ধর্ম ও জীবন

ওয়াদা করার পূর্বে ইনশাআল্লাহ বলা

মোহাম্মদ ছয়েফ উদ্দিন প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-১২-২০১৭ ইং ২২:২৯:০৬ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) নবুয়ত লাভের পর মক্কায় তাওহিদের দাওয়াত শুরু করেন। নবুয়ত চর্চা সূচনা করেন। কোরায়েশরা তাতে বিব্রত বোধ করে। বিরক্ত হয়। তৎকালীন সময় মদীনায় তাওরাতের অভিজ্ঞ আলিম ছিলেন। অর্থাৎ ইহুদী পন্ডিতেরা ছিলেন। কুরায়েশরা নযর ইবনে হারেস ও ওকবা ইবনে আবি মূয়ীতকে নবী করিম (সঃ) সম্পর্কে জানার জন্য মদীনায় পন্ডিতদের কাছে পাঠায়। ইহুদী পন্ডিতেরা নবী করিম (সঃ) সম্পর্কে কুরায়েশ দূতদের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনেন। নবী করিম (সঃ) কে তিনটি প্রশ্ন করার জন্য পন্ডিতেরা কুরায়েশ দূতদেরকে বলেন। তারা বলেন, নবী করিম (সঃ) এ তিনটি প্রশ্নের সঠিক জবাব দিলে বুঝা যাবে তিনি সত্যিই আল্লাহর রাসূল। উত্তর প্রদানে ব্যর্থ হলে মনে করা হবে তিনি রাসূল নন। প্রশ্ন তিনটি হলো (ক) তাঁকে ঐ সব যুবকের অবস্থা জিজ্ঞেস কর যারা প্রাচীন কালে শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তাদের ঘটনা কি? কেননা ইহা এক বিস্ময়কর ঘটনা। (খ) তাঁকে সে ব্যক্তির অবস্থা জিজ্ঞেস কর যে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম এবং সারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছিল। তাঁর ঘটনা কি? (গ) তাঁকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন কর। এটা কি?
উভয় দূত প্রশ্ন তিনটি হৃদয়ঙ্গম করে মক্কায় ফেরে। তাদের লোকজন জমায়েত করে ইহুদী আলেমদের শিখিয়ে দেওয়া প্রশ্ন তিনটি উপস্থাপন করে। কুরায়েশরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর দরবারে প্রশ্নগুলো নিয়ে হাজির হয়। একে একে প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করে। নবী করিম (সঃ) প্রশ্নগুলো শুনেন। পর দিন (আগামীকাল) উত্তর দিবেন বললেন। তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে ভুলে গেলেন। কোরায়েশরা নবীজীর দরবার থেকে ফিরে গেল। রাসূল (সঃ) ওহীর আলোকে প্রশ্ন তিনটির উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহপাকের পক্ষ হতে ওহী প্রাপ্তির অপেক্ষায় রইলেন। পরদিন ওহী নাযিল হলো না। জিব্রাঈল ফেরেস্তা আগমন করেন নাই। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নবী করিম (সঃ) প্রশ্ন তিনটির উত্তর দিতে পারেন নাই। এ অবস্থায় পর পর পনের দিন কেটে গেল। রাসূল (সঃ) চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কোরায়েশরা তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ শুরু করে।
পনের দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জিব্রাঈল (আঃ) পবিত্র কোরআনের সূরা ‘কাহ্্ফ’ নিয়ে অবতরণ করেন। ইহাতে বিলম্বে ওহী নাযিলের কারণ বর্ণনা করা হয়। ভবিষ্যতে কোনো কাজ সম্পাদনের ওয়াদা (প্রতিশ্রুতি) করা হলে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা উচিৎ। আলোচ্য ঘটনায় ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলার কারণে রাসূল (সঃ) কে সতর্ক করার জন্য বিলম্বে ওহী প্রেরণ করা হয়।
‘ইনশাআল্লাহ’ অর্থ ‘যদি আল্লাহ চান’। আল্লাহপাক না চাইলে বা তাওফিক (ক্ষমতা) না দিলে বান্দা কোন কাজ করতে পারে না। তাই তো আল্লাহ সর্বশক্তিমান। কোন কাজ সম্পাদনের ওয়াদা প্রদান প্রাক্কালে ইনশাআল্লাহ বলতে হয়। এর মানে আল্লাহ পাক চাইলে বা ক্ষমতা প্রদান করলে। আল্লাহ কোনো কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা প্রদান করতে পারেন, আবাও না-ও করতে পারেন। আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত হলে বান্দা ওয়াদা পালনে সমর্থ হন। মৃত্যু হলে বান্দা ওয়াদা পালনে ব্যর্থ হন। স্বভাবতই ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে মৃত্যুর কথা মনে হয়। ঘন ঘন মৃত্যু স্মরণ করা ইসলামিক দৃষ্টিতে কল্যাণকর। মৃত্যু স্মরণ করলে ইহলোকে পাপ কাজে (অসৎ কাজে) লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়া আখেরাতের শস্য ক্ষেত্র। এখানে ভাল কিছু করলে ফল পাওয়া যাবে পরকালে। পরকালের অনন্ত জীবন সুখের হলে দুনিয়ার জিন্দেগি সার্থক হবে। সুতরাং কোনো কাজ করার ওয়াদা করলে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভুলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে হবে।

শেয়ার করুন
ধর্ম ও জীবন এর আরো সংবাদ
  • তাফসিরুল কোরআন
  • মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবীর অঙ্গীকার
  • পাপ থেকে বেঁচে থাকার উপায়
  • ইলমে হাদীসের খেদমতে আল্লামা গহরপুরী
  • রোহিঙ্গা সঙ্কটের বহুমুখী প্রভাব
  • গণতন্ত্র : জনগণের শাসন ও উন্নয়ন
  • তাফসির
  • ইলমে তাসাউফের খেদমতে আল্লামা ফুলতলী (রহ.)
  • নিয়ত ও নৈতিকতা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ
  • মায়ের ভালোবাসা জান্নাতে নিয়ে যায়
  • তাফসিরুল কোরআন
  • ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও তাঁর ফিকাহ
  • ওয়াদা করার পূর্বে ইনশাআল্লাহ বলা
  • ইসলামের দৃষ্টিতে সেলফি আসক্তি
  • ভ্রƒণ হত্যা : ইসলাম কী বলে
  • তাফসির
  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার ফিকহ
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • মা-বাবার মর্যাদা ও সমাজের বাস্তবতা
  • সাবধানতার পোশাকই সর্বোত্তম
  • Developed by: Sparkle IT