সম্পাদকীয়

ধূমপানে টিনএজার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০১-২০১৮ ইং ২৩:৫২:৩৪ | সংবাদটি ৬৯ বার পঠিত

তামাক চাষ আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। তামাক চাষের কোনো নীতিমালা না থাকায় এই প্রবণতা বাড়ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, প্রতিবেশ ও পরিবেশ সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বছর তামাক গ্রহণজনিত কারণে মারা যাচ্ছে ১২ লাখের বেশি মানুষ। রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে অন্তত ৫০ লাখ। দিনে দিনে এই সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিড়ি সিগারেটসহ অন্যান্য তামাকপণ্যের ব্যবহার। বাড়ছে ধূমপায়ীর সংখ্যা। দেশে ধূমপানের বিরুদ্ধে চলছে নানাভাবে প্রচারণা। ধূমপান বিরোধী আইনও রয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। ধূমপায়ীদের প্রকাশ্যে জনসমাগমস্থলে ধূমপানের মাত্রা বেড়েই চলেছে।
একদিকে তামাকপণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে চলছে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা পরিকল্পনা; অপরদিকে তামাকপণ্যের উৎপাদন বাড়ছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তামাক কোম্পানিগুলো নানা প্রলোভনে টিনএজারদের তামাকপণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষ করে বিড়ি সিগারেট পানে উৎসাহিত করা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৯ বছর  বয়সীদের। তামাক কোম্পানিগুলোর ধারণা, এই টিনএজারদের সিগারেট ধরানো গেলে পরবর্তী ৩০ বছর তারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবে। কারণ সিগারেটের নিকোটিন একবার নেশা ধরিয়ে দিলে তার রেশ অন্তত ত্রিশ বছর থাকে। আর তাই তারা নানা কৌশলে স্কুল-কলেজ বয়েসী কিশোর তরুণদের ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করছে। এতে তারা সফলও হয়েছে। ইদানিং রাস্তাঘাটে কমবয়সী ছেলেদের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট চোখে পড়ছে প্রায়ই।
অপরদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ হচ্ছে তামাক। বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলো চাষীদের অধিক লাভের প্রলোভন দিয়ে ধানের জমিতে তামাক চাষ করাচ্ছে। দেশের কমপক্ষে দশটি জেলায় ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে তামাক। আর অন্যান্য জেলায়ও কমবেশি তামাকের চাষ হচ্ছে। বহুজাতিক ও দেশীয় বিড়ি-সিগারেট কোম্পানিগুলো কৃষকদের আগাম অর্থ দিয়ে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। বর্তমান সারা দেশে তামাকের বার্ষিক উৎপাদন হচ্ছে এক লাখ মেট্রিকটনের বেশি। বছর কয়েক আগে যে উৎপাদন ছিলো ৪০ হাজার মেট্রিকটনের মতো। এই তামাক চাষের ফলে কৃষি জমির উর্বরা শক্তি বিনষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। তাছাড়া, বর্তমানে যে পরিমাণ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে সেই জমিতে ধান চাষ করলে বছরে কমপক্ষে পাঁচ লাখ মেট্রিকটন বাড়তি চাল উৎপাদিত হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ থেকে তামাকের ব্যবহার পাঁচ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেই লক্ষ বাস্তবায়ন যে একটা দুঃসাধ্য বিষয় সেটা অন্তত এই মুহূর্তে স্বীকার করে নিতেই হবে। যদি তামাকপণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার বর্তমানে যে গতিতে বাড়ছে তা অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে সামনে। এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে এখনই। দেশি-বিদেশি কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে যাতে চাষীরা তামাক চাষে উৎসাহী না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। তামাকচাষীদের ফিরিয়ে আনতে হবে ধান চাষে। ধূমপান বিরোধী আইন রয়েছে। সেটা কার্যকর করতে হবে। বিশেষ করে টিনএজারদের ধূমপানসহ অন্যান্য তামাকপণ্যের আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সচেতন হতে হবে পরিবার ও সমাজকে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT