সম্পাদকীয়

বাড়ছে জীবন যাত্রার ব্যয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০১-২০১৮ ইং ০১:৩৭:১৫ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে মানুষের। ফেলে আসা বছরে চড়া মূল্যের শিকার হয়েছে মানুষ। চালের উর্ধ্বমূল্যের চাপে অতিষ্ট হয়েই ২০১৭ সাল শেষ করতে হয়েছে। তাছাড়া, অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় দেশে মাথাপিছু আয় বাড়লেও গত বছর তার কোন সুফল পায়নি নি¤œ ও মধ্যম আয়ের ১২ কোটি মানুষ। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্য খেয়ে ফেলেছে তাদের বাড়তি আয়। ফলে বেশীরভাগ সাধারণ মানুষ দেশের সার্বিক  উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কমে গেছে তাদের সঞ্চয়। আর এসময়ে যাদের আয় বাড়েনি, তাদের জীবন যাত্রার মান আরও নীচে নেমেছে। বিশেষ করে অতি দরিদ্র দুই কোটি মানুষের জীবনমানে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মূলত কনজিউমার এসোসিয়েশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে এইসব তথ্য দেয়া হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে বিগত অনেকগুলো বছর থেকে। বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় অনেক সময় কোন কারণ ছাড়াই। আর একবার যদি কোন দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়, তা আর কমার কোন সম্ভাবনা থাকে না। এই নজির নেই আমাদের দেশে। কাঁচামাল থেকে শুরু করে চাল, ডাল, তরি-তরকারি সককিছুর দাম এখন আকাশছোয়া। বাড়তি মূল্যের ভারে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। দেশের জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষ। মূলত বাড়তি মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে তারা রীতিমতো দিশেহারা। বছরের পর বছর এভাবে দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলেও এতে ক্রেতাসাধারণের কোন হাত নেই। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
এক বছর থেকে আরেক বছরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে আট দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০১৬ সালে যদি কারও কোন একটি কাজে একশ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে, তবে সেখানে ২০১৭ সালে তাকে ব্যয় করতে হয়েছে একশ আট টাকা ৪৪ পয়সা। আর এই ব্যয় শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয়ের বাইরে। তাছাড়া ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যতোটা বেড়েছে পণ্যমূল্য ও জীবন যাত্রার ব্যয়, ২০১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে তার চেয়ে বেশি। দেখা গেছে চাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যদিনের অতি জরুরী পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। চালের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। পেঁয়াজে দাম বেড়েছে ৫৭ শতাংশের বেশি।
মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা। আমরা উপনীত হতে যাচ্ছি মধ্যম আয়ের দেশ-এ। সেই লক্ষে সরকার নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইস্পিত লক্ষে পৌঁছানো দুঃসাধ্য কিছু নয় বলেই মনে করছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। এই প্রেক্ষাপটে দেশের সীমিত আয়ের ও নি¤œ আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা ভাবতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। জনসংখ্যার বড় অংশ এই মানুষদের জীবন নানামুখী সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার অত্যাধিক ব্যয়। এদের আয় যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার দ্বিগুন তিনগুন বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। নিত্যপণ্যের মূল্যসহ চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে অনেকটাই। সরকারের এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরী।  

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT