পাঁচ মিশালী

দেশ ভ্রমণের আনন্দ

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১২-২০১৭ ইং ০২:২৩:১৮ | সংবাদটি ৩৫ বার পঠিত

‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি, দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী।’
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
একস্থান থেকে অন্যস্থানে, একদেশ থেকে অন্যদেশে ঘুরে বেড়ানোর নাম ভ্রমণ। ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা, জ্ঞান ও আনন্দ লাভ। এ বিশ্ব এক বিচিত্র সৃষ্টি। এ সুন্দর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম জীবজন্তু, বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক দৃশ্য। বিভিন্ন দেশ ভ্রমন না করলে এ সৌন্দর্য যেমন বুঝা যায় না, তেমনি মনের প্রশস্ততাও বাড়েনা। মানুষের সমগ্র জীবনই শিক্ষার জন্য। শিক্ষাবিহীন জীবন পশুতুল্য। শিক্ষাই একটা দেশ ও যেকোন জাতীকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে। মানুষ মরণশীল। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে তার অমরত্ব পৃথিবীর বুকে উদয়মান থাকে। মানুষের জীবনে যত ধরনের আনন্দদায়ক বৈচিত্র রয়েছে তার মূলে রয়েছে শিক্ষা। আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। তাই মানুষের জীবনের শিক্ষা আর আনন্দ উভয়ই অনেকাংশে নির্ভর করে দেশ ভ্রমণের উপর। পাশ্চাত্য দেশে ভ্রমণ শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। তাই বিদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্ব বিদ্যালয়ে শিক্ষা শেষ করে দেশ ভ্রমণে বের হয়। তাদের বিশ্বাস দেশ ভ্রমণ না করলে শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে দেশ ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশে পর্যটন শিল্পের উৎকর্ষতা সাধনের মতো পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এদেশে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থান, জলবায়ু, নৈসর্গিক দৃশ্য সবই পর্যটন শিল্পের অনুকূলে। এখন শুধু প্রয়োজন সুস্থ, স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দেশপ্রেম।
বিচিত্র এই পৃথিবীর মানুষ আর বিচিত্র তার মন। গতিশীলতার মাঝে মানুষ খোঁজে তার বৈচিত্র। এছাড়াও দেশ ভ্রমণে আকৃষ্ঠ করে তুলছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বন সুন্দরবন। সুন্দর বনের আভ্যন্তরীন ছোট ছোট নদী, গাছপালা, জীবজন্তু মানুষকে কাছে টানে। এছাড়াও দেশ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়, চা বাগান। যা বিশ্বের অনেক দেশেই নেই। এমন জিনিস সহজেই পর্যটকদেরকে আরো কাছে টানো। ভ্রমণের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে মানুষের মধ্যে যে উপলব্দি জ্ঞান, অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয় তা চির অমলিন, অনির্বান হয়ে যাকে ভ্রমণকারীর হৃদয় পটে। আর তাই মানুষের জ্ঞান শিক্ষা সৌন্দর্য বিকাশের একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এইদেশ বাংলাদেশ। চারদিকে সবুজ শ্যামল নদীমাতৃক দেশ। আকাশের পাখিকে দেখে মানুষের মন উড়ে যেতে তার সাথে। কিন্তু মানুষের এই উড়ে বেড়ানোর শখ কেবল মনের খামখেয়ালিপনা থেকে জাগরিত হয় না। এর পেছনে থাকে তার অজানাকে জানার কৌতুহল। মানুষ জানতে চায়, শিখতে চায়। এই জ্ঞান আহরণের জন্য মানুষের জীবনে ভ্রমণ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ভ্রমণের মাধ্যমে এক দেশের মানুষের অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি, পরিচিতি ও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক, ভৌগলিক আন্তর্জাতিক প্রভৃতি জ্ঞানের পরিপূর্ণতা লাভ হয়। যে জ্ঞান আনন্দের সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল হয়না, যে জ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভ্রমণ মানুষকে দেয় বৈচিত্র একগেঁয়েমির অপবাদ থেকে মুক্তি। এ দেশের জ্ঞানী ব্যক্তিগণ অন্যদেশের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে পরিচিতি লাভ করে। নিজেদের উৎসুক্য ও সৃষ্টিকে বিকশিত করতে পারে। নিজের স্বল্প পরিসর গন্ডির মধ্যে দীর্ঘকাল আবদ্ধ হয়ে থাকলে মানুষের মন ও হৃদয় স্বভাবতই সংকুচিত হয়ে আসে। প্রাত্যাহিক জীবনের নানা সংকীর্ণতা ও গ্লানি তখন জীবনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ক্ষুদ্র স্বার্থ ও গ্লানিকর আত্মকেন্দ্রিকতা তখন আমাদের এমনভাবে ঘিরে ধরে যে, আমাদের কূপমন্ডূক হয়ে থাকতে হয়। এরকম অবস্থা অপমৃত্যুরই শামিল। আমাদের কূপমন্ডূকথা, ক্ষুদ্রতাকে দূর করতে পারে একমাত্র দেশ ভ্রমণই। দেশভ্রমণ মনের প্রসারতা ঘটায়।
দেশভ্রমণে শুধু শিক্ষা লাভই হয়না। এতে আমরা পাই বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ। দেশভ্রমণ আমাদেরকে দিতে পারে রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতিতে পরিকল্পনা গ্রহণের মানসিকতা। তাছাড়া শুধু মানুষই মানুষকে সঙ্গ দান করেনা। দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে পাওয়া যায় বিশ্ব প্রকৃতির সান্নিধ্য। দেশ ভ্রমণ আনন্দলাভের একটি বড় উৎস। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে দেশভ্রমণ এখন সহজ হয়ে উঠেছে। পৃথিবী ঘুরে আসা এমন একটা বড় কথা নয়। বিশ্ব প্রকৃতি ও মানব প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষের মনের জিজ্ঞাসার উত্তর মেলে দেশ ভ্রমণে। দেশ ভ্রমণে মানুষের সভ্যতাকে পূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। ভ্রমণ সংকীর্ণ জগতকে বিস্তৃত করে। মানুষের মনকে উদার ও সংস্কারহীন করে তুলে। তাই পবিত্র ইসলাম ধর্মেও দেশ ভ্রমণের কথা বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT