আমাদের দেশে বিয়ে শাদি : সেকালে ও একালে

রফিকুর রহমান লজু
বিয়ের প্রথা মানব সভ্যতাকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। বিয়ে সভ্যতারই একটা অঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়। ইসলাম ধর্ম শান্তি-মানবতার ধর্ম। যা কিছু মহৎ কল্যাণকর ইসলাম তা অনুমোদন করে। আল্লাহ’র নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘আননিকাহু নিসফুম মিনাল ঈমান; নিকাহ বা বিয়ে হচ্ছে ঈমানের অর্ধেক। ইসলামে মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীকে তা মেনে চলার তাগিদ রয়েছে।
‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ হচ্ছে আল্লাহ’র প্রতি, আল্লাহর রাসূলের প্রতি নিঃশর্ত বিশ্বাস বা ঈমান। ঈমানের সঙ্গে যুক্ত আছে আরও চারটি স্তম্ভ যা অবশ্য পালনীয়। ঈমানের সঙ্গে সে গুলো হলো নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত। এগুলোর সঙ্গে সমপর্যায়ের না হলেও নিকা বা বিবাহ করার তাগিদ রয়েছে। এই তাগিদ জীবনকে সুন্দর ও পবিত্র রাখার জন্য। কেননা ইসলামের দৃষ্টিতে যিনা অত্যন্ত গর্হিত পাপ এবং বিচারে বা আইনে তা প্রমাণিত হলে যিনাকারী নারী অথবা যিনাকারী পুরুষের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়ার বিধান রয়েছে। যে পুরুষ বিয়ে করবে সে আর্থিক দিক দিয়ে স্বচ্ছল ও শারীরিকভাবে সবল হতে হবে। এই বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখেই বিয়ের প্রচলন হয়েছে। আল্লাহর রাসূল যে বিয়ের অনুষ্ঠান করেছিলেন তা ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও শাদাসিধেভাবে। যথারীতি ধর্মীয় নিয়ম মেনে ও আকদ করে তা করা হতো। আগেকার দিনে এই ধারায় বিয়ে হতো, বিয়ের অনুষ্ঠান হতো। সেখানে জাঁকজমকের কোনো স্থান ছিলো না।
একালে বিয়ের নিয়ম কানুন আচার-আচরণে অনুষ্ঠানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ইসলামী নিয়ম রীতিতে যেমন পরিবর্তন এসেছে তেমনি জাঁকজমক, বাহুল্যপনা ও আচার-অনুষ্ঠানে ছেয়ে গেছে। নানাবিধ আমোদ-প্রমোদ বিয়ের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় বড় হল বা সেন্টার ভাড়া নিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে বেশুমার লোককে আপ্যায়ন করা হয়। দেন-মোহরের কোনো সীমা নেই। দশ পনের বিশ লাখ পর্যন্ত দর উঠে। গান বাজনা ও আমোদের ব্যবস্থা করা হয়। এতে গরিব কন্যাদায়গ্রস্থ পিতার কলিজায় কাঁপন ধরে। ধনী পিতার দানের বহর দেখে দরিদ্র পিতার চোখে জল আসে। আরো আছে বড় অংকের নগদ টাকার যৌতুকের বাড়াবাড়ি। তাছাড়া বিয়ের আগে-পরের আনুষ্ঠানিকতায় যা খরচ হয় তা দিয়ে একটি গরিব পরিবারের বিয়ে হয়ে যেতে পারে। আরো আছে বর-কনের বাড়িতে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ, সাজসজ্জা ও লাইটিংস। এমন কি বর হাতির পিঠে চড়ে কিংবা হেলিকপ্টারে বসে বিয়ের মজলিশে যাওয়ার নজিরও আছে।
আসলে বিয়ে মানবসমাজে একটি প্রাচীনতম পবিত্র আনুষ্ঠানিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) বলেছেন, বিয়ে আমার সুন্নাহ এবং তা ঈমানের অর্ধেক। তাই বিয়ে একজন মুমিন ও একজন মুমিনার জীবনের সামগ্রিক পরিপক্কতার ও পরিশুদ্ধতার পথে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সিঁড়ি বা ধাপ। বিয়েকে সেভাবেই দেখা ও মূল্যায়ন করা উচিত।