সম্পাদকীয়

প্রাথমিক শিক্ষার মান

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১২-২০১৭ ইং ০০:৩৮:৩৫ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

খৃস্টীয় বর্ষ শেষ হয়ে গেছে। নতুন বছর শুরুর অপেক্ষায়। চলছে ফেলে আসা বছরের হিসাব নিকাশ। চলছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। এইসব কর্মযজ্ঞ ছাড়াও রয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ সমাপনী, নতুন ক্লাসে ভর্তি, নতুন বই প্রাপ্তি ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ততা। বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা। এই প্রেক্ষিতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বা শিক্ষার মান নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে রয়েছে নানা ধরনের অভিমত। তাদের মতে, আমাদের শিক্ষার মান আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না। আর সরকার বলছে ভিন্ন কথা। সব বিতর্ক ছাপিয়ে এটা বলা জরুরি যে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবক, সচেতন মহল সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত অভিভাবকেরা। কারণ শিক্ষার মূল ভিত্তি এই প্রাথমিক শিক্ষা যদি একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে না পারে, তবে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনুজ্জ্বল থেকে যাবে। এটাই স্বাভাবিক।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। অথচ, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা বর্তমানে ভালো নেই। অত্যন্ত দুঃখজনক হচ্ছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার প্রায় তিন দশক চলে গেলেও বিদ্যালয়গামী শিশুর সংখ্যা বাড়েনি। সেই সঙ্গে লেখাপড়ার মানেরও কোন উন্নতি হচ্ছে না। উন্নতি হচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাছাড়া, জনসংখ্যার অনুপাতে অভাব-রয়েছে বিদ্যালয়ের। অথচ, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য প্রতিবছর সরকার ব্যয় করছে কোটি কোটি টাকা। দেশে এখন ¯ু‹লে যেতে পারে ৫ থেকে ৬ বছরের শিশুর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। সেই তুলনায় স্কুল এবং শিক্ষকের সংখ্যা কম। তাছাড়া, চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশু কিশোরের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।
প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালুসহ বিনামূল্যে বই প্রদান করছে। চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি প্রকল্প। এতো সুযোগ সুবিধে থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক শিক্ষার এই দৈন্যদশা কেন? এর কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের অভাব, শিক্ষা উপকরণের অভাব, শিক্ষকের অভাব বিশেষ করে দক্ষ শিক্ষকের অভাব ইত্যাদি উল্লেখ করা যায়। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের অবহেলাই মূল বিষয়। যেমন প্রতিটি গ্রামে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই। এছাড়া, শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। দরিদ্র পরিবারগুলোতে শিশুরা উপার্জনে নিয়োজিত। তারা পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য প্রতিদিন নানাভাবে রোজগার করছে। এই ধরনের শিশুরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না।
প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য যেভাবে চলছে এই কার্যক্রম তার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব দূর করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজিত নানা সমস্যা দূরীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষকের অভাব দূরীকরণে সকল শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া জরুরি। তার চেয়ে জরুরি হচ্ছে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া। প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। সর্বোপরি, শিক্ষক কর্মকর্তা সকলকেই দায়িত্বের প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শনের মনোভাব তৈরি করতে হবে। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলাও একটা ব্যাপার। সেটা হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি সকল শিশু ও অভিভাবক আকৃষ্ট হবে, এটা স্বাভাবিক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT