সম্পাদকীয়

উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১২-২০১৭ ইং ০০:১৬:৪১ | সংবাদটি ১৩৭ বার পঠিত

বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। অব্যাহতভাবে বনাঞ্চর উজাড় হওয়ায় পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেখা দিচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। দেশের বর্ধিত জনসংখ্যার আবাসন সমস্যা নিরসনে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি। আর অনেক ক্ষেত্রে বনাঞ্চল উজাড় করে তৈরি হচ্ছে আবাসিক ভবন। এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৫৪ হাজার বর্গমাইল এলাকায় জনপ্রতি জমির পরিমাণ গড়ে ২৬ শতাংশের কম। এর মধ্যে রয়েছে আবাদি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট, বাজার, মার্কেট, কলকারখানা। বাড়ছে জমির বহুমুখী ব্যবহার। এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে বাড়তি জমির। তাই হাত পড়ছে বনজঙ্গলের ওপর। বনাঞ্চল উজাড় করে তৈরি হচ্ছে ফসলি জমি। অথচ এই বনাঞ্চল রক্ষায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বনরক্ষার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তারাই ভক্ষক রূপে আবির্ভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞগণ বলে থাকেন, একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখতে আয়তনের ২৫ শতাংশ বন বা গাছপালায় আচ্ছাদিত থাকার কথা। জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য জলবায়ু স্থিতিশীলতা এবং পানি ও মাটি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার জন্যই কমপক্ষে এই পরিমাণ জমিতে গাছপালা থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা অন্যরকম। বর্তমানে দেশের সাত লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বা আয়তনের মাত্র ছয় শতাংশ এলাকা বন বা গাছপালায় আচ্ছাদিত। তবে সরকারি হিসেবে বনাঞ্চলের পরিমাণ সাত শতাংশের বেশি। হিসাবের এই গরমিল থাকলেও বাস্তবায়িত হচ্ছে, বাংলাদেশের বনাঞ্চল ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
কারা চুরি করছে সরকারি বৃক্ষসম্পদ? কারাই বা সহযোগিতা করছে এই অপকর্মে? এইসব বিষয় আজকাল কারও অজানা নয়। একটা সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি সম্পদ উজাড় করছে। অনেক সময় বনবিভাগের কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পাচার হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ। বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বনরক্ষী সবাই জড়িত কাঠ পাচার প্রক্রিয়ায়। এছাড়া, বর্ধিত জনসংখ্যার আবাসন সুবিধে সৃষ্টির জন্য প্রতিনিয়ত যেমন আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চলও। আবাদি জমিতে তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। বাদ যাচ্ছে না বনজঙ্গলও। অনেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন বনাঞ্চল কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। সরকারি বনাঞ্চলও অবৈধভাবে দখল করে আবাসিকসহ বিভিন্ন ধরনের ভবন নির্মিত হচ্ছে।
বর্তমানে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যে হারে ধ্বংস হচ্ছে বন-জঙ্গল সেই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই দশক পরে দেশে কতোটুকু আবাদি জমি কিংবা কতোটাকু বনভূমি অবশিষ্ট থাকবে-সেটা বলা মুশকিল। সুতরাং এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। সরকারকে অবশ্যই বৃক্ষসম্পদ ধ্বংসের সবধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে সচেতন হতে হবে দেশের মানুষকেও। সরকারি বনাঞ্চল ধ্বংস করছে বনদস্যুরা। এটা ঘটছে অনেক সময় প্রকাশ্যেই। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ সচেতন হলে কাঠ পাচার রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি তাদেরকে বৃক্ষ সম্পদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এগুলোকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বন বিভাগের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি দুর্নীতিবাজ। এদের অপসারণ না করলে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা করা যাবে না।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT