আপনার সন্তান ও বদনজর

মুন্সি আব্দুল কাদির
সন্তান মানুষের বংশধারা বজায় রাখে। আদম (আঃ) থেকে শুরু করে মানুষের বংশধারা এই সন্তানদের মাধ্যমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন নিঃসন্তান স্বামী স্ত্রীর সাথে আলোচনা করলে পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের সুখ বুঝা সহজ হয়, সন্তানহীনের মর্মবেদনা উপলব্ধি করা যায়। একজন পিতা একজন মাতার স্বপ্ন এই সন্তানকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। মানুষ নিজের জন্য আর কতটুকু করে? নিজের তিন বেলা খাবার, গায়ের কাপড়, অসুখে চিকিৎসা, মাথা গুজার ঠাই, এর জন্য আর কতটুকু প্রয়োজন। আসলে মানুষ বেশির ভাগ কর্মতৎপরতা সন্তানদের ঘিরেই। সকাল থেকে রাত, এমন কি রাতের চিন্তা, সন্তানদের জন্যই। সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলা, তার আরাম আয়েশ, শেষ বিদায়ের সময় তাকে স্বাবলম্বি দেখে যাওয়া। তার জন্য অগাধ সম্পদ রেখে যাওয়া। এইতো পিতা মাতার চিন্তা।
সন্তান অসুস্থ হলে পিতা মাতার চিন্তা, পেরেশানীর শেষ থাকে না। মায়ের চোখের ঘুম হাওয়া হয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে ছুটাছুটি, রুগির সেবা কোনটারই ঘাটতি হতে কোন ভাবেই মা বাবা দিতে চায় না। মা নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে হলেও সন্তানের মঙ্গল চান। সন্তানের ভালোর জন্য নিজের সব আরাম আনন্দ ভুলে যান। নিজের সকল কাজ, চিন্তা, সুখ-দুঃখ সব সন্তানকেই নিয়ে। এছাড়া আর দ্বিতীয়টি তিনি বুঝেন না।
আপনার সন্তান খুব মেধাবী, দেখতে খুব সুন্দর, যেন আকাশের চাঁদ। কর্মচঞ্চলতায় সকলকে হার মানায়। সবাব মুখে মুখে তার নাম। অনেকেই তাঁকে ঈর্ষা করে। কয়েক বছর পর দেখা যায়। সেই ছেলেটি, হাবাগোবা হয়ে গেছে। তার মধ্যে কোন কর্মচঞ্চলতা নেই। চেহারার সেই মিষ্টি ভাব খানিকটা থাকলেও কারো মন আকৃষ্ট করে না। তার অতিতের মেধা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অথবা দেখা যায় সেই সুন্দর, মেধাবী ও আদুরে ছেলেটির হঠাৎ বা আস্তে আস্তে মতিভ্রম দেখা দিচ্ছে। মা বাবার স্বপ্ন সাধ ধুলায় মিশে গেছে। মা বাবার চিন্তার শেষ নেই। এই ডাক্তার ঐ ডাক্তার করতে করতে জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে দিচ্ছেন বা দিয়েছেন। কিন্তু কোন কিনারা পাচ্ছেন না। অথবা কেউ হাবাগোবা ছেলেটাকে নিয়ে আর চিন্তা করাও ছেড়ে দিয়েছেন। ভাবছেন, এটাই হয়েতো নিয়তি।
আবার কখনো দেখা যায়। ছোট ছেলেটি খুব মেধাবী। তাকে নিয়ে সব খানে মা বাবা গর্ব করেন। মা বাবা মেধাবী সন্তান নিয়ে গর্ব করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েক বছর পর ঐ ছেলেটিকে নিয়ে বাবা মাকে প্রশ্ন করলে, দেখা যায় মুখ কালো হয়ে যায়। চোখে পানি টলমল করতে থাকে। কেউ হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। কেন এমন হলো।
বলুনতো, আপনার ছেলের ভাল রেজাল্টে সবাই কি খুশি হয়? আপনার ছেলের মায়াবী, সুন্দর চেহারা দেখে সকলে কি অন্তরে খুশি হয়, আল্লাহকে ধন্যবাদ দেয়? আপনার ছেলের ভাল রেজাল্ট শোনে সকলে কি তার আরো বরকত ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করে? আপনার ছেলের ভাল রেজাল্ট শোনে কি সকলে আলহামদুলিল্লাহ বলে? আপনার ছেলের রেজাল্ট শোনে কি সবার মন ঈর্ষা থেকে মুক্ত থাকে? আপনার ছেলের রেজাল্ট শোনে কি কারো মনে আফসোস জাগে না, এমন কি কেউ আছে? আপনার ছেলের রেজাল্ট শোনে কি অন্য সবায় মর্ম পীড়া থেকে বেঁচে আছে ? এই সব গুলো প্রশ্নের উত্তর যদি “না” হয়, বলুন, আপনার সন্তান কি নিরাপদ ?
এই নিরাপত্তাহীনতা, তার ঝুঁকি ও ক্ষতি নিয়েই আজ আমরা একটু চিন্তা করব। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা আয়েম্মা কেরাম রাহঃ গনের চিন্তা জানব এবং মানার চেষ্টা করব। আমার আপনার সন্তানদের এই ঝুঁকি ও ক্ষতি থেকে বাঁচাতে মহান আল্লাহর আশ্রয় চাইব।
এই নিরাপত্তাহীনতা, ঝুঁকি ও ক্ষতির নাম বদনজর বা কুদৃষ্টি বা চোখ লাগা। সহজ কথায় যখন কোন ব্যক্তি চোখের মাধ্যমে কারো উপর হিংসার বিষ বর্ষণ করে ক্ষতি কামনা করে বা তার প্রাপ্ত বস্তুটি ছিনিয়ে নেওয়া কামনা করে তাকে বদনজর বলে।
হাফিজ ইবনুল হাজার আসকালানী (রাহঃ) বলেন, বদনজর মানে হলো, কারো প্রতি হিংসা মিশ্রিত বিস্ময় নিয়ে কোন মন্দ লোকের তাকিয়ে থাকা এবং এর ফলে তার ক্ষতি হওয়া। তবে ইবনে হাজার (রহ.) এর এই সংজ্ঞার সাথে অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম একমত নন, অধিকাংশের মত হচ্ছে ভালো-খারাপ সব লোকের নজরই লাগতে পারে। নফসে আম্মারা তো সবার ভেতরেই আছে তাইনা?
হাফেজ ইবনুল কাইয়ুম (রাহঃ) বলেন, বদনজরের উৎপত্তি হয় কাউকে পছন্দ করার মাধ্যমে। অতঃপর মন্দ আত্মা তাকে অনুসরণ করে, তার পশ্চাদাবন করে এবং ক্ষতি করার চেষ্টা করে, অবশেষে বস্তুর দিকে তাকিয়ে এরা এদের (চোখের, হিংসার) বিষ প্রয়োগ করে।
ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন কিছু লোক অজ্ঞতার কারণে বদনজরের অস্তিত্ব অস্বীকার করে থাকে। যুগে যুগে জ্ঞানী ব্যক্তিদের মাঝে যদিওবা নজর লাগার কারণ, পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে মতপার্থক্য আছে। তবে কেউ একে অস্বীকার করেনি। আল্লাহ মানুষের শরীরে এবং আত্মায় বিভিন্ন প্রকার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। বদনজরের ব্যাপারটা মূলত আত্মিক। কোনো কিছুর প্রতি মুগ্ধতা অথবা হিংসা থেকে অন্তরের এটা সৃষ্টি হয়ে চোখের মাধ্যমে প্রভাব ফেলে। এখানে চোখের শক্তি নেই। এজন্য অন্ধ ব্যাক্তির বদনজরও লাগতে পারে। বদনজর কখনো যোগাযোগের মাধ্যমে, কখনো সরাসরি দৃষ্টিপাতে, কখনো বদদোয়া বা তাবিজের মাধ্যমে, আবার কখনো ধ্যানের মাধ্যমেও হয়ে থাকে। কখনো মানুষের নিজের নজর নিজেকেই লাগে। নজর ইচ্ছাকৃত, অনিচ্ছাকৃত যেকোনোভাবে লাগতে পারে।
বদনজর একটি ভয়াবহ রোগ। তা মানুষের উপর, ফসলের উপর, ভাল কোন জিনিসের উপর লাগতে পারে। চাক্ষুস একটি ঘটনা। আমি তখন নবম বা দশম শ্রেণীতে পড়ি। আমাদের গ্রামের বাড়ির পাক ঘরের সামনের এক পাশে একটি নারিকেল গাছ। প্রচুর ডাব ধরেছে। আমাদের জানাশোনা এক লোক দুপুরের দিকে গাছের পাশ দিয়ে গিয়েছেন, গাছের দিকে তাকিয়েছেন। এর একটু পর থেকে ডাব ফেটে গাছ থেকে ঝরা শুরু হয়েছে। কতক্ষণের মধ্যে বেশির ভাগ ডাব ঝরে পরে গেল চোখের সামনে।
আমরা বদনজরকে যেভাবেই দেখিনা কেন, আসুন কুনজরের ভয়াবহতা সম্পর্কে খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস থেকে জেনে নেই:
১. হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বদনজর মানুষকে কবরে পৌছিয়ে দেয় আর উটকে ডেকচিতে প্রবেশ করায়। আবু নুয়াইম হুলইয়াতুল আউলিয়া।
২. হযরত আবু যার রাঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বদনজর আল্লাহর হুকুমেই মানুষকে আকৃষ্ট করে। এমন সুউচ্চ পর্বত পর্যন্ত উঠিয়ে আবার ফেলে দেয়। মুসনাদে আহমাদ।
৩. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বদনজর এমন সত্য যে, তা সুউচ্চ বস্তুকে পতিত করে দেয়। মুসনাদে আহমাদ।
৪. আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, জাফরের ছেলেরা বদনজরে আক্রান্ত। আমি কি তাদের জন্য রুকিয়া করব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। যদি কোন জিনিস তাকদীরকে অতিক্রম করার মত থাকত তবে তা হত বদনজর। তিরমিজি।
৫. আবু উমামা সাহল ইবনে হানিফ বলেন, এক বার আবু সাহল বিন হানিফ খারারে (মদিনার একটি কুপ) গোসল করছিলেন, গোসলের সময় তিনি সাধারণভাবে তার কাপড় খুলে ফেলেন তখন আমীর বিন রবিয়াহ তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সাহল (রাঃ) এর গায়ের রং ছিল সাদা, দেখতে খুবই সুদর্শন ছিলেন। আমীর (রাঃ) বলেন, আমি এতো সুন্দর আর কখনো দেখিনি। এমনকি কোন কুমারি নারীর চামড়াও এত সুন্দর দেখিনি। এর পর পরই সাহল (রাঃ) মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং মারাত্মক অসুস্থ হয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ বিষয় জানানো হল। আরো বলা হলো যে সাহল (রাঃ) মাথা উচু করতে পারছেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা কি এর জন্য কাউকে দায়ী করছ? তারা বললেন, আমীর বিন রবিয়াহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ডাকলেন এবং কঠোর ভাষায় ভৎসনা করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, কেন তোমরা তোমাদের এক ভাইকে হত্যা করছ? তোমরা কেন তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করছ না? তার জন্য তুমি তোমার শরীর ধৌত করবে। অতঃপর আমীর (রাঃ) তার মুখমন্ডল, উভয় হাত, কনুই থেকে কব্জি, হাটু, পায়ের পাতার পাশ এবং ইজারের ভিতরের অংশ একটি পাত্রের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং এই পানি দিয়ে সাহল (রাঃ) এর শরীরের পেছন দিক থেকে ঢেলে দেওয়া হল। সাহল (রাঃ) এতে সুস্থ হয়ে উঠলেন। মুয়াত্তা ইমাম মালিক।
৬. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কু নজর সত্য এবং তাকদীরের লিখনকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ার মত কোন কিছু যদি থাকত তা হতো কুনজর। কেউ যদি তোমার কাছে বদনজরের প্রভাব দূর করার জন্য আসে, তুমি তা করে দাও। সহিহ মুসলিম।
৭. হুমাইদ ইবনে কাইস মাক্কি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাফর ইবনে আবি তালিবের দুটি ছেলেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হলে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মহিলা খাদেমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই ছেলেরা এতো জীর্ণশীর্ণ কেন। খাদেমা জবাব দিলেন হে আল্লাহর রাসুল তাদের উপর খুব তাড়াতাড়ি বদনজর লেগে যায়। আমরা তাদেরকে কোন ঝাঁড়ফুক করাইনি। হয়তোবা আপনি উহা পছন্দ করেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন এদের জন্য ঝাঁড়ফুকের ব্যবস্থা কর। কেননা কোন বস্তু যদি তাকদীরের অগ্রে কোন কর্ম সম্পাদন করতে পারত। তবে ইহা হত বদনজর। মুয়াত্তা ইমাম মালিক।
৮. ওরওয়া ইবনে জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে সালমা (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন ঘরে একটি বাচ্চা কান্না করছিল। লোকেরা আরজ করল বাচ্চাটির উপর বদনজর লেগেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বদনজরের জন্য ঝাঁড়ফুক করাচ্ছো না কেন? মুয়াত্তা ইমাম মালিক।
উপরের সবগুলো হাদিস পড়ে আমরা কী বুঝতে পারলাম? বদনজর আমাদের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য, আমাদের ধন দৌলতের জন্য, আমাদের সহায় সম্পদের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। বনদজর এমন এক আক্রমণ যে আক্রমণে আমার অজান্তে আমার সামনেই আমার মেধাবী সন্তানটির এবং আমার স্বপ্ন, সাধ একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমার সুন্দর, সুদর্শন সন্তানটি আমার সম্পদ না হয়ে আমার, এবং আমার পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে। আমার সামনেই আমার সন্তানটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কাতরাতে কাতরাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছে। আমি বুঝতেও পারছি না। কেন, এমন হচ্ছে বা হলো। আমাদের দৃষ্টির তিক্ষèতা, চিন্তার গভীরতা অনেক কম। আমরা কোন কিছু হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাব। পাশাপাশি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস অনুযায়ী একটু চিন্তার অবকাশ পাব।
আপনার ছেলে খুব মেধাবী। গর্ব করতেই পারেন। সাথে তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। তার কল্যাণের জন্য দোয়া করুন। মানুষের সমাগমে তাকে নিয়ে গর্ব না করে একটু কৌশলে এড়িয়ে চলুন। আপনি জানেন না। তার উপর কে হিংসার চোখের বিষ ঢেলে দেবে। আপনার মেয়ে খুব মেধাবী, সুদর্শনা। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। আল্লাহর নিকট তার জন্য কল্যাণের দোয়া করুন। সকল অনিষ্ট থেকে তাকে হেফাজতের জন্য আল্লাহর আশ্রয় কামনা করুন। সুরাতুল ফালাক, সুরাতুন নাস পড়ে তার জন্য মাওলার আশ্রয় চান।
আপনি অন্য কারো সন্তানদের ভাল জেনেছেন। তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। তার জন্য কল্যাণ কামনা করুন। আপনার হিংসার বিষাক্ত চোখ যেন তাকে আক্রমণ না করে এই জন্য মাওলার আশ্রয় চান। আমাদের সকলের যদি এই চিন্তা জাগরুক হয়। আমার এবং অন্যের সন্তানদের ভাল দেখে মাওলার শুকরিয়া আদায় করব। কল্যাণ কামনা করব। তাহলে আমি এবং সে দু জনেই বেঁচে যাব। নতুবা কার বিষাক্ত চক্ষুর তীরে কে ধ্বংস হয়ে যাব কেউ জানতেও পারব না।
আমাদের সময়ে আলহামদু লিল্লাহ, ইলম ওয়ালা অনেক লোক আছেন। দিন দিন তা বেড়েই চলছে। কিন্তু আমলওয়ালা লোকের অভাবও সাথে সাথে বেড়েই চলছে। আমাদের ইলম বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুনিয়া কামাই করার জন্য নিয়োজিত। মহান রবকে রাজি আর খুশি করার প্রেরণা অন্তরে খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। ফলে, আমাদের ক্ষতির মধ্যেও আনন্দ খোঁজে বেড়াই। বিষাক্ত সাপ নিয়ে খেলা করতে চাই। বিষ আর মধু মিলে একাকার। আমাদের অজান্তেই বিষ গলধকরন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। কেউ বুঝতেও পারছি না। এখন আল্লাহকে পাওয়ার জন্য কারো কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়না। আমল নিয়ে কেউ কাউকে প্রশ্ন করে না। যত প্রশ্ন, যত মেহনত, যত ইলম শুধু দুনিয়া কামাই করার জন্যই নিয়োজিত।
আসুন আমরা একটু চিন্তা করি। আমাদের ক্ষতিকর সবকিছু থেকে নিজের এবং সন্তানদের এমনকি অন্য মানুষকেও বাঁচানোর চেষ্টা করি। মহান রব আমাদের তৌফিক দিন। আমীন।