সম্পাদকীয়

পলিথিনের ছড়াছড়ি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০১-২০১৮ ইং ০১:২২:৫৯ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

পলিথিনে সয়লাব বাজার হাট, গ্রাম-শহর, খাল-নালা, হাওর-ডোবা। পলিথিন ধ্বংস করছে পরিবেশ, ধ্বংস করছে পানি নিষ্কাষন ব্যবস্থা। পলিথিন জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট করছে; দূষিত হচ্ছে বাতাস। পলিথিনের বিরুদ্ধে আইন আছে। আইনে পলিথিন ব্যবহারের ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এই আইনের কোনো কার্যকারিতা নেই। যথা নিয়মে উৎপাদিত হচ্ছে পলিথিন শপিং ব্যাগ; আর তা সর্বত্র বিনা বাধায় ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। এমন কোনো পণ্য নেই, যা পলিথিনের ব্যাগে পরিবহন হচ্ছে না। আইনগতভাবে উৎপাদন বিপনন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তা মানছেনা কেউই। জানা গেছে, পলিথিন তৈরির মেশিন সহজলভ্য হওয়ায় এর উৎপাদন বাড়ছে। তাছাড়া, পলিথিন শপিং ব্যাগের দামও কম।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে প্রতিদিনই পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। ১৯৯৩ সালে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ লাখ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার হতো। বর্তমানে প্রতিদিন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে কমপক্ষে দেড় কোটি। বাংলাদেশে পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার শুরু হয় বাণিজ্যিকভাবে ১৯৮২ সাল থেকে। থার্মোপ্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে প্রস্তুত করা হয় পলিব্যাগ। কমপূঁজি ব্যবহার করে বেশি লাভ হওয়ায় এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে অসংখ্য মানুষ। গড়ে উঠতে থাকে পলিথিনের কারখানা একের পর এক। আর বাড়তে থাকে এর ব্যবহার। কিছু দিনের মধ্যেই এই পলিথিনের ক্ষতিকারক দিক সম্বন্ধে উপলব্ধি করতে থাকে সচেতন মহল। শুরু হয় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সরকার আইন করে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। যদিও সেই আইনের কার্যকারিতা নেই।
বলা যায়, দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠেছে পলিথিন কারখানা। যদিও এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই, তারপরেও সরকারের বিনিয়োগ বোর্ড বলেছে, সারা দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ কারখানা আছে ৪০টি। বেসরকারি হিসেবে দেশে পলিথিন শপিং ব্যাগ কারখানা কমপক্ষে এক হাজার। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, পরিবেশ অধিদপ্তর বা সরকারের অন্য কোনো দপ্তরে নেই পলিথিন কারখানার সঠিক পরিসংখ্যান। বিশেষজ্ঞদের মতে পলিথিনের বিকল্প দ্রব্য না থাকায় ভোক্তা সাধারণ পণ্য পরিবহনে পলিথিন শপিং ব্যাগই পছন্দ করছেন। বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ এর প্রচলন শুরু হলেও এর দাম বেশি থাকায় ব্যবহার বাড়ছে না।
পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধের আন্দোলন শুরু হয় ১৯৯০ সালে। এরপর থেকে শুরু হয় এ নিয়ে গবেষণা। সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সভা, সেমিনার। জনমত সৃষ্টি করার জন্য নেয়া হয় নানা পরিকল্পনা। এভাবে এক যুগ চলার পর ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, বিপনন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। আইনে পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন, আমদানী ও বাজারজাত করার দায়ে দশ বছর কারাদ-, দশ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়। তখন পলিথিন বিরোধী অভিযানও পরিচালিত হয়। ফলে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু দু’তিন বছরের মধ্যেই ঝিমিয়ে আসে অভিযান। ফিরে আসতে থাকে পলিথিন পূর্বাবস্থায়। পলিথিনের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতেই হবে, আর সচেতন হতে হবে সাধারণ মানুষকেও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT