এগিয়ে চলেছে শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণ কাজ

‘এখানকার শিক্ষার্থীদের দেশ বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ রয়েছে’

ইউনুছ চৌধুরী::
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলেট- জকিগঞ্জ সড়কের পাশে শ্রীরামপুর এলাকায় নির্মিয়মান শেখ রাসেল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে অবয়ব। দাঁড়িয়ে গেছে ১০টি স্থাপনা। ১০ একর জায়গা জুড়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে সিলেটের প্রথম টেক্সটাইল কলেজের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, আধুনিক বিশে^র অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন একটি বিষয়ে বিশ^মানের শিক্ষার সুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় তরুণরা টেক্রাটাইল সেক্টরে দেশ-বিদেশে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ১০ একর ভূমির উপরে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল টেক্রাটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও টেক্রাটাইল ইনস্টিটিউট। যেখানে ৫ একর জায়গায় থাকবে টেক্রাটাইল কলেজ এবং অপর অংশে থাকবে টেক্রাটাইল ইনস্টিটিউট। প্রকল্পের মধ্যে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রাবাস, ডরমেটরিসহ ১২টি ভবন নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ১০টির কাজ চলছে। ৪টি বিল্ডিং এর কাজ ৮০ ভাগ এবং অন্যগুলো ৪০/৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটির কাজ ২০১৮ সালে শুরুর কথা থাকলেও ভূমি জটিলতায় ১ বছর পরে ২০১৯ সালে শুরু করতে হয়েছে। বর্তমানে কাজের প্রায় ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। তবে. প্রকল্পে নতুন করে উন্মুক্ত মঞ্চসহ বিভিন্ন কাজ যুক্ত করে নতুন একটি প্রস্তাব মন্ত্রাণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বর্তমান নির্মাণ কাজের সাথেই পরবর্তী কাজগুলোও সম্পন্ন হবে।
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বস্ত্রও পাট মন্ত্রণালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি জটিলতার জন্য কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তবে, আগামী ২০২২ এর জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রাণালয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জিই আর্মি। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা কর্মব্যস্ত। একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষক ডরমেটরি, ল্যাব বিল্ডিং, লাইব্রেরিসহ সহ ১০টি স্থাপনার কাজ চলছে পুরোদমে। তাদের কর্মব্যস্ততায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। কী হচ্ছে, কী হবে এমন নানা প্রশ্ন তাদের মধ্যে। স্থানীয় শেখপুর গ্রামের মো. বজলুর রহমান ফয়েজ বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে জেনে তারা আনন্দিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এলাকার পুরো পরিবেশই বদলে যাবে। এলাকার উন্নয়নের সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি। এলাকার শিক্ষার্থীরা যাতে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পায় সেই প্রত্যাশা করেন তিনি। ইনস্টিটিউট স্থাপন করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় পশ্চিমভাগ গ্রামের মকসুদ আহমদ প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে ড. এম ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং টেক্রাটাইল কলেজ ও ইনস্টিটিউট সমূহ স্থাপন প্রকল্পের কারিগরি বিভাগের সভাপতি প্রকৌশলী মো. আব্দুর রকিব বলেন, সাধারণ লোকজনের ধারনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ কাপড় বানানো শেখানো হয়। কিন্তু এই বিষয়ের সাথে কাপড় বানানোর তেমন সম্পর্ক নেই। দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাক থেকে বুলেটপ্রুফ পোশাক সবকিছুই টেক্রাটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ানো হয়। তাপরোধী-পানিরোধী কাপড় তৈরি ও ব্যবহার, পরিবেশের উপর প্রভাব, নতুন ডিজাইন ও আরামদায়ক পোশাকের ব্যাপারে পড়ানো হয় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে টেক্রাটাইল প্রধান সেক্টর। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক আয়ের ৭৯ ভাগ আসে বস্ত্রশিল্প থেকে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সেক্টর বস্ত্রখাত। তাই এ বিভাগে লেখাপড়া করে শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার ১শ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং বস্ত্রখাতে বাংলাদেশকে পরবর্তী ‘চীন’ বলা হচ্ছে। এই সুযোগ গ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় বস্ত্র প্রকৌশলী সৃষ্টি করতে হবে।