পাঁচ মিশালী

শান্তির প্রত্যাশা

ঝর্না চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০১-২০১৮ ইং ০১:৪৫:০৩ | সংবাদটি ১৩৫ বার পঠিত

শীতের শুভ্র কুয়াশায় প্রকৃতি যবুথবু। মানুষের জীবন যাত্রা কুয়াশার আড়ালে ঢাকা। অলস বুড়ি শীত। মানুষের কর্মময় জীবন স্থবির করে রাখে। তবুও তা  তো আর থেমে থাকে না।
কাকডাকা ভোরেই কোলাহল মুখর পৃথিবী। আর এ পৃথিবীর বিচিত্র  খেলায় কেউ খুব সুখী, আবার কারও দুঃখের কোন শেষ নেই। জীবন মানেই সুখ আর শোকের খেলায় মেতে থাকা।
কালের পরিক্রমায় আমাদের জীবন থেকে আরও একটি সাল ২০১৭ খ্রি: বিদায় নিয়ে চলে গেছে ঘুম ঘরে। আর এ চলে যাওয়া মানেই পৃথিবীর মানুষের কাছে বিচিত্র, তিক্ত অভিজ্ঞতা, প্রিয়জন হারানোর ব্যথা বেদনার। আর বেঁচে থাকা। বেড়ে উঠা মানুষের জীবন থেকে একটি সাল চলে যাওয়া মানেই জীবনের বয়স বাড়িয়ে দেয়া।
এমন বিচিত্র খেলায় মানবকুল অভ্যস্ত। তবে শোক বা সুখের স্মৃতি ফিরে ফিরে মানব হৃদয়ে কেঁদে ওঠে। ২০১৭ খ্রি: সাল চলে যাওয়ার অনেক ঘাত প্রতিঘাত সুখ বা শোক অনেকের জীবনকেই ছুঁয়ে গেছে। তবে সুখের স্মৃতি ক্ষণস্থায়ী। আর শোকের স্মৃতি অনেক কাল বেঁচে থাকা অবদি বয়ে বেড়াতে হয়, এমনটাই জীবনের সংজ্ঞা। বিদায়ী বছরে আমরা হারিয়েছি অনেক প্রিয়জন কারও মা, বাবা, ভাই বন্ধু আত্মীয় স্বজন। তার কোন পরিসংখ্যান কারও জানা নেই। শুধু যার গেছে তারাই ভুক্তভোগী।
তবে রাষ্ট্র হারিয়েছে অনেক বিজ্ঞজনকে, যারা দেশও দশের তরে কর্মের মাধ্যমে মেধা খাটিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তবে তাদের আরও কিছু কাল বেঁচে থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মৃত্যু একটি কঠিন এবং ভয়াল শব্দ। এতে মানুষের কোন হাত নেই।
হিসাব নিকাশের অংক মিলাতে গিয়ে ২০১৭ সাল মন্দের ভাল বলা যেতে পারে। অর্থনৈতিক দিক থেকে মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।  কারণ মাঝ পথে এক শ্রেণীর মুনাফা লোভীর কারণে চালের দাম বাড়িয়ে চাল বাজীতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে এক শ্রেণীর মানুষ। বর্তমানে পিঁয়াজের দাম নিয়ে চলছে নানা অজুহাত। অতিবৃষ্টি বন্যা খড়ার কারণে বেহাল দশায় কেটেছে অনেক দিন। বাংলাদেশের মত একটি মধ্যম আয়ের দেশে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নেয়ার কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা বিপত্তি এসেছে। তবে মানবতা বোধের কাছে এসব বাধা বিপত্তি অতি তুচ্ছ, কারণ ‘মানুষ মানুষের জন্য’।
আর নারী নির্যাতন ধর্ষণ হত্যা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হানির চিত্র ভয়াল। প্রতিদিন খবরের কাগজে নানা ভাবে মৃত্যুর ঘটনা জেনে শরীর শিহরণ দিয়ে মন ব্যাথাতুর হয়ে পরে। কিন্তু এসবের শেষ কোথায়? প্রতিকার কি? এসব তো মানুষের সৃষ্টি। সুখকর কোন আশ্চর্য্য ঘটনা ২০১৭ সালে ফিরে দেখার মত নয়। তবে বেদনার চিত্র বিশাল অনেককাল ধরে রাখার মত।  অনেকের জীবনকেই বিষাদময় করে রেখেছে।
কাল পরিক্রমায় মানুষের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির বিষয়টি গোধুলী লগ্নের মত। সারাদিন সূর্যটা আলো ছড়িয়ে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার সাথে সাথেই পৃথিবীতে নেমে আসে আঁধার। আর এমন আঁধারে আসে ভয়, আর এই ভয়কে জয় করতে গিয়ে কৃত্রিম বাতির আলোয় জীবনকে আলোকিত করি। আর আঁধারে মানুষের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। আর কাল অতিক্রান্ত হচ্ছে।
এখানে একটি কথা মনে পড়ে গেল। কালকে পেয়েছে ভূতে, বাপকে কিলায় পুতে। সত্যিকার অর্থেই কালকে ভূতেই পেয়েছে, নইলে প্রতিদিতন নানা ভাবে শত অঘটনা ঘটে চলছে। এমন তো সুখের ঘটনা হাতে গুনা হতে পারে।
মানুষের সাফল্যে ব্যর্থতার বিচার বিশ্লেষণ থেকে বিয়ে বা প্রেমের সফলতার কারণে হয়তো ২০১৭ সালটি মনে রাখার মত মনে করেন, আর যাদের বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে তাদের ক্ষেত্রে ২০১৭ সালটি বিষাদময় হয়ে থাকবে। জীবনে চলার পথে নানা পরিস্থিতি সামনে এসে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতি থেকে কেউ বিপদগামী হন আবার কারো  জীবনে সফলতা আসে। প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক সফলতা এসেছে। সমাজে নানা পরিবর্তন পরিবর্ধন এসেছে। তবে এসব ধরে রাখা কঠিন।
অতীত মৃত এবং কিছু স্মৃতির জন্ম দিয়ে যায়। কালের পরিক্রমায় এটাই নিয়ম। তাই পিছনে ফিরে না থাকিয়ে জীবনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে নুতন প্রত্যাশায়। মানুষের নতুন প্রত্যাশার কোন শেষ নেই। বরাবরেই মানুষের জীবনে প্রত্যাশা আর প্রপ্তি পাশাপাশি আবস্থান করে।
২০১৮ সালের প্রতিটি সূর্যোদয়ের নুতন সনে দেশ দেশের মানুষ পৃথিবীর প্রকৃতি সুখ শান্তি আর সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, এমন প্রত্যাশার আলোতে জীবন সুখময় হউক প্রতিটি মানুষের। ঘরে ঘরে সোনালী আলোয় ভরে আনন্দে মেতে উঠুক দেশের মানুষেরা। 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT