফরিদ।
তৈমুরনগর ভাংতী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ লাল মিয়া জানান, তৈমুরনগরের বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভাংতী হয়ে ইসলামপুর গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত ‘মরা’ নদী অবৈধ দখল হয়ে যাওয়ায় নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
ছনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রণজিত কুমার দাস জানান, পানির প্রবল ¯্রােতে ছনবাড়িসহ পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের বাড়ি-ঘর ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।
কলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ আরাফাত আলী জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর কলাবাড়ী অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল ¯্রােতে কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে। মেঘারগাঁও-উত্তর কলাবাড়ী সরকারি রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, ধলাই নদী তীরবর্তী চাঁনপুর গ্রামের দুইটি পাকা বাড়িসহ ৬টি বাড়ি পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। ঝুঁকির মুখে আছে আরও অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি। ভেঙ্গে যাওয়া বাড়ি-ঘরের লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। এলজিইডি নির্মিত রাজনগর থেকে মোস্তফানগর-দক্ষিণ ঢালারপাড় পাকা রাস্তা ও খায়েরগাঁও-চাঁনপুর সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া ইউনিয়নের বহু কাঁচা রাস্তা ভেঙ্গে গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে অনেক নৌকা এবং পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত বোমা, শ্যালো মেশিন ও ট্রাক্টর পানিতে ভেসে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভোলাগঞ্জ সহ উপজেলার সব ক’টি পাথর কোয়ারীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবুল লাইছ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। গতকাল বিকেলে ধলাই নদী হয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ইউএনও বলেন, আকস্মিকভাবে পাহাড়ি ঢল নামে। কালাইরাগে তিনজন মারা গেছে। অনেক বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষয়-ক্ষতির একটি খসড়া করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে পরিস্থিতি জানানো হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেন বন্যায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গোয়াইনঘাট থেকে মনজুর আহমদ জানান, গোয়াইনঘাটে পাহাড়ী ঢল আর টানা বর্ষণে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ফসল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন উপজেলার অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম পাথর কোয়ারী বিছনাকান্দি ও জাফলং। বন্যায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সারী-গোয়াইনঘাট সড়কের লাফনাউট, বেকরা ও বার্কিপুরসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাছাড়া, গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি উঠেছে। সহ¯্রাধিক পুকুরে চাষকৃত মাছও বানের জলে ভেসে গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসা ঢলে উপজেলার সিংহভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। এ বছরে গোয়াইনঘাটের ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার  হেক্টর  জমিতে রোপা আউশ ইরি এবং বোনা আমন ধান চাষ করেছিলেন চাষীরা। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব ফসলি জমি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে-পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের আসাম পাড়া চৈলাখেল, বাউর ভাগ হাওর, সাঙকি ভাংগা ও জাফলং চা-বাগান, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দা, তিতকুলি, খাষ, সাতাইন, বাংলাইন হাওর। এছাড়া, রুস্তুমপুর, পশ্চিম জাফলং, তোয়াকুল, ডৌভাড়ী, লেঙ্গুড়া ইউনিয়নসহ উপজেলার সিংহভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সারী-গোয়াইন সড়ক এবং সালুটিকর-গোয়াইন সড়কের দুপাশে পানি থৈ থৈ করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ডুবে যেতে পারে এ দুটি সড়ক। উপজেলার গ্রামীণ ছোট বড় সকল রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মাতুরতল-হাজিপুর রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে।
এছাড়া, প্রতাপপুর একটি ব্রীজের দুপাশ ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতে বিঘœ ঘটছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রদান করা হয়েছে। জাফলং চা-বাগান, লেঙ্গুড়া, কৈ-কান্দি হাওর এলাকায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে কিছু চাউল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনি মানুষের দু:খ দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেছেন। বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা  প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।
জৈন্তাপুর থেকে নূরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পুরো জৈন্তাপুর উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। উপজেলার প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সারী নদীর পানি বিপদ সীমার ৭০ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার নি¤œাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অনেকের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পাহাড় ও টিলা ধসে অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের কমলাবাড়ি গ্রামের জমদুয়ার এলাকায় টিলা ধসে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাহাড় ও টিলার নীচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে উপজেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে। শনিবার উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ সরেজমিনে সারীঘাট ডৌডিক সহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আকস্মিক বন্যায় নিজপাট ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি,ঘিলাতৈল রাস্তা সহ উপজেলার অনেক গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েকশত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন। অনেকেই নৌকা দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শ্রীপুর পাথর কোয়ারী এবং সারী , বড়গাং নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার নৌকা ও বেলচা শ্রমিক। নিজপাট, জৈন্তাপুর, দরবস্ত, চারিকাটা, ফতেপুর ও চিকনাগুল ইউনিয়নের বেশীরভাগ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির আশংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। শুক্রবার রাত থেকে অবিরাম ভারী বৃষ্টি পাতের ফলে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বন্যায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা এবং পাহাড় ধসের ঘটনা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: এখলাছুর রহমান, নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী স¤্রাট, সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: সাদ উদ্দিন আহমেদ, সারী বিট কর্মকর্তা (ফরেস্টার) মো: আব্দুল জব্বার মিয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ,আব্দুল হালিম। এদিকে, বিকেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো: জয়নাল আবেদীন দরবস্ত  ইউনিয়নের বন্যায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসে মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে  উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উচু এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থেকে তাজুল ইসলাম জানান, অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে শনিবার সকাল থেকে সৃষ্ট বন্যায় দোয়ারাবাজারে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে সহ¯্রাধিক হেক্টর আউশ, আমনের বীজতলা ও রবিশস্য। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে অর্ধ শতাধিক পুকুরের কোটি টাকার মাছ। এদিকে, শনিবার ভোর ৪টার দিকে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের সরাফত আলী, গোলাপ মিয়া, অল্পত আলী, সুহেল মিয়া, কাসু মিয়া, সাহারা খাতুন, মুক্তার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা শাহাব উদ্দিন, বরকতনগর গ্রামের সুনাহর আলী, আব্দুল কাদির, বাটুল মিয়া, ফরিদ উদ্দিন, বাতির মিয়া ও দিলওয়ারা বেগম সহ ২০টি বাড়ির টিনের চালাসহ ঘর দরজা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। এ সময় বরকতনগর গ্রামের সুনাহর আলী, তার স্ত্রী রংভানু, আব্দুল কাদির, জসিম উদ্দিন, হেলেনা বেগম, শিশু বাতির ও আঁখিসহ অন্তত ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত বাড়িঘরের লোকজন এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সুরমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মাস্টার জানান, গিরিশনগর, মামনপুর, টিলাগাঁও, শিমুলতলা, কাওয়ারগড়, রাজনগর, খৈয়াজুরি, ইসলামপুর, শান্তিপুর, মহ্বতপুর, মহ্বতপুর বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে।
বগুলাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল জানান, তার ইউনিয়নের ক্যাম্পেরঘাট, আলমখালী, পেশকারগাঁও, বগুলাবাজার, নোয়াডর, বাগাহনা, কাঠালতলী, ইদুকোনা, আন্দাইরগাঁও, সোনাচড়া, বালিচড়া, রামনগর, ধর্মপুর, তেরাকুড়ি, কান্দাগাঁও পানিতে তলিয়ে গেছে।
নরসিংপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর উদ্দিন আহমদ জানান, শামারগাঁও, তেরাপুর, শ্রীপুর, বিচঙ্গেরগাঁও, বালিউরা বাজার, নেতরছই, উত্তর নেতরছই, রঘারপাড়, খুরমারগাঁও, নরসিংপুর, সিরাজপুর, বীরেন্দ্রনগর, সোনাপুর, সারফিনপাড়া, রহিমেরপাড়া, দৌলতপুর, মন্তাজনগর, নছরনগর, ঘিলাছড়া, নরসিংপুর বাজার, বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা, কলোনি, ঝুমগাঁও, কলাউরা, জাহাঙ্গীরগাঁও, ঘিলাতলি, বড়খাল, মৌলারপাড়, ছনুগাঁও বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দোয়ারা সদর ইউনয়নের টেবলাই, পরমেশ্বরীপুর, চাঁনপুর, বড়বন্দ, বীরসিংসহ উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়াতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বগুলাবাজার ইউনিয়নের চিলাই নদীর বেড়িবাঁধের চার স্থানে ভেঙে যাওয়ায় এবং সুরমা ইউনিয়নের মরা খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধের পুরনো ভাঙা দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বন্যার পানি হু হু করে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, ওসি এনামুল হক উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

শেয়ার করুন
প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ...মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি
  • সিলেটের চার উপজেলায় বন্যা
  • সবার মতামত নেওয়া হয় না বলে বাজেট বাস্তবায়নও হয় না : আকবর আলি
  • শাহী ঈদগাহে বেপরোয়া গতির মোটর সাইকেলের ধাক্কায় স্কলার্সহোমের ছাত্র নিহত
  • সিলেট ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত ৫, আহত ৩
  • দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া প্রধানমন্ত্রী সিলেটে যাত্রাবিরতি করেননি
  • প্রতারণার অভিযোগে জকিগঞ্জের এক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত
  • অসহনীয় দুর্ভোগ নগরবাসীর
  • উপশহরে চারতলার ওপর থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
  • বটেশ্বর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্যের পিতার ইন্তেকাল
  • রমজানুল মুবারক
  • গোলাপগঞ্জে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হেলাল হত্যা চেষ্টা মামলার রায় আগামীকাল
  • রাজনগরে গৃহবধূ খুনের ঘটনায় আটক ৫ জন রিমান্ডে
  • পাহাড়-টিলার পাশে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বসবাস বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সিলেট প্রশাসনের নির্দেশ
  • বাসা-বাড়ি, দোকানপাট পানিতে থৈথৈ নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ
  • রমযানুল মুবারক আস্সালাম
  • নতুন ইতিহাসের খোঁজে মাঠে নামছে টাইগাররা
  • রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে .............অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাসউদ খান
  • জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
  • জকিগঞ্জে বিদ্যুতের দাবীতে মধ্য রাতে বিক্ষুব্ধ জনতার জোনাল অফিস ঘেরাও
  • Developed by: Sparkle IT