ধর্ম ও জীবন

তাফসির

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-১২-২০১৭ ইং ০০:১৩:৩১ | সংবাদটি ১৫০ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
মসজিদুল হারাম তথা পবিত্র কাবার চত্বরে যুদ্ধ বিগ্রহ ও খুনখারাবীর অনুমতি নেই। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বন্ধু ইবরাহিম (আ.) এর দোয়া কবুল করে এ জায়গাটিকে ও এর সন্নিহিত এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করেছেন এবং এখানে আশ্রয় গ্রহণকারীদের জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। একমাত্র সেইসব কাফের এই নিরাপত্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, যারা এই স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে এবং এখানে এসে মুসলমানদের ওপর প্রথম আক্রমণ চালায়। এরূপ অবস্থায় মুসলমানরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরকে হত্যা করবে। এটাই ওই কাফেরদের সমুচিত শাস্তি। কেননা তারা যুগ যুগ ধরে এই পবিত্র ঘরের প্রতিবেশী হিসাবে শান্তি ও নিরাপত্তার জীবন যাপন করেও এর পবিত্রতার প্রতি সম্মান দেখায়নি এবং মানুষকে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে।
‘তবে যদি তারা সংযত হয় তবে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’
আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভের যোগ্যতা সৃষ্টিকারী এই সংযম হচ্ছে পুরোপুরি কুফরি থেকে বিরত হওয়া কেবল মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ ‘অগ্রাসন বা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা থেকে বিরত হওয়া নয়। কেননা মুসলমানদের ওপর আক্রমণ ও নির্যাতন বন্ধ করলে বড়জোর মুসলমানরা তাদের সাথে যুদ্ধবিরতি করবে, কিন্তু তাতে তারা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভের যোগ্য হবে না। তাই এখানে ক্ষমা ও দয়ার উল্লেখ করে প্রকৃত পক্ষে কাফেরদেরকে ঈমান আনতে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে তারা কুফুরী ও আগ্রাসী নীতি উভয়টি ত্যাগ করে ক্ষমা ও দয়া অর্জন করে।
যে কাফেররা একদিন মুসলমানদের ওপর হত্যা ও নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়েছিলো এবং অবর্ণনীয় নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার তান্ডব সৃষ্টি করেছিলো, তারা শুধুমাত্র ইসলাম গ্রহণ করলেই সকল মৃত্যুদন্ড ও অর্থদন্ড থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদেরকে ক্ষমা ও দয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এটা যে ইসলামের কত বড় মহানুভবতা, তা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন।
যে যুদ্ধের অনুমতি ইসলাম দিয়েছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষকে বল প্রয়োগে অথবা বল প্রয়োগ সাদৃশ্য পারিপার্শিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আল্লাহর দ্বীন থেকে ফিরিয়ে রাখা হবে না এবং তাদেরকে বিপথগামী অসৎ দুর্নীতিপরায়ণ ও চরিত্রহীন বানাতে পারে এমন প্রলুব্ধকারী ও বিভ্রান্তিকর উপকরণসমূহ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না এটা নিশ্চিত করা। এটা এভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে যে, আল্লাহর দ্বীনকে ও তার সমর্থকদেরকে এতটা শক্তিশালী ও প্রতাপশালী বানিয়ে দেয়া হবে যে, ইসলামের শত্রুরা তার ক্ষতি সাধন করতে এবং জনগণের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালাতে ভয় পায়। আর ইসলাম গ্রহণে ইচ্ছুক কোনো মানুস এই আশংকায় তা থেকে বিরত থাকবে না যে, কোনো শক্তি তাকে বাধা দিতে পারে কিংবা তার ওপর যুলুম নির্যাতন চালানো হতে পারে। এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে হলে মুসলিম জাতিকে এ ধরনের আগ্রাসী যালেম শক্তিগুলোকে খতম করা ও আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী ও অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করার সংকল্প নিয়ে অক্লান্তভাবে সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। (চলবে)

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT