সাহিত্য রিভিউ

বৃষ্টিকে লেখা চিঠি : ভাব ও ছন্দের মিশেল

মোঃ ইব্রাহীম খান প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-১২-২০১৭ ইং ০১:২৭:৪৪ | সংবাদটি ১৬১ বার পঠিত

আমিনুল ইসলাম সফরের ‘বৃষ্টিকে লেখা চিঠি’ তার চতুর্থ ছড়াগ্রন্থ। এ বইয়ে মোট ৪৮টি ছড়া কবিতা স্থান পেয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ছড়ার ভাবার্থের সাথে মিলিয়ে ছবি সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু কিশোরসহ যে কোনো বয়সের মানুষের পাঠের উপযোগী এ গ্রন্থের প্রত্যেকটি ছড়া। ডড়ৎফং ডড়ৎঃয এর মতে, ‘শক্তিময় অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশই কবিতা।’ মানব মনের ভাব কল্পনা যখন অনুভূতি রঞ্জিত যথাবিহীত শব্দ সম্ভারে শিল্প সঙ্গত চিত্রাত্য ও ছন্দময় রূপ লাভ করে তখনই তার নাম হয় কবিতা বা ছড়া। কবি আমিনুল ইসলাম সফর তার হৃদয়ের সমস্ত ভাব গাম্ভীর্য চিন্তা চেতনা উজাড় করে মনের মাধুরি ঢেলে শব্দের ঝঙ্কারে গেঁথেছেন এ গ্রন্থের প্রত্যেকটি ছড়াকে।
এ গ্রন্থের প্রথম ছড়া কবিতাটি হলো ‘লাল সূর্যের ভোর’ কবি এখানে সকাল, সূর্য, পাখি, গাছ, ফুল প্রভৃতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাব্যিক রূপে প্রকাশ করেছেন। কলম সৈনিক সফর ‘ধনেশ ও গণেশ’ কবিতায় সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্য ফুটিয়ে তুলেছেন এভাবে- ধনেশ বাবুর অট্টালিকায়/মার্বেল পাথর মোড়া/ গণেশ বাবুর ভাঙ্গা কুঠির/ পলিথিনের জোড়া। ‘মামার বাড়ি’ ছড়ায় ছড়াকার আধুনিক সমাজের পারিবারিক ও আত্মীয়তার বিচ্ছিন্নতার চিত্র এঁকেছেন এমনভাবে- এখন কি আর আছে এসব/ বদলে গেছে দিন/ মামি এখন বাপের বাড়ি/ মামা এখন চীন/ মামার আদর মামির সোহাগ/ হয়েছে তাই পর।
শিক্ষক কবি সফর ‘শিশু অধিকার’ ছড়ায় শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট। শিশুদের ¯েœহ ভালোবাসা, আদর সোহাগ, শিক্ষাদীক্ষা, আশা ভরসা ও হাসি খুশি তিনি অন্তরের অনুভূতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কাব্যের রূপে রাঙিয়ে তুলেছেন। শব্দ শ্রমিক আমিনুল ইসলাম সফর এ বইয়ের সর্বশেষ ছড়া ‘রঙিন জীবন’ এ তিনি জীবনকে উপলব্ধি করেছেন যেভাবে- আলোকিত দশদিকে পাখির কুঞ্জন/ জীবন জড়ানো শত বন্ধু- সুজন/ সুখময় মধুময় জীবনের দিন/ রঙধনু রঙলাগা রঙে রঙিন।
কবিতা সংগীত এবং ছড়া রচনায় ছন্দ লাগে। এ তিনে ছন্দ থাকে বলেই তা মানব প্রাণে রসের সঞ্চার করে। এ প্রসঙ্গে কবি আব্দুল কাদির বলেছেন, ‘শব্দের সুমিত ও সুনিয়মিত বিন্যাসকেই বলা হয় ছন্দ।’ রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘কাব্য ভাষার একটা ওজন আছে, সংযত আছে, তাকেই বলে চন্দ। পরিশ্রমী কবি আমিনুল ইসলাম সফর তার প্রত্যেকটি ছড়ায় ছন্দের সুসামঞ্জস্য ও তরঙ্গ ঝঙ্কৃত ভঙ্গিতে সৃষ্টি করেছেন। মেধা মননে মগজে ও কল্পনায় কবি সফর সিদ্ধ হস্তের একজন দক্ষ কবি। ‘বৃষ্টিকে লেখা চিঠি’ ছড়া গ্রন্থটি পাঠে তার বাস্তব প্রমাণ মিলে।
আমিনুল ইসলাম সফর শিক্ষা জীবনে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষকতা জীবনেও তিনি একজন সফল শিক্ষক। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন সনদ ও পদক। তিনি শুধুমাত্র নিজে লিখে বাংলা সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করছেন না। তিনি সাহিত্য সংগঠক হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। তিনি ‘আলোর মিছিল’ ও ‘শেওড়া’ নামে দু’টি সৃজনশীল সাহিত্য সংকলনের সম্পাদক। আদর্শ নারী পত্রিকার ‘সবুজ কুড়ি’ বিভাগে যুগসেরা নবীন কবির সনদ ও পুরস্কার অর্জন করেছেন ২০০৮ সালে। অনেক সাহিত্য প্রতিভার গুণে গুণান্বিত এ তরুণ কবি।
তিনি ‘বৃষ্টিকে লেখা চিঠি’ ছড়াগ্রন্থে ভাষার দুর্বোধ্যতা এড়িয়ে গেছেন। অত্যন্ত সহজ সরল সাবলীল শব্দ চয়নে সাজিয়েছেন প্রতিটি ছড়া। তিনি ভাবকে প্রজ্ঞাসুলভ, পান্ডিত্যপূর্ণ শিল্প শৈলীতে সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। স্বতন্ত্র্য সারসতার মাধুর্যপূর্ণ প্রাঞ্জল ভাষার ছড়াগ্রন্থটি সাহিত্যজগতে বেঁচে থাকুক শতাব্দীর পর শতাব্দী। তার শ্রম সাধনা সার্থক হউক। সাহিত্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠার স্বপ্নে বিভোর এ তরুণ লেখকের লেখনি হউক সমাজ দেশ ও জাতির কল্যাণে কল্যাণব্রতি। সাহিত্য সাধনায় তার অন্তর উত্তরোত্তর উন্মোচিত হউক অজানা অচেনা নতুনের সন্ধানে। এ শুধু আমার প্রত্যাশা নয়, এ আমার আন্তরিক কামনা।
আমিনুল ইসলাম সফরের ‘বৃষ্টিকে লেখা চিঠি’ ছড়া গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মিনতী প্রকাশনী। বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন নন্দিত চেয়ারম্যান, বরেণ্য রাজনীতিক প্রখর প্রতিভার অধিকারী ময়নুল আজাদ ফারুককে। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র দুইশত টাকা। আমি এ মূল্যবান ছড়া গ্রন্থটির বহুল প্রচার প্রসার কামনা করছি। 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT