উপ সম্পাদকীয়

সততা একটি মহৎ গুণ

মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১২-২০১৭ ইং ২৩:৫২:০০ | সংবাদটি ২৫২ বার পঠিত

মানবচরিত্রের শ্রেষ্ঠতম গুণ হচ্ছে সততা। সৎ মানুষকে সবাই বিশ্বাস করে, সবাই শ্রদ্ধা করে এবং ভালোবাসে। সততা মানুষকে মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। যে সমাজে সৎ মানুষের সংখ্যা যত বেশি হবে, সে সমাজ হবে তত সুন্দর ও অপরাধমুক্ত। কারণ সৎ মানুষেরা কখনও অন্যায় কাজ করে না এবং তারা যথা সম্ভব মানুষের উপকার করে। সৎ মানুষেরা সকল প্রকার লোভ লালসা থেকে দূরে থাকে। কাজেই আমাদের সকলের এই মহৎ গুণটি অর্জন করা উচিত। আমরা কখনো মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিব না। আমরা সততার সাথে জীবন যাপন করব। তাহলে আমাদের সমাজে থাকবেনা মিথ্যা-প্রতারণা, থাকবেনা অপরাধ প্রবনতা। আমরা মর্ত্যে বসেই স্বর্গ-সুখ অনুভব করতে পারব। পৃথিবীতে যত মহামানব ও মনিষীরা ছিলেন তারা সবাই ছিলেন সৎ। এই মহৎ গুণটি তাদেরকে পৃথিবীতে অমর করে রেখেছে।
একজন সত্যবাদী মানুষ সকলের আস্তা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হন। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। মক্কার লোকেরা তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে আল-আমীন বা বিশ্বাসী উপাধিতে ভূষিত করেছিল এবং তাঁর নিকট তাদের মূল্যবান ধন-সম্পদ গচ্ছিত রাখত। সততা মানুষকে সকল প্রকার অপকর্ম থেকে মুক্তি দেয়। এক ব্যক্তি একদিন মহানবীর (সাঃ) নিকট এসে বলল-হে আল্লাহর নবী আমি তিনটি অপকর্ম করে থাকি ঃ আমি মিথ্যা কথা বলি, চুরি করি এবং ব্যভিচার করি। এই পাপগুলো থেকে আমি কীভাবে মুক্তি পেতে পারি। মহানবী (সাঃ) তাকে বললেন তুমি প্রথমে মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দাও। মহানবীর (সাঃ) পরামর্শে লোকটি মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দিল। পরে দেখা গেল মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দেওয়ার কারণে অপর দু’টি অপকর্মও সে সহজে ছেড়ে দিতে পারল। কাজেই আমরা যদি সততা অবলম্বন করি এবং মিথ্যা বর্জন করি তাহলে আমরা অনেক পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি পাব এবং আমাদের পরিবারে ও সমাজে অনাবিল সুখ শান্তি বিরাজ করবে।
পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের সমাজে বর্তমানে সততার অভাব প্রকট। মিথ্যা, প্রতারণা ইত্যাদি গোটা সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। যার ফলে আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্রে নানা প্রকার অপরাধ, অশান্তি ও অস্থিরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ নিজেদের হীন স্বার্থে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে এবং মিথ্যা কথা বলছে। আমাদের রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণ রূপে ভুলে যান। যার ফলে জনগণ প্রতারিত ও বঞ্চিত হয়।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে সততা থাকলে তারা জনগণের সাথে এহেন প্রতারণা করতেন না বরং তারা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতেন এবং জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতেন। দেশের সরকারি কর্মচারীরা ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা প্রকার অনৈতিক কাজে জড়িত আছেন। যার ফলে জনগণ সরকারি অফিস-আদালতে উপযুক্ত সেবা পাচ্ছেনা এবং তারা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে সততা না থাকায় তারা ব্যবসার নামে নানা প্রকার অন্যায় ও অপকর্ম করছেন। তারা মজুদদারী, কালোবাজারী, মোনাফাখুরী, পণ্যে ভেজাল দেওয়া ইত্যাদি অপকর্মের দ্বারা জনগণের সাথে প্রতারণা করছেন। যে কারণে জনগণ উপযুক্ত মূল্য দিয়েও ভেজাল মুক্ত পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। সততা না থাকার কারণে আমাদের সমাজের বহু মানুষ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-রাহাজানি ইত্যাদি নানা প্রকার অপরাধ করছে। তাদের মধ্যে সততা থাকলে তারা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ত না। বরং তারা এসব কাজকে ঘৃণা করত। যার ফলে জনজীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত হত এবং জনগণ তাদের জানমাল নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারত।
সততা হচ্ছে এমন একটি গুণ যা মানুষ প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত করে। সৎ মানুষেরা সকল প্রকার অন্যায়, অপকর্ম এবং অপরাধ থেকে বিরত থাকে। তারা অন্যের ক্ষতি করে না, অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করেনা এবং সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা থেকে বিরত থাকে। তারা যথাসাধ্য মানুষের উপকার করে। কারণ তারা এ কথা বিশ্বাস করে যে, পরকালে আল্লাহতালার নিকট তাদের জীবনের যাবতীয় কাজকর্মের হিসাব দিতে হবে। আল্লাহর ভয়ে তারা সকল প্রকার অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে। একজন সৎ মানুষ একথা বিশ্বাস করে যে, আমি যদি গোপনে বা লোক চক্ষুর অন্তরালে কোন অন্যায় অথবা পাপ করি, তার জন্যও পরকালে শাস্তি পেতে হবে। কারণ আল্লাহতায়ালা গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু দেখেন এবং সবকিছু শোনেন। আল্লাহতালাকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সততা হচ্ছে মানুষের একটি মহৎ গুণ। এই গুণ মানুষকে আদর্শ মানুষে রূপান্তরিত করে এবং সকল প্রকার অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। কাজেই এই মহৎ গুণটি আমাদের সকলের অর্জন করা কর্তব্য। আমরা সমাজের সৎ এবং খোদাভীরু লোকদের সাথে চলাফেরা ও উঠাবসা করব। আমরা অসৎ লোকদের থেকে দূরে থাকব। আমরা সর্বদা সৎ কাজ বা ভাল কাজ করব, সৎ চিন্তা করব। আমরা অন্যায় ও অসৎ কাজকে ঘৃণা করব এবং সর্বদা সত্য কথা বলব, কখনও মিথ্যা কথা বলব না। সত্যকে আমাদের জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নেব এবং মিথ্যা ও অন্যায়ের নিকট আপোষ করব না। তাহলে আমরা ইহ-পরকালে কৃতকার্য হব এবং আমাদের সমাজ হবে একটি অপরাধমুক্ত, সুখী ও সুন্দর সমাজ।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • প্রসঙ্গ : রিকসা ভাড়া
  • পেছন ফিরে দেখা-ক্ষণিকের তরে
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নিবার্চনের প্রত্যশা
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • অরিত্রী : অস্তমিত এক সূর্যের নাম
  • স্বপ্নহীন স্বপ্নের তরী
  • মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান
  • নয়া রাষ্ট্রদূত কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?
  • ফেসবুক আসক্তি
  • কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পৌরসভা প্রসঙ্গে
  • শিক্ষার্থীদের শাস্তি এবং অরিত্রী প্রসঙ্গ
  • রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ শিল্প টিকিয়ে রাখা ও উন্নয়ন জরুরি
  • হাফিজ মোবাশ্বির আলী
  • Developed by: Sparkle IT