সম্পাদকীয়

কৃষিজমি সুরক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-১২-২০১৭ ইং ০০:০৮:৩৫ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। প্রতিদিনই নানাভাবে অকৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিজমি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ফসলি জমি হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না, এমন আশংকা রয়েছে। কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ফসল উৎপাদনও হ্রাস পাবে, এটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা গেছে, প্রতিদিনই দেশে কৃষিজমির পরিমাণ কমছে কমপক্ষে দু’শ হেক্টর। বর্তমানে দেশে কৃষি জমির পরিমাণ ৮২ লাখ হেক্টরের বেশি নয়। এই অবস্থায় কৃষিজমির পরিমাণ কমে যাওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ না করলে এক সময় দেশের কৃষিপণ্য একশ ভাগ আমদানী নির্ভর হয়ে পড়বে। অথচ কৃষিজমির এই অপব্যবহার বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছেনা। যা দেখা যাচ্ছে তার সবই কাগজপত্রে ও প্রচার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ।
নানা কারণে কমছে কৃষিজমি। প্রধানত মানুষের অপরিনামদর্শী আচরণই এর জন্য দায়ী। আবাসন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে বেশিরভাগ ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার চাপে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে প্রয়োজন হচ্ছে নতুন আবাসন সৃষ্টির। আর তাই ফসলি জমিকেই বেছে নেয়া হচ্ছে বাড়ি তৈরির জন্য। শুধু তাই নয়, অবস্থাসম্পন্ন অনেক পরিবারের ‘আভিজাত্য’ প্রদর্শনের জন্য একাধিক বাড়ি নির্মাণের প্রবণতাও রয়েছে গ্রামাঞ্চলে। এছাড়া, যৌথ পরিবার বিভক্ত হওয়ার পর ফসলি জমিও খন্ড-বিখন্ড হচ্ছে। জমির মাঝখানে পড়ছে ‘আল’। এই আল নির্মাণের জন্যও প্রচুর জমি বিনষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাট, মার্কেট, পুকুর নির্মাণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি। নদী ভাঙ্গনেও কমছে জমি।
এই প্রবণতা রোধ করতে হবে। প্রতিদিনই বাড়ছে আমাদের খাদ্য চাহিদা। সেই তুলনায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে না। কারণ, জমি সীমিত। এই জমি বাড়ানোর সুযোগ নেই। তা-ও আবার সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তিও কমে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে হ্রাস পেয়েছে জমির উর্বরতা। অতিমাত্রায় এসব রাসায়নিক দ্রব্য জমিতে ব্যবহার করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জমি। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য যেমন আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি, তেমনি খাদ্যশস্যের ব্যবস্থা করাও জরুরি। কৃষিজমি রক্ষা করে খাদ্য সংকট নিরসন করার বিষয়টি মাথায় রেখেই আবাসন সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।
কৃষিজমি রক্ষায় একটি আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। এর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বরং কিছু প্রভাবশালী মহল এই সংক্রান্ত আইন যাতে কার্যকর না হয়, সেই ‘ষড়যন্ত্র’ করে যাচ্ছে। কারণ, এই ধরনের আইন কার্যকর হলে সেই প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে আঘাত পড়বে। আর মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর স্বার্থরক্ষায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হবে, সেটা হতে পারে না। ২০১৪ সালে বেসরকারি আবাসন ভূমি উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার। কিন্তু তা রাজধানী শহরের জন্য প্রযোজ্য। যেভাবেই হোক কৃষিজমির অকৃষি খাতে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আর কৃষিজমি সুরক্ষায় জনগণকেও সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT