মহিলা সমাজ

অসমাপ্ত ভালোবাসা শেখ রিমঝিম দোলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০১-২০১৮ ইং ০২:১৪:২২ | সংবাদটি ৪১২ বার পঠিত

ভালোলাগা ভালোবাসা সকলের জন্যই সমান, ভালোলাগা ভালোবাসা আছে বলেই পৃথিবী এখনো অনেক সুন্দর। তাইতো ভালোবাসা সার্বজনীন। ভালোলাগা ভালোবাসা থেকেই প্রেম প্রণয়ের আবির্ভাব। পাশাপাশি চলতে চলতে ভালোবাসার শুরু হয়। ভালোবাসা শুধু মাত্র প্রেমের জন্যই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভালোবাসার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি মানুষই ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ, কেননা ভালোবাসার আয়তন ব্যাপক, যা পরিমাপ করা যায় না। এবার একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প বলা যাক।
রুদ্র আর রিয়া খুব ভালো বন্ধু ছিল। তারা একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করত। স্কুল জীবন শেষে তারা দু’টি আলাদা কলেজে অধ্যয়ন শুরু করে। তবে একই শিক্ষকের বাসায় প্রাইভেট পড়ে। রিয়া যখন অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তখন সে বুঝতে পারে, সে রুদ্রকে ভালোবাসে। স্কুল জীবন থেকে তারা স্বাধীনভাবে চলতে চলতে অনেক স্বাধীন হয়ে গেছে। সব সময় তারা নিজেদের অনেক খোঁজ-খবর রাখে। রিয়া মেয়ে হিসেবে খুব ভালো, সে কখনো কাউকে কষ্ট দিতে চায় না। রুদ্রও ছেলে হিসেবে বেশ ভালো, তবে ব্যক্তিত্ব একটু বেশি। অনেক দিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে রিয়া বুঝতে পারে, সে রুদ্রকে অত্যাধিক ভালোবাসে। কিন্তু রিয়া ভালোবেসে বিয়ে করবে না, কারণ সে তার পরিবারকে বিশেষ করে বাবাকে কষ্ট দিতে পারবে না। কারণ বাবা তাকে খুবই ভালোবাসেন। রিয়া-রুদ্রকে ভালোবাসে কিন্তু কখনো বলেনি। আর সে জানতো কখনোই রুদ্রকে তার ভালোবাসার কথা জানানো হবে না। রিয়া শুধু ভালোবেসে গেছে কিন্তু প্রকাশ করেনি। রিয়াতো মেয়ে, শুধু ভালোবাসতে পারে কিন্তু বলতে পারে না। রিয়া রুদ্রকে ভাবতে ভাবতে মাঝে মাঝে উদাস হয়ে যেত। সে চাইত রুদ্র তাকে বুঝুক আর একটু ভালোবাসুক। রুদ্রর চোখ দু’টি খুব সুন্দর, ঐ চোখের দিকে আর মায়াবী মুখের দিকে তাকালে রিয়া বার বার ওর প্রেমে পড়ত। রিয়া রাত জেগে ভালোবাসার মানুষের ছবি আঁকে মানের মধ্যে। ওর অবুঝ ভালোবাসা কি ওকে কখনো বুঝবে? রিয়া রুদ্রকে ভেবে একদিন দু’দিন নয়, অনেক দিন কেঁদেছে। ও চাইত রুদ্রকে ওর ভালোবাসার নদীর মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে। রিয়া কিন্তু বুঝতো এটা ওর বয়সের দোষ, তাই হয়তো রুদ্রকে ভালোলাগে আর অনেক ভালোবাসে। সে এটাও জানতো কখনোই রুদ্রকে বলা হবে না তার ভালোবাসার কথাগুলো। আর ভালো বন্ধু হিসেবে রিয়া কখনোই চায় না রুদ্র ওর জীবন থেকে হারিয়ে যাক। রিয়া কিন্তু ওর বন্ধুদের কথা রাখে, কিন্তু ওর কথা কেউই রাখে না। রিয়া রুদ্র এক সময় দু’জনই সরে যায় দু’প্রান্তে। কিন্তু রুদ্রর জন্য ভালোবাসা, প্রেম সবটুকুই রয়ে যায় রিয়ার হৃদয়ের গভীরে। নীরব ভাষায় ভালোবাসতো মেয়েটা কিন্তু বলতে পারেনি কিছুই। ও নিজের মনকে প্রশ্ন করতঃ, রুদ্র আমার, তুই কি আমায় ভালোবাসিস? তোকে যে কতোটা ভালোবাসি তা তোকে কখনোই বোঝাতে পারব না আমি। মাঝে মাঝে তোকে খুব ভয় পাই, যদি তুই আমায় ভুলে যাস, তবে খুব কষ্ট পাব। আমাকে কষ্ট দিস না বন্ধু, আমি সহ্য করতে পারব না। তোকে আমার খুব প্রয়োজন। ছায়া বন্ধুর মতো আমার পাশে থাকিস। রিয়া চায় রুদ্রটা খুব ভালো থাকুস সবসময়। ও ভাবত প্রেমের চাইতে বন্ধুত্ব অনেক ভালো, কারণ যে কোনো প্রয়োজনে বন্ধুদেরই কাছে পাওয়া যায়। সব কিছুরই একটা বিপরীত দিক থাকে, আর প্রেমের বিপরীত হচ্ছে বিরহ, যন্ত্রণা, কষ্ট ইত্যাদি। রুদ্র যদি কোনো দিন ওর কোনো আচরণে বা কথায় কষ্ট পায় তবে যে রিয়া নিজেকেই ক্ষমা করতে পারবে না। কারণ ওতো রুদ্রকে প্রাণের অধিক ভালোবাসে। কিভাবে ও রুদ্রকে কষ্ট দেবে?

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT