সম্পাদকীয় যে নিজের দোষগুলোর জন্য অন্তর থেকে অনুতাপ করে, সে নির্দোষ ব্যক্তিরই মতো। -আল হাদিস

গ্যাস সংকট নিরসনে বায়োগ্যাসের ব্যবহার

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১২-২০১৭ ইং ২২:১৮:৩২ | সংবাদটি ৮১ বার পঠিত

গ্যাস সংকট নিয়ে ইদানিং বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকট হয়ে উঠছে দিন দিন গ্যাস সংকট। বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা করছেন গ্যাস সংকট আগামীতে আরও প্রকট হতে পারে। আর এমনি পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে ‘বায়োগ্যাস’। জ্বালানী হিসেবে গ্যাসের বিকল্প বায়োগ্যাসের জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। বিভিন্নস্থানে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করছেন লোকজন। এতে সাশ্রয় হচ্ছে বৃক্ষ সম্পদ। পরিবেশ সুরক্ষা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে। আর সরকার সেই লক্ষ্যেই এগুচ্ছে। যেহেতু আমাদের গ্যাসের মজুদ কমে আসছে, সে কারণে গ্যাসের বিকল্পের দিকেই নজর দিতে হবে। এই প্রযুক্তি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৩ সালে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের জন্য একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্নস্থানে স্থাপিত হচ্ছে এই প্রকল্প।
বায়োগ্যাস চালানো হয় সাধারণত গোবর কিংবা মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে। দৈনিক চার ঘন্টা রান্নার গ্যাস উৎপাদনক্ষম একটি প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। তেমনিভাবে দৈনিক ৬ ঘন্টা রান্নার গ্যাস উৎপাদনক্ষম প্লান্টের জন্য প্রয়োজন হয় ছয়টি গরুর গোবর। এই ধরনের প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় হয় প্রায় ২২ হাজার টাকা। একইভাবে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা চালানোর গ্যাস উৎপাদনক্ষম প্লান্টের জন্য প্রয়োজন হয় ১৪টি গরুর গোবরের। ব্যয় হয় প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। এছাড়া দু’শ মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে ছোট এবং ৭/৮শ’ মুরগীর বিষ্ঠা দিয়ে বড় প্লান্ট চালানো যায়। মলমূত্র, আবর্জনা, কচুরিপানা এবং কৃষিজ বর্জ্য দিয়েও চালানো যায় বায়োগ্যাস প্লান্ট। এছাড়া, বায়োগ্যাস তৈরির পর অবশিষ্ট বর্জ্য সার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
জ্বালানী হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে চলেছে দিন দিন। বিশেষ করে রান্নাবান্নার কাজে এর ব্যবহার বাড়ছে। অথচ সরকার বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রেখেছে। এছাড়া, গ্যাস সংযোগের বাইরে থাকা বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী রান্নার কাজে কাঠ, গোবর, পাটখড়ি, খড়কুটাসহ বছরে ১১ হাজার দু’শ মিলিয়ন টন কয়লার সমপরিমাণ জ্বালানী পুড়িয়ে থাকে। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বায়োগ্যাস ব্যবহারে অভ্যস্থ হলে মূল্যবান কাঠ, কয়লার অনেকটা সাশ্রয় হবে। বায়োগ্যাস প্রযুক্তির সুবিধা হচ্ছে- এতে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় থাকে। বেশি পরিমাণ উৎপাদন হলে এ থেকে জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ তৈরি এবং পাম্প মেশিন চালানো যায়। সরকারি উদ্যোগে প্লান্ট স্থাপনের পর পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের গ্যারান্টিও দেয়া হয়। একটি প্লান্ট স্থাপনে প্রাথমিকভাবে অর্থ ব্যয়ের পর আর কোনো ব্যয় হয় না। ভালোভাবে চালালে একটি প্লান্টে ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদন সম্ভব।
দেশে গ্যাস সংকট ইতোমধ্যেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্যাস সংকটে গ্যাস চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানায় উৎপাদন। গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত গ্যাস নিয়ে আছেন দারুন বিপদে। শীত মওসুমে সারা দেশে প্রতিদিন প্রায় একশ’ থেকে একশ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি হচ্ছে। ঘাটতি হয় গ্রীষ্মকালেও। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও প্রকট হবে। ইতোপূর্বে বিদেশ থেকে পাইপ লাইনে গ্যাস আমদানীর কথাও চিন্তা করা হয়। তা-ও সফল হয়নি। এই অবস্থায় সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া, অপচয়রোধ এবং গ্যাসের বিকল্পের দিকে ধাবিত হওয়া।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT