সম্পাদকীয়

পরিবার পরিকল্পনা সপ্তাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১২-২০১৭ ইং ০২:১৯:৪৪ | সংবাদটি ১১৯ বার পঠিত

পরিবার পরিকল্পনা সেবা সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। মূলত পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করাই হচ্ছে এই সেবা সপ্তাহের লক্ষ। সপ্তাহ জুড়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির বিশেষ সেবা দেয়া হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতির ওপর। সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি সেবা কেন্দ্র, এনজিও এবং প্রাইভেট সেক্টরের সব সেবাকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনার বিশেষ সেবা দেয়া হবে। সরকার বলছে, এই প্রচার সপ্তাহে মাঠ পর্যায়ে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীদের হার বাড়ানোর জন্যই কাজ করা হবে। উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোতে জনসংখ্যা যেখানে হ্রাস পাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। বিশ্বের অনেক দেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা ‘অভিশাপ’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। এখানে প্রতি মিনিটে চারজনের বেশি শিশুর জন্ম হচ্ছে। সর্বশেষ শুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি। কিন্তু জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির ওপড়ে। বর্তমানে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, তা অব্যহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছুবে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৬০ দশমিক সাত শতাংশ বসবাস করে শুধু এশিয়া মহাদেশে। এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশত ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশে ১৯৬১ সালে জনসংখ্যা ছিলো তিন কোটির ওপরে। সেই জনসংখ্যা এখন বেড়েছে পাঁচ গুণ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম থাকা সত্ত্বেও দেশে এর উন্নত ব্যবস্থা এবং গতি সামান্য।
এদেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্ব থেকে। প্রথমে শুরু হয় বেসরকারি পর্যায়ে। পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে শুরু হয় এই কার্যক্রম। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের জনসংখ্যাকে সীমিত পর্যায়ে রাখা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এই খাতে ব্যয়ও হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু যতো উদ্যোগ আয়োজনই হোক না কেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনসংখ্যা বাড়ছে কী শহর কী গ্রাম সর্বত্র, শিক্ষিত সচেতন পরিবার থেকে শুরু করে অশিক্ষিত নি¤œ আয়ের দিনমজুরের ঘরে বেড়ে চলেছে জনসংখ্যা। অনেকে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে ‘জনবিস্ফোরণ’ হিসেবেই অভিহিত করেছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে মানুষ এখনও সচেতন হয়নি।
বিভিন্ন জরিপে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে বর্তমানে দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার হার যেমন বেশি, সক্ষম দম্পতির সংখ্যাও তেমনি বেশি। দেশে প্রায় ২৭ শতাংশ দম্পতির পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তাদের সেই সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিবার কল্যাণ সহকারী বা মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষদের পরিবার পরিকল্পনার পরামর্শ দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সঙ্গে বাড়ছে অনাকাংখিত গর্ভধারণ। সুতরাং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষে নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণও একটি অতি জরুরী বিষয়। পরিবার পরিকল্পনা সেবা সপ্তাহে এইসব ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেই আমরা আশা করছি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT