ইসলামি শিক্ষার স্বরূপ ও প্রয়োজনীয়তা

শামসীর হারুনুর রশীদ
বিশ্ব ইতিহাসে একমাত্র ধর্ম ইসলাম, যার যাত্রা শুরু হয়েছে ‘পড়ো’ এর মধ্য দিয়ে। অধ্যয়ন ও শিক্ষা দীক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা ছাড়া এই ধর্ম ও ধর্মানুসারীদের উন্নতির আশা করা অবান্তরই বটে। ইসলামি শিক্ষা মানুষের জ্ঞান, আত্মা, বৈষয়িক ও নৈতিক বিষয়াদিসহ সর্বদিকে বিস্তৃত। ইসলাম মানুষকে দেহ, মস্তিষ্ক ও আত্মার সমন্বিত এক পূর্ণ অবয়ব মনে করে বিধায় এ শিক্ষা মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ। ইসলামের নবি মুহাম্মদ (সা.) বলেছেনÑ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ তিনি আরো বলেছেনÑ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানার্জন কর।’ এ থেকে বুঝা যায় শিক্ষা মানুষের প্রাণশক্তি, জাতির মেরুদণ্ড, উত্থান-পতনের মানদণ্ড। জাতির উন্নতি-অবনতি শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহর রাসুল (সা.) শিক্ষাকেই করেছিলেন সেবা ও সভ্যতামুখী। যার দরুণ সে শিক্ষা মানুষকে দান করেছিল জ্ঞানের আলো। দূর করেছিল মধ্যযুগীয় বর্বরতা-কুসংস্কার, হানাহানি-খুনাখুনিসহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা। মানুষে মানুষে তৈরি করেছিল নজিরবিহীন সম্প্রীতি। বিশ্বে সমৃদ্ধ করেছিল সর্বাধুনিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতা। আল্লাহর রাসুল (সা.) শিক্ষাকে জীবনের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন যে, ‘সে যুগের ইহুদি-খ্রিস্টানরা রাসুলের সাহাবিদের সঙ্গে রাস্তা-ঘাটে মস্কারি করে বলত কী ব্যাপার তোমাদের নবি বুঝি তোমাদেরকে খুবই শিক্ষিত করে তুলছেন? এমন কি সৌচাগারের শিষ্টাচার পর্যন্ত-বুঝি শিক্ষা দিয়ে থাকেন? রাসুলের সাহাবিরা গর্ব করে বলতেন হ্যা!’ এ থেকেই সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় যে, সে যুগের মুসলমানরা ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক শিক্ষিত জাতি। সে কারণে খুব অল্প দিনে সে যুগের মুসলমানরা উন্নতির চরম শিখরে আরোহন করে চলে আসেন বিশ্ব নেতৃত্বে। হয়ে যান বিশ্বশান্তি-সম্প্রীতির মডেল। ইসলামি শিক্ষার বয়স প্রায়-দেড়হাজার বছর বলা হলেও উৎস বিবেচনায় তারও পূর্বে ইসলামি শিক্ষার বিস্তার ছিল। কারণ প্রত্যেক নবির শিক্ষার উৎস ছিল আল্লাহ প্রদত্ত ওহি। নবিগণ পৃথিবীবাসীকে দিয়েছেন ওহিভিত্তিক জ্ঞান। ওহিভিত্তিক জ্ঞানই সৃষ্টির সকল পূর্ণতা-শোভনের প্রাণ। সে হিসেবে প্রত্যেক নবি-ই ছিলেন ইসলামি শিক্ষার ধারক ও বাহক। বিশ^নবি মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সে ধারার সর্বশেষ ও সর্বোত্তম প্রেরিত পুরুষ। তার মাধ্যমে ঐশি শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। রাসুল (সা.) তার কার্যকর ও বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি ও পদ্ধতির মাধ্যমে আরবের মুর্খ ও বর্বর একটি জাতিকে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করান।
আল্লাহর রাসুল (সা.) তার ‘সাহাবিদের শতভাগ শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে মুসলমানদের রক্ত পিচাশ বদরযুদ্ধে বন্দী কাফেরদেরকে হত্যার পরিবর্তে শিক্ষকের মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের মুক্তিপণ হিসেবে দশজন করে সাহাবিকে ভাষা শিক্ষা দেয়া নির্ধারণ করেছিলেন।’ ফলে রাসুলের দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর অর্ধশতাব্দি পর্যন্ত মুসলমানরা বিশ্বের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা বেশিদিন টিকেনি। যুগের পালা বদলে রাসুলের শেখানু বিশ্ব নেতৃত্ব দেয়ার কৌশলটি অমুসলিমরা কেড়ে নেয়। কৌশলে তারা লাগিয়ে দেয় মুসলমানদের পরস্পরে দ্বন্দ্ব। শুরু হয় বিভক্তি আর দলাদলি। মুসলমানদেরকে এখতেলাফে ব্যস্ত রেখে ইসলাম প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন এনে ফেলে। ফলে মুসলমানরা ইসলাম প্রবর্তিত পার্থিব ও পরকালিন উন্নয়নমুখী সেবা এবং সভ্যতামুখী শিক্ষাকে চলমান কর্মমুখী শিক্ষার সাথে সমন্বয় সাধন করবেন না ঘর সামলাবেন? এ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে চলে যায় দীর্ঘ দিন। মুসলমানরা যাতে ইসলাম প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থায় জাগতিক বিষয়াবলি সংযোজন-বিয়োজন করে ঘুরে দাড়াতে না পারে, পূণরায় বিশ্ব নেতৃত্বে না আসে এবং শতধা বিভক্ত করে কীভাবে রাখা যায় সে প্রচেষ্টা চতুর ইহুদি-খ্রিস্টানরা করতে থাকে। এ প্রচেষ্টা রাসুল (সা.) ’র যুগে কট্টর মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাই ও পরবর্তী যুগে আব্দুল্লাহ বিন সাবা করতে থাকে। এই বর্ণচুরাদের পথ ধরে প্রসিদ্ধ খ্রিস্টান পণ্ডিত ইউহান্না (৬৭৬-৭৪৯খ্রি.) গবেষণার নামে ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনার চেষ্টা করে। সেই চক্রের আদর্শিক উত্তরসুরী সাম্প্রতিকালের ইহুদি-খ্রিস্টানরা পূর্বসূরীদের ন্যায় অহেতুক ইস্যু সৃষ্টি করে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে। অত:পর দুটি জাতিতে, দলে দলে, দেশে-দেশে সংঘাত লাগিয়ে মোড়লিয়ানা করতে তারা বড় উস্তাদ। এই হিংসুটেরা অতি কৌশলে গোটা বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজিয়েছে যে, এ ব্যবস্থার অধীনে লেখা-পড়া করার পর মুসলমানের ছেলেরা মন-মানসিকতার দিক থেকে মুসলমান থাকতে চায়না! তাদের সেবা দাসে পরিণত হতে আগ্রহী দেখা যায়। এ শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের প্রতি শুধু নিরুৎসাহিত করে শেষ নয় বরং কৌশলে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে ভারত উপমহাদেশে নিযুক্ত সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্মকর্তা লর্ড ম্যাকলে বলেছিলÑ‘‘আমরা ভারতীয়দের জন্য এমন শিক্ষা ক্যারিকুলাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি, যাতে লেখা-পড়া করে একজন ছাত্র রঙ্গে-রূপে ভারতীয় থাকলেও মগজ ও মননে হয়ে যাবে পূর্ণ বিলেতি।’’ পারবেনা কেন? যারা মুসলিম স্পেনে আগ্রাসন চালিয়ে এবং তুরস্কের ইসলামি খেলাফত ব্যবস্থা ভেঙ্গে লক্ষ লক্ষ গবেষণা ধর্মী বই-পুস্তক চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, তারাই এখন বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেরা পাঠাগার, গবেষণাগার তৈরি করে আছে। উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য মুসলমানরা তাদের দরবারে ধরণা দিতে হচ্ছে। এতে উর্বর মুসলিম মগজগুলো ধোলাই করা ও বন্ধক নেয়া সহজ হচ্ছে তাদের জন্য। ফলে এসব মেধা মুসলমানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব মেধার সুফল হতে বঞ্চিত হচ্ছে মুসলিম জাতি যুগযুগ ধরে…..।
আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই এবং ইসলামি ইতিহাসের প্রসিদ্ধ জামেয়াসমূহের অনুসন্ধান করি তাহলে আমরা প্রসিদ্ধ চারটি জামেয়া দেখতে পাই। সর্বপ্রথমটি হলোÑতিউনিসিয়ার জামেয়া জাইতুনাহ (৭৩৭ খ্রি.) দ্বিতীয়টি হলোÑমরক্কো’র জামেয়াতুল কাজবিন (৮৫৯খ্রি.)। তৃতীয়টি হলোÑমিসরের জামেয়াতুল আজহার। চতুর্থটি হলোÑভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ। ‘জামেয়াতুল কাজবিন ’এটি তৃতীয় শতাব্দির ইউনিভার্সিটি। এ জামেয়ায় ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আরবি ভাষা, তাফসির, হাদিস, ফেকাহ’র সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞান, শারিরিক বিজ্ঞান, জোতির্বিদ্যা, দর্শন, ইতিহাস ইত্যাদি পড়ানো হয়। যেসব বিষয়কে আজকাল আধুনিক বিষয় বলা হয়।
আল্লামা ইবনে খালদুন, আল্লামা ইবনে রুশদ, কাজি ইয়াজ (রহ.) সহ পূর্বসুরীদের এক দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, যারা সেখানে পাঠদান করেছেন। তাদের আসন আজ পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে। শুধু তাও নয়; ‘ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা’সহ কত নামে বেনামে শিক্ষাকে ভাগ করা হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চলতে থাকায় ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করছি প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষাই একমাত্র ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামিক নয়! কখনো কখনো বিজ্ঞজনদেরকেও দেখা যায় কথায় কিংবা লেখায় হরহামেশা ব্যবহার করেন ‘ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষা’। এটি কত বড় মারাত্মক ভুল তা আমাদের অবহেলার কারণে অনুধাবন পর্যন্ত করতে পারছি না। মাদরাসা শিক্ষাকে একমাত্র ইসলামি শিক্ষা এবং অন্যান্য সাধারণ শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করে দুটি জঘন্য ভুল আমরা করে আসছিÑ১. ইসলামি শিক্ষার প্রকৃতি ও পরিধিকে ছোট করে ফেলি যা মানবতার জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। ২. ইসলামি শিক্ষাকে সেকেলে-সনাতনি বলে ধরে নেয়া হয়। এ দুটির কোনোটিই সত্য নয়। কারণ হলোÑ‘ইসলাম শুধু প্রচলিত অর্থের একটি ধর্ম নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।’
যদি তাই হয় তাহলে জীবন চলার পথে সব বিষয়ের সমন্বিত রূপ হবে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা। সেখানে ধর্মীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য জাগতিক বিষয়ের সমন্বয় ঘটবেÑ‘তিনটি মূলনীতিকে সামনে রেখে। যেমন: ক. তাওহিদ ও রেসালত। তাওহিদ বলতে আল্লাাহর একত্ববাদের সাথে সাংঘর্ষিক এবং রাসুল (সা.) এর রেসালত-নবুওয়াতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো কিছুই শিক্ষা দেয়া হবে না। খ. কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো কিছুই শেখানো হবে না। গ. কল্যাণকর সর্ববিষয় শিক্ষা। সে শিক্ষা হবে মানবতা তথা সব সৃষ্টিকুলের কল্যাণার্থে। এ তিনটি বিষয় ঠিক রেখে যেকোনো শিক্ষাব্যবস্থায়ই ইসলামি শিক্ষা হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ, রাসূল (সা.)-এর হাদিসে বলা হয়েছে, “…. ঐ জ্ঞান যা মানুষের উপকারে আসে (মৃত্যুর পরেও তার বিনিময় ঐ ব্যক্তি পাবেন)”। এখানে জ্ঞানকে মানব কল্যাণের জন্য বিবেচিত করা হয়েছে। অথচ মাদরাসায় যে শিক্ষা দেয়া হয় তাতে কোনো চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সমাজতত্ত্ববিদ, বিজ্ঞানী পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? তাহলে ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় এগুলোর কি প্রয়োজন হবে না? এগুলো আমাদের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাহলে? আমাদের দেশে কওমি এবং আলিয়া মাদরাসায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে মাত্র চারটি বিষয়ের দক্ষতার সার্টিফিকেট দেয়া হয়। তা হলো: হাদিস, তাফসির, ইফতা ও আরবি সাহিত্য। সুতরাং “ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষা কিংবা সাধারণ শিক্ষা” পরিভাষা ব্যবহার করলে প্রকারান্তে ইসলামকে হেয় করা হয়। এতে বোঝা যায় ইসলামি শিক্ষা আধুনিক বা যুগপোযুগি নয়। এটি পুরনো; সেকেলে। হাল জামানার মানুষ তখন ইসলামি শিক্ষা থেকে সরাসরি মুখ ফিরিয়ে নেবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ, ইসলামি শিক্ষার মূল উৎস দুটিÑকুরআন ও হাদিস এবং এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হলো তা কিয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের জন্য কার্যকর হবে। এখন এগুলোকে সময়োপযোগী হিসেবে বোঝা, উপস্থাপন করা কিংবা ব্যবহার উপযোগী করা কাদের দায়িত্ব? নিশ্চয় আমাদের। এ লক্ষ্যেই হয়ত মহান আল্লাহ মানব সৃষ্টির শুরুতে বলেছিলেন, ‘আমি পৃথিবীতে খলিফা প্রেরণ করতে চাই।’ এসব কারণে ইসলামি শিক্ষাবিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা একজন মু’মিন, মুসলিমের জন্য অতীব জরুরি।’ ইসলামি শিক্ষাবিজ্ঞানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যম্ভাবীভাবে থাকবেÑ১. একজন নিষ্ঠাবান মুসলিম হিসেবে জীবন যাপনের জন্য যতটুকু মৌলিক ইসলামি জ্ঞানের দরকার, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে সে জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা করা।২. শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক ইসলামি জ্ঞানের সাথে সাথে যারা জাগতিক কোনো বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ এবং মৌলিক বিজ্ঞানে অবদান রাখতে চায় বা রাখার যোগ্যতা অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য যথাযথ সুযোগ রাখা। ৩. শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক ইসলামি জ্ঞানের সাথে সাথে যারা সাহিত্য-সাংবাদিকতা, আইন, ইতিহাস, সাইন্স, প্রযুক্তি, কারিগরিসহ মানবতার কল্যাণে আসে এমন যে কোনো বিষয়ের সময়োপযোগী জ্ঞান লাভে ইচ্ছুক তাদের জন্য এর পথ উন্মুক্ত রাখা। তবে খুব করে বলছিÑআমরা চাচ্ছি না মাদরাসাগুলোকে প্রচলিত স্কুল-কলেজ বানাতে। বরং মাদরাসায় যে বিষয়গুলো পড়ানো হচ্ছে তা খুব জরুরি ও আরো উন্নত করে পড়ানো এবং শিক্ষা দেওয়া দরকার। মাদরাসা শুধু মেধাবি শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ করে দেবে। এজন্য জরুরি হলো ইসলামি পরিবেশে স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা। কারণ মানুষ হলো আল্লাহর খলিফা (প্রতিনিধি)। ইসলামি শিক্ষায় এ মূলনীতি আবশ্যকীয়। মানুষ যখন বুঝতে পারবে তাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে তখন তারা তাদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে, তেমনি তা ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখবে।