আদালতে আসামীর স্বীকারোক্তি: হবিগঞ্জে দুলাভাইয়ের হাতে শ্যালিকা খুন

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জে দুলাভাইয়ের হাতে শ্যালিকা খুন হয়েছেন। দুলা ভাইয়ের অবৈধ প্রেমের ঘটনা জেনে ফেলায় এই খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আটক সোহাগ নামের ওই যুবক কারাগারে রয়েছে।
জানা যায়, স্ত্রী প্রবাসে থাকায় শ্যালিকার সঙ্গে ভগ্নিপতির গড়ে উঠে অবৈধ সম্পর্ক। এক পর্যায়ে স্ত্রীর বড় বোনের মেয়ের সঙ্গেও শুরু হয় অবৈধ সম্পর্ক। আর বিষয়টি জেনে যাওয়ায় শ্যালিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে খুন করেন সোহাগ। শুধু খুন করেই থেমে থাকেনি সোহাগ, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টাও করে ওই যুবক। গত বুধবার রাতে সোহাগকে আসামী করে থানায় মামলা করেন শ্বশুর আব্দুল ছাতির। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহাগকে আটক করলে বিষয়টি জানা যায়।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহাগ। সে হবিগঞ্জ শহরের যশেরআব্দা গ্রামের সবুজ মিয়ার পুত্র। পুলিশ জানায়, সোহাগ আদালতকে জানিয়েছে ১০ বছর আগে চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুল ছাতিরের কন্যা সিতারাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সোহাগ শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করে আসছে। দাম্পত্য জীবনে এক পুত্র সন্তান রয়েছে তাদের।
বছর খানেক আগে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী সিতারা সৌদি আরব যান। এ সময় সোহাগের শিশু পুত্রকে দেখাশোনা করতেন তার শ্যালিকা জুনেরা খাতুন। এক সময় শ্যালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সোহাগের। এদিকে, সোহাগের স্ত্রীর বড় বোন থাকেন পার্শ্ববর্তী জিকুরা গ্রামে। তার কিশোরী কন্যা প্রতিদিন নানার বাড়িতে অসুস্থ নানীর কাছে ঘুমাতে আসেন। এ সুযোগে তার সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে সোহাগ।
বিষয়টি জুনেরা বুঝতে পারলে সোহাগের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সবকিছু ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিলে মঙ্গলবার রাতে জুনেরার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে সোহাগ। পরে এটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া এবং তড়িঘড়ি লাশ দাফনের চেষ্টা করে সে।
কিন্তু শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে চুনারুঘাট থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) চম্পক ধাম বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর সোহাগকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জুনেরার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।