সম্পাদকীয়

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০১-২০১৮ ইং ০২:১২:০৬ | সংবাদটি ২৬ বার পঠিত

বিশ্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ দিবস আজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন রীতিমতো ভয়াবহ আকার নিয়েছে, অপরদিকে কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং হ্রাস পাওয়াটাই সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে- এমনি একটি প্রেক্ষাপটে  আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ দিবস। আর এই অবস্থায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি বর্ণনা করার অবকাশ রয়েছে। এখানে প্রতি মিনিটে জনসংখ্যা বাড়ছে চারজন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৬০ দশমিক সাত শতাংশ বসবাস করে শুধু এশিয়া মহাদেশে। এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশ ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ১৯৬১ সালে যেখানে জনসংখ্যা ছিলো তিন কোটির ওপরে, সেই জনসংখ্যা এখন বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনসংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছুবে কয়েক বছরের মধ্যেই। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এদেশে শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই। প্রথমে বেসরকারি পর্যায়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে এই কার্যক্রমে বেশ সফলতা আসে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই কার্যক্রম চলছে ঢিমে তালে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ব্যাপারে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত-সচেতন দম্পতিও অধিক সন্তান নিচ্ছেন। অনেক দম্পতি অনাকাক্সিক্ষত শিশুর জন্মও দিচ্ছেন। এর কারণ হচ্ছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাঠ কর্মীরা সচেতন করে তুলছেন না দম্পতিদের। বিশেষ করে, অনগ্রসর দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে বলা যায় অন্ধকারেই। তাছাড়া, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি ও সামগ্রির দুষ্প্রাপ্যতাও রয়েছে। সব মিলিয়ে ঝিমিয়ে পড়েছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি।
বিভিন্ন জরিপে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, বর্তমানে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার হার যেমন বেশি, সক্ষম দম্পতির সংখ্যাও তেমনি বেশি। দেশে ২৭ দশমিক ছয় শতাংশ দম্পতির পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে সেই সেবা দেয়া হচ্ছে না। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা প্রদান করছেন না আগের মতো। স্বাধীনতার প্রাক্কালে একজন মা গড়ে ছয় দশমিক তিন জন সন্তান জন্ম দিতেন। পরবর্তীতে এক্ষেত্রে সাফল্য আসে ঠিকই, কিন্তু তা ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই যে ব্যর্থতা, এ থেকে উত্তরণ জরুরি। তার জন্য দরকার হচ্ছে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখা এবং যথাযথ প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সকল স্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলা।
এই প্রসঙ্গে অবশ্য সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালিত জরিপের কথা উল্লেখ করা যায়। জরিপে বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন আশাব্যাঞ্জক তথ্য। বলা হয়েছে, দেশে মানুষের প্রজনন হার কমছে এবং অদূর ভবিষ্যতে জনসংখ্যা হ্রাস পাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রের সঙ্গে এই তথ্যের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বর্তমানে যা রয়েছে, সেটা আয়তনের তুলনায় অনেক বেশি। তাছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বে একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সুতরাং এই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে টেকসই অবস্থানে নিয়ে আসতে না পারলে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে বর্ধিত জনসংখ্যা ভবিষ্যতে নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাই একে নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মতৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি দরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে একটা সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT