সম্পাদকীয়

ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-১২-২০১৭ ইং ০১:১২:৫৩ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত

ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে চলাচল করছে ট্রেন। সারাদেশে রেললাইনের পরিমাণ প্রায় দু’হাজার আটশ কিলোমিটার। ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। অথচ এই লাইন মেরামতের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বরং ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইনের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। জানা গেছে কমপক্ষে ১২শ কিলোমিটার রেল লাইন এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এই লাইনে সংস্কার হয়নি দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এসব লাইনে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় সময়; রেলের গতিও কমে গেছে।
সারাদেশে বিস্তৃত রেলওয়ের সড়ক ও রেল লাইন কমবেশী একশ’ বছরের পুরনো। এগুলো নির্মাণের পর থেকে সংস্কার করা হয়নি বললেই চলে। অযতেœ-অবহেলায় এই রেল লাইন ও সড়কের অনেকটাই এখন ট্রেন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রেল লাইনের নীচের কাঠের স্লিপারের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। স্লিপারের স্বাভাবিক আয়ু ১২ বছরের বেশি নয়। কিন্তু কোনো কোনো লাইনে স্লিপারের বয়স ৭০/৮০ বছর হয়ে গেছে। এইসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের মধ্যে সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার লাইনও রয়েছে। সিলেট-আখাউড়া সেকশন-লাইনও ঝুঁকিপূর্ণ। এইসব ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত গতিসীমায় রেল চলাচল করতে পারছে না। অনুমোদিত গতি বেগ হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার এবং সর্বনি¤œ ৬০ কিলোমিটার। কিন্তু বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ লাইনে ট্রেনের গতিবেগ ১৮ কিলোমিটারের বেশি নয়।
ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলোতে সংস্কার করা হচ্ছে না। দিন দিন এগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয় হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের ওপর দিয়ে বর্ষায় বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। ফলে ক্ষতি হচ্ছে স্লিপারের, ভেসে যাচ্ছে স্লিপার। পানির তোড়ে রেল সড়কের মাটিও ধসে যাচ্ছে। তাছাড়া, অনেকসময়ই বিভিন্ন স্থানে রেল লাইনের স্লিপারের ক্লিপ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতেও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে রেল লাইন। উল্লিখিত ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ছাড়াও অন্যান্য লাইনেও যে ট্রেন চলাচল শতভাগ নিরাপদ, সেটা বলা যায় না। রেল লাইন ও সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ তো আছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য সমস্যা। সব মিলিয়ে সারাদেশেই সার্বিকভাবে ট্রেন চলাচল নির্বিঘœ নয়।
দেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে চলছে বিলাসবহুল যানবাহন। এর যাত্রীসংখ্যাও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেলওয়ে চলছে উল্টো দিকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে রেলভ্রমণ। একই সঙ্গে রেলের সেবার মানও যাচ্ছে নীচের দিকে। ফলে ট্রেনের প্রতি যাত্রী সাধারণের আগ্রহ হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন। অপরদিকে সড়ক পথে যাত্রীসেবার মান বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলকভাবে।  
যে কারণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীরা বেশির ভাগই বেছে নিচ্ছেন সড়ক পথকেই। কমছে ট্রেনের আয়। প্রতি বছরই রেলওয়েকে লোকসান গুণতে হচ্ছে। যে কারণে রেলওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলোর পুনর্বাসনসহ পুরো রেলওয়ে ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করতে হবে। আর তখন অতীতের মতো রেলওয়ে হয়ে উঠবে যাত্রীদের ভ্রমণের প্রথম পছন্দ।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT