উপ সম্পাদকীয়

প্রযুক্তি ব্যবহারে নিরাপদ থাকুন

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১২-২০১৭ ইং ০৩:২০:৫৭ | সংবাদটি ১৪৭ বার পঠিত


সবার হাতে আজ মোবাইল। একটি বা একাধিক। এইতো ক’দিন আগে মোবাইল ছিল স্বপ্ন, কারো মোবাইল আছে মানে অনেক বড়মাপের লোক। আজ মোবাইলের সংখ্যা গণনা করে সঠিক সংখ্যা বের করা কঠিন, কারণ অনেকে প্রকাশ্যে ব্যবহার করে কেহ একটি প্রকাশ্যে একটি গোপনে। কেহ স্কুল কলেজে যাওয়ার সময় খুবই নিরাপদে মোবাইল রাখেন আবার কেহ প্রশ্ন করলে বলেন মোবাইল ব্যবহার করেন না। ১/২ বছরের শিশুরাও এখন মোবাইলের বিভিন্ন ব্যবহার পদ্ধতি শিখে ফেলেছে। মোবাইল ফোন দিয়ে এখন কি না করা যায়, দূর থেকে কথা বলা, ছবি দেখে দেখে কথা বলা, কখন কি হচ্ছে না হচ্ছে তা লাইভে দেখার সুযোগ এখন মোবাইলেই আছে।
মোবাইলের ব্যবহারে এখন আর আমরা নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতরে নেই। বন্ধু মহলের সংখ্যা এখন দেশের বাইরে ও ভিতরে মিলে অনেক। প্রযুক্তি আজ আমাদেরে পৌঁছে দিয়েছে পৃথিবীর অসীম সীমানায়। প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি মন্দ দিকও কম নয়। এজন্য আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারে নিজেদের ও সমাজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে উপকৃত হচ্ছি তাই এর ব্যবহারে আমাদের আপত্তি নেই, তবে আপত্তি আছে প্রযুক্তির অপব্যবহারে।
আমরা যারা ফেইসবুক ব্যবহার করি তাতে আমাদের অনেক বন্ধু খুঁজে পাই। বন্ধুদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে, খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়, খারাপ ভাষা, অশ্লিল ছবি প্রদর্শন করা থেকে আমরা নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে। আজকে যারা প্রযুক্তির অপব্যবহারে নোংরা লেখা ও ছবি প্রদর্শন করছে আগামী প্রজন্ম এ থেকে মন্দই শিখবে, ভাল কিছু শিখতে পারবে না। তাই আমরা এ দিকটা বিবেচনায় রাখতে হবে। ছেলেরা মেয়েদের নাম দিয়ে এবং মেয়েরা ছেলেদের নাম দিয়ে ফেইক আইডি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এতে অপরাধ ও ধোকাবাজি অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যের পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে তার আইডিতে তার অজান্তে ঢুকে উল্টা পাল্টা কিছু লিখা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। অশ্লীল সাইট ভিজিট করা বা ইউটিউবে অশ্লীল ছবি দেখা থেকে বিরত থাকুন। কখনো আবেগে পড়ে ব্যক্তিগতভাবে বা বন্ধু বান্ধব মিলে প্রাইভেট ছবি বা অসামাজিক কিছু দেখবেন না। মুঠোফোনে, ফেসবুকে, স্কাইপ, ইমো, ভিমো বা অন্য কোনো মাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তা বা ছবি, ভিডিও প্রদর্শন করবেন না।
মানুষের জীবনে অনেক ভালো মন্দ ঘটনা ঘটে, সবকিছু অনলাইনে শেয়ার করবেন না, কারণ এতে সামাজিকভাবে একজন হয়তো অপমান বোধ করবে। দু’দিন পরে আপনি হয়তো এর চেয়ে বড় কোনো অপরাধ করে ফেলতে পারেন। সেই দিন আপনার অপকর্ম প্রচার করতে মানুষের অভাব হবে না, তাই আজ যদি আপনি অন্যের সামান্য ভুল প্রচার না করেন এতে আপনার ক্ষতি হবে না বরং ভুলকারী যখন তার ভুল বুঝতে পারবে তখন সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। অপরিচিত কাউকে আপনার গোপনীয় কোনো তথ্য দিবেন না। কারো কোনো পোষ্টে নিরুৎসাহজনক বা অপমানজনক মন্তব্য করবেন না। কোনো কারণে তাকে পরামর্শ দিতে হলে মেসিঞ্জারে দেবেন এতে সে ভুল বুঝবে ও আপনার উপর খুশি হবে।
যতোটুকু সম্ভব প্রযুক্তি ব্যবহারে আপনি নিরাপদ থাকুন আগামী প্রজন্মকে নিরাপদে রাখুন। ছাত্র-ছাত্রীদেরে প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো নিয়ে উৎসাহিত করুন মন্দ দিক থেকে তাদেরে ফিরিয়ে রাখতে কৌশল অবলম্বন করুন। প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা যেন নিজের ও সমাজের নিরাপত্তা না হারাই তা সকলেই ভেবে শুনে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ইয়েমেন সংকট : কে কার সঙ্গে লড়াই করছে?
  • বৃটিশ আমলে সিলেটের প্রথম আইসিএস গুরুসদয় দত্ত
  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব
  • প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন কাম্য
  • ইতিহাসের একটি অধ্যায় : প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান
  • সড়কে মৃত্যুর মিছিল কি থামানো যাবে না?
  • স্বাস্থ্যসেবা : আমাদের নাগরিক অধিকার
  • কে. আর কাসেমী
  • আইনজীবী সহকারী কাউন্সিল আইন প্রসঙ্গ
  • শিক্ষা হোক শিশুদের জন্য আনন্দময়
  • ফরমালিনমুক্ত খাবার সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ
  • জামাল খাসোগী হত্যাকান্ড ও সৌদি আরব
  • শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত
  • ব্যবহারিক সাক্ষরতা ও বয়স্ক শিক্ষা
  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য নেতৃত্ব
  • জেএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে
  • অন্ধকারে ভূত
  • আর্থিক সেবা ও আর্থিক শিক্ষা
  • প্রসঙ্গ : আইপিও লটারী
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন
  • Developed by: Sparkle IT