স্বাস্থ্য কুশল

নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য

অধ্যাপক ডা. এম.এ. বাসেদ প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০১-২০১৮ ইং ০২:২০:৫৪ | সংবাদটি ১৬২ বার পঠিত

যখন সাবালক পুরুষের শুক্রকিট থাকেনা তখন তাকে অ্যাজোস্পারমিয়া বলে। দেশের ব্যাপক সংখ্যক পুরুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত। আমাদের দেশে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, সন্তান জন্ম দিতে না পারার জন্য কেবল স্ত্রীরাই দায়ী। অথচ এই ধারণা সম্পূর্ণভাবে ভুল। মূলত সন্তান জন্ম দিতে না পারার জন্য কেবল স্ত্রীগণই দায়ী নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষ।
আর এ ধরণর পুরুষ সাধারণত সঠিক চিকিৎসা ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়না। এই সমস্ত পুরুষকে অ্যাজোস্পারমিয়া রোগী বলা হয়। অ্যাজোস্পারমিয়া সাধারণত দুই প্রকার। বারবার পরীক্ষা করেও যে সমস্ত পুরুষের কোন প্রকার শুক্রকিট পাওয়া যায়না এমনকি সংশ্লিষ্ট টিস্যু পরীক্ষা করেও যদি কোন প্রকার শুক্রকিট না পাওয়া যায় তবে এমন পুরুষকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম বলে ধরে নেয়া হয়।
বর্তমানে দেশে প্রায় শতকরা ৫০ শতাংশ পুরুষের কারণে সন্তানহীনতা হয়ে থাকে। অধিকাংশ পুরুষের সন্তানহীনতার চিকিৎসা মহিলাদের চিকিৎসার চেয়ে অনেক জটিল। ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ পুরুষের শুক্রকিট থাকেনা এবং ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ থাকলেও তা বিকলাঙ্গ থাকে। এ কারণগুলোর মধ্যে জলবসন্ত, মামস, মিজাল, যক্ষা, যৌনরোগ ও আঘাতজনিত রোগ প্রধান।
কি করতে হবে :
এমইএসএ অথবা পিইএসএ অথবা অন্যান্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে তার সংশ্লিষ্ট শুক্রকিট তৈরি করতে পারে কিনা। যদি কোন শুক্রকিট পাওয়া যায় আর তা যদি হয় দুর্বল সেক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যবান করার জন্য বিভিন্ন প্রকার মিডিয়া (ওষুধ) প্রয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবান করতে হবে। যাতে পরবর্তী কাজ করার জন্য অথবা চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যায়।
এই ক্ষেত্রে কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান লাভের জন্য চেষ্টা করা যেতে পারে। অধিক সময় সুস্থ সবল শুক্রকিট ধৌত করার পর (মাইনাস) ১৯০ ডিগ্রী তাপ মাত্রার নিচে তরলনাইট্রোজেন গ্যাসে ক্রায়ো ব্যাংক-এ বছরের পর বছর রাখা যায়। সময়মতো তা আইইউআই, আইভিএফ, আইসিএসআই নামক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান হীন দম্পতিদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT